kalerkantho


যে বাসায় ‘ভালোবাসা’ বাসা বাঁধে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:০৪



যে বাসায় ‘ভালোবাসা’ বাসা বাঁধে

যাঁরা নতুন বাসা খোঁজেন, অনেকেই চান এলাকাটি হবে সবুজ, বাসা হবে খোলামেলা, থাকবে আলো-বাতাস। কিন্তু কেন এই চাওয়া? এর কি কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে ? হ্যাঁ, এর কারণই মনোবিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন বিভিন্ন সমীক্ষার মাধ্যমে। 

আরামদায়ক আসবাবপত্র
অনেক বাসার ফার্নিচারগুলো হয় বেশ ভারি এবং কোণাগুলো শক্ত ধরনের। এমন আসবাবপত্র দেখে অতিথির কাছে নাকি বিরক্তিকর মনে হয় বা তাঁদের তেমন পছন্দ হয় না। তবে এর উলটো হলে অর্থাৎ সোফা , টেবিল, চেয়ার ইত্যাদির কোণা গোল ধরনের বা হালকা বাঁকানো হলে, অতিথিদের অনুভূতি হয় ইতিবাচক, তাঁদের বেশ ভালো লাগে।হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক সমীক্ষা থেকে তথ্যটি জানা গেছে।

সূর্যের আলো মন ভালো করে
ভোরের আলো যখন বিছানায় এসে আছড়ে পড়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, সে অনুভূতি কার না ভালো লাগে? শুধু তাই নয়, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালের স্নায়ুবিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক করা এক গবেষণার ফলাফল থেকে জানা গেছে, যাঁরা ঘরে দিনের আলো বেশি পায়, তাঁদের ঘুম যেমন ভালো হয়, তেমনি সারাদিন তাঁরা আরো বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

অগোছালো বাসা মেজাজ খিটখিটে করে
বাসার জিনিসপত্র এলোমেলো থাকলে ঘুম থেকে উঠে তা দেখে অনেকেরই খারাপ লাগে। তেমনি সারাদিনের কাজের পর বাইরে থেকে এসেও ঘরে ঢুকেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবার বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের করা এক সমীক্ষার ফলাফল থেকে এ কথা জানা যায়।

সবুজ রং এত প্রিয় কেন ?
সতেজ সবুজ রং মানুষের অনুভূতিকে করে ইতিবাচক আর তার সৃজনশীলতাকে দেয় আরো বাড়িয়ে। সবুজ মাঠ, প্রান্তর বা বনে কিংবা জঙ্গলে বেড়াতে গেলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাটির পর মন শান্ত হয়, এ কথা হয়তো অনেকেই জানেন। এ রকম সবুজের মাঝে গেলে মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যেই মানুষের মানসিক চাপ কমে যায়। এমন প্রমাণই পেয়েছেন অ্যামেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এর মনোবিজ্ঞনীরা।

সবুজ রং ঘরে রাখুন
বাড়িতে ঢোকার সময় প্রথম যে দেয়ালটি চোখে পড়ে, তার রং যদি সবুজ হয়, তাহলে বাসায় ঢোকার সময়ই অতিথিরা ভালো বোধ করেন। অতিথিকে স্বাগত জানানোর জন্য করিডোরের রং সবুজ করার পরামর্শটি পাওয়া গেছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক সমীক্ষা থেকে। গবেষণায় আরো জানানো হয়েছে, ভালো অনুভূতি জন্ম দেয়ায় সবুজের পরেই নীল এবং হলুদ রংয়ের স্থান।

প্রকৃতিকে ঘরে আনুন
বসার ঘরে গাছ রাখুন, কিচেনের জানালায় সবজি বা ধনেপাতা, পেঁয়াজকলি, পুদিনাপাতা এসব লাগাতে পারেন। এতে চোখ, মন দুটোই ভালো থাকবে আর কমাবে মানসিক চাপ। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, সবুজ দেখার পর তাঁদের ধৈর্যের উন্নতি হয়।

নীল বেডরুম
যদিও অনেকে বলে থাকেন নীল নাকি বেদনার রং, তবে নেদারল্যন্ডসে করা সমীক্ষায় জানা গেছে, বেডরুমের জন্য ব্যবহার করতে পারেন নীল রংয়ের চাদর, বালিশের কাভার, নীল ছবি.... । কারণ, নীল মনকে শান্ত করে।

লাল বা কালো রং বাড়ি সাজানোর জন্য নয়!
যদিও লালকে ভলোবাসার রং বলা হয়, তবে এই গবেষণাটিতে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের কারো এই দুই রংয়ের কোনো জিনিস দিয়ে বাসা সাজানো পছন্দ নয়।

হলুদ আনন্দের রং
হলুদ রং দেখলেই প্রথমে বেশ আনন্দ হয় তা ঠিক, তবে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, ঘরের ফার্নিচার বা বড় কিছুর জন্য হলুদ রং তাঁদের পছন্দ নয়। তবে দাঁত ব্রাশ, তোয়ালে, কফি কাপ বা ফুলদানির মতো জিনিস হলুদ রং হতে পারে।

আলোয় ভরা
পরিচ্ছন্ন ছিমছাম আর আলো ঝলমলে বাসায় থাকতে যে কোনো মানুষই ভালো বোধ করেন। সুন্দর ঝকঝকে, আরামদায়ক, গোছানো আর সবুজ মনোরম পরিবেশের যে কোনো বাসায় ‘ভালোবাসা’ ধরা দেবেই। হোক সে বাসা ছোট বা বড়।

সূত্র : ডিডাব্লিউ



মন্তব্য