kalerkantho


জিম্বাবুয়ের 'পেইন্টেড উলভস'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৫:০৬



জিম্বাবুয়ের 'পেইন্টেড উলভস'

দেখে অভিভূত হতে হয়। একই অভিভূতি নাম দেখে 'পেইন্টেড উলভস' বা অঙ্কিত নেকড়ে!

কালো লোমের ওপর বড় বড় বাদামি বিন্দু। কিংবা কালো শরীরে পিঠজুড়ে বাদামি; তার ওপর কালো কালো বিন্দু। সূর্যের আলোতে সাদা ঝলকানি। 

হ্যাঁ, এই প্রাণিটির সঙ্গে এবার পরিচয় হবে। দেখলেই যে ভালোবেসে ফেলবেন, এটা নিশ্চিত। কারণ এই  প্রাণিকে এখন দেখা যাবে ডেভিড অ্যাটেনবরো'র নতুন টিভি সিরিজ 'ডাইন্যাস্টি'তে।

কয়েক মাস ধরে বিবিসি এই আফ্রিকান হিংস্র প্রাণির ছবি ধারণ করেছে জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল পার্ক থেকে। ওয়াল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার নিক ডায়ের বলেন, 'ছবিগুলো দেখে দর্শক মুগ্ধ হবে।' 

পার্কের অন্তর্ভুক্ত দেশটির জামবেজি নদীর জল ঘেষে ছুটে চলা দুরন্ত প্রাণিগুলোর ছবিগুলো তুলেছেন লন্ডন ফান্ড'র সাবেক এই ব্যবস্থাপক ও মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ।

দিনের বেলায় প্রাণিগুলোর চোখ থাকে নেশাগ্রস্ত ঘুমে। কিন্তু যখন জেগে ওঠে তারা আনন্দে লাফিয়ে লাফিয়ে নৃত্য করতে থাকে। তারা সবকিছু করে দলগতভাবে। আমরা এটাকে বলি 'গ্রিটিং সেরিমোনি'। সারাক্ষণ খেলতে থাকে বিশেষ করে এদের ছানাগুলো। মনে হয় কোনো অভিবাদন অনুষ্ঠানে রয়েছে তারা। মাঝেমধ্যে টান দেয় একজন আরেকজনের লেজ ধরে। দেখতে সত্যিই মজার!

কিন্তু একটি কথা। পেইন্টেড উলভস বলা হলেও এগুলো আসলে নেকড়ে নয়। আবার কুকুর বলা হলেও সম্ভবত বিষয়টি তাদের কাছেও বিরক্তিকর। যদিও এরা বন্য কুকুর।

বৈজ্ঞানিক নাম লাইক্যাওন পিকাস যার অর্থ দাঁড়ায় পেইন্টেড উলভস'র মতো। নেকড়ে আর কুকুরের মিশেলে যা হয় স্বভাব তার মতোই। প্রচুর দৌড়ায় আর গোলমালও বাঁধায়।

নিক বলেন, 'তাদের অন্য নামও রয়েছে। তবে সবচেয়ে স্নেহসঞ্চারক শব্দ যা তারা নিজেরাই সৃষ্টি করে সেটি হলো 'হু'। তিনি বলেন, 'যদি তারা কেউ দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তাহলে মুখটি নিচু করে 'হু' 'হু' শব্দ করতে থাকে। এই শব্দ দ্বারা অন্যরা বুঝে নেয় সে বিপদে পড়েছে। কিন্তু শব্দটি তখন দুই কিলোমিটার দূরে অন্যদের কানে পৌঁছে যায় এবং তারা এগিয়ে এসে দলে ভিড়িয়ে নেয়। 

এরা ফিসফিসিয়েও ভাবের আদান প্রদান করে। শরীর থেকে বাজে গন্ধ আসে।

নিক আরো বলেন, 'আফ্রিকার দুর্দান্ত শিকারী হিসেবে পেইন্টেড উলফ'র বেশ দুর্নাম আছে। প্রাণিগুলো তাদের শিকারের ৮০ শতাংশই ইতিমধ্যে নিঃশেষ করে ফেলেছে। কিন্তু আমি মনে করি, এদেরকে সিংহ, চিতা কিংবা লেপার্ড'র চেয়ে ভালো।'

বন্য কুকুরগুলোর এমন জঘন্য ক্ষতিকর শিকারী হিসেবে দুর্নাম আছে সত্য। কিন্তু আফ্রিকায় ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীরা এসব প্রাণবন্ত প্রাণিদের ওপর কম অত্যাচার চালায়নি। নির্বিচারে এসব প্রাণি হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

১০০ বছর আগেও আফ্রিকায় প্রায় পাঁচ লক্ষ বন্য কুকুর ছিল। আজ এই সংখ্যা সম্ভব ছয় হাজারের কিছু বেশি। বড় বড় পার্কে এসব প্রাণিদের কিছু সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু যখনই তারা মানুষের কাছাকাছি কিংবা লোকালয়ে আসে তারা হয় ফাঁদে আটকা পড়ে অথবা সড়কে হত্যার শিকার হয়। 

সূত্র : বিবিসি 

 



মন্তব্য