kalerkantho


হিমালয়ান ‘ভায়াগ্রা’ নিয়ে চীন-নেপাল মারামারি! দাম সোনার তিনগুণ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ২১:০৪



হিমালয়ান ‘ভায়াগ্রা’ নিয়ে চীন-নেপাল মারামারি! দাম সোনার তিনগুণ!

হিমালয় পর্বতমালার পাহাড়ের কোলে জন্মায় এক বিশেষ ধরনের ছত্রাক। এশিয়া মহাদেশে একে বলা হয় ‘হিমালয়ান ভায়াগ্রা’। কার্যত এটি নাকি একটি মহৌষধি। বৈজ্ঞানিক নাম Ophiocordyceps sinensis. এই মহৌষধির জন্য কার্যত লড়াই করে মরে নেপাল আর চীন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ‘কল্যাণে’ ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে সেই ‘ইয়ারচাগুম্বা’ বা হিমালয়ান ভায়াগ্রা।

বিশ্বের সর্বাধিক মূল্যবান মহৌষধিগুলির মধ্যে এটি একটি। বিভিন্ন জায়গায় এই ইয়ারচাগুম্বা সিদ্ধ করে চা বানানো বা স্যুপ বানিয়ে খাওয়ার রীতি আছে। অনেকেই মনে করেন যে এই ছত্রাক খেলে যৌন অক্ষমতা বা ক্যান্সারের মত সমস্যা সেরে যায়। এই ছত্রাক যৌবন দীর্ঘস্থায়ী করে বলেও বিশ্বাস করা হয়।

সারা পৃথিবীতে এই ছত্রাক পাওয়া যায় শুধু হিমালয়েই। ভারত, চীন আর নেপালে। এখনও পর্যন্ত কৃত্রিম ভাবে এই ছত্রাক তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তিব্বতি ও চীনা ভেষজ চিকিৎসকদের দাবি, এই কিরা জরি খেলে যৌন আনন্দ আরও বেশি উপভোগ করা যায়। তাই এই ছত্রাকের বিপুল চাহিদা। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সোনার থেকে তিন গুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এই ছত্রাক।

নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, নির্দিষ্ট আর্দ্রতা, রোদের উপর নির্ভর করেই জন্ম নেয় এই ছত্রাক। তাপমাত্রা হতে হবে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে কিন্তু মাটিতে বরফ থাকা চলবে না। আর উচ্চতা হতে হবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১১,৫০০ ফুট উপরের উপত্যকায়।

কেউ কেউ মনে করছেন, বাজারে বিক্রি করে চড়া দাম পাওয়ার জন্য স্থানীয় মানুষেরা হিমালয়ের দুর্গম এলাকায় ঢুকে অত্যন্ত বেশি পরিমাণে কিরা জরি সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। বিপত্তি সেই কারণেই। কিন্তু মার্কিন গবেষকেরা মনে করছেন, পরিবেশগত তারতম্যও এই দুষ্প্রাপ্য ছত্রাক নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পেছনে একটা বড় কারণ।

কেন এই ছত্রাক হারিয়ে যাচ্ছে, সেই বিষয়ে নজর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অনেক কৃষকের সঙ্গে কথা বলছেন তাঁরা। একধাক্কায় এই ছত্রাকের উৎপাদন অনেকটা কমে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



মন্তব্য