kalerkantho


এই যদি মায়ের রূপ হয় তাহলে ডাইনি কে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ১৫:১২



এই যদি মায়ের রূপ হয় তাহলে ডাইনি কে?

ছবি: এনবিটি

বারবার মেয়ে জন্ম দেওয়াটা অনেক পরিবারেই বিশেষ করে শ্বশুরপক্ষ মেনে নিতে চায় না। দেখা যায় কন্যা জন্ম নেওয়ায় তার মায়ের ওপর নেমে আসে স্বামী-শ্বাশুড়িসহ শ্বশুরপক্ষের নির্যাতন। গর্ভে থাকা অবস্থায় বা জন্মের পর সেই সন্তানকে হত্যার খবরও মাঝেমধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে এবার ভারতের গুজরাটে যে ঘটনা ঘটেছে তা ওইসব ঘটনার নির্মমতাকে ম্লান করে দেবে।

লীলা সন্তান সম্ভবা ছিল। এবারের সন্তানটি ছেলে হবে বলে আশাও করেছিল খুব। কিন্তু দেখা গেল মেয়ে শিশু জন্মেছে! এর আগেও দুটি মেয়ে হয়েছে তার। কিন্তু তৃতীয় সন্তানটিও মেয়ে জন্মালো!

এরপর কোনো মমতাময়ী মায়ের পক্ষে অচিন্তনীয় নির্দয়তার ঘটনাটি ঘটান শিশুটির মা লীলা। এ ঘটনা ভারতের গুজরাতের সুরেন্দ্রনগর জেলার ধ্রাংধারা এলাকার। 

সোমবার নবভারতটাইমস.কম জানায়, জন্মের পর শিশুটিকে ছুঁড়ে ফেলা হয় বাড়ির পাশের একটি পানিশূন্য জলায়। 

এরপর জ‌্যান্ত শিশুটিকে মাটিচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এসময় পাশ দিয়ে চলা লোকজনের পদশব্দ শুনে সরে পড়ে ‘মা’ নামের ‘ডাইনি’ লীলা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, টানা পাঁচ ঘণ্টা অনিরাপদ, নোংরা এবং বেশ ঠাণ্ডার মাঝে পড়ে থেকেও শিশুটি বেঁচে যায়।

স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্তানের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের জন‌্য তার মা লীলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ভোর ছয়টার দিকে শিশুটিকে জ‌্যান্ত মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তার মা। কিন্তু আশপাশে মানুষজনের পদশব্দ শিশুটিকে নিশ্চিত নির্মম মৃত‌্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। এরপর পাঁচ ঘণ্টা রেরিয়ে যায়।  বেলা ১১টার সময়ে নবজাতকের কান্নার শব্দে লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ অ‌্যাম্বুলেন্স ডেকে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।

শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানোর পর তার স্বজনদের সন্ধানে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে আদিবাসী কিছু নারী জানায় গ্রামে গর্ভবতী কয়েকজন নারীর কথা। তাদের ব্যাপারে খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়- লীলার সন্তান ভূমিষ্ঠের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। 

তদন্ত কর্মকর্তা বীরেন্দ্র সিং পারমার জানান, লীলা নামের ওই মাকে তার ঝুপড়ি থেকে আটক করা হয়। তিনি তখন বিছানায় শুয়েছিলেন। এসময় নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে টালবাহানা শুরু করেন তার মা। তবে কঠিন জেরার মুখে তিনি স্বীকার যান যে ভোর চারটার সময়ে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘণ্টা কয়েক পরে তাকে নিয়ে পাশের শুকিয়ে যাওয়া ঝিলের পাশে যান। এরপর সেখানকার একটি গর্তে সন্তানকে ছুঁড়ে ফেলেন। 

সন্তানকে মাটিচাপা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু কেউ দেখে ফেললে বিপদ হবে ভেবে সেই পৈশাচিক পরিকল্পনা অসমাপ্ত রেখেই ঘরে ফিরে আসেন লীলা।



মন্তব্য