kalerkantho


কালের কণ্ঠ, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস ও চ্যানেল আই

ইতিবাচক নজর চাই তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:৫১



ইতিবাচক নজর চাই তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার চ্যানেল আই মিলনায়তনে কালের কণ্ঠ, ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ আয়োজনে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তরুণদের সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য গড়তে এবং মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের পুরো অংশই পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরছেন নিজস্ব প্রতিবেদক এম সায়েম টিপু ও রফিকুল ইসলাম। ছবি : লুৎফর রহমান

অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম
সভাপতি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস

পরিবর্তনের মধ্যেই জগৎ সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে। তরুণরাও প্রতিনিয়তই দেহে ও মনে নানাভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। গত দেড় দশকে দ্রুতগতিতেই প্রযুক্তির ধারায় পরিবর্তন হয়েছে, যা তরুণসমাজকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রযুক্তির পরিবর্তনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনলেও এর বেশ কিছু খারাপ দিকও আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তরুণরা খারাপ দিকটিই গ্রহণ করছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু আমাদেরই নয়, বিশ্বব্যাপীই। শিশুর জন্মের পর প্রথম হলো পরিবার, এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সহপাঠী, সমাজ ও রাষ্ট্র। একজন কিশোর ভালো বা খারাপ হওয়ার পরিবর্তন-পরিবর্ধন, চিকিৎসা, প্রতিরোধ সব কিছুই এই চার প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। স্কুলে গিয়ে সন্তানরা বৈষম্যের শিকার। স্কুলে ধনীর ছেলের হাতে ভালো মোবাইল থাকে; অন্যদিকে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানের সেই চাহিদা মিটে না, বৈষম্যের শিকার হয়। কেউ কেউ হাজার হাজার টাকা সন্তানের হাতখরচ হিসেবে দেয়; অন্যদিকে তিনবেলা সুষম খাদ্যও জুটে না অনেকের। এতে অন্যদের মধ্যে হীনম্মন্যতা থেকে মানসিক সমস্যার উদ্রেক হয়। শুধু কিশোর নয়; ফেসবুক ইন্টারের ফলে মা-বাবার মধ্যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকের স্বামী কর্মস্থলে চলে যাওয়ার পর ফেসবুক চ্যাট করে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এ জন্য ফেসবুক ও ইউটিউব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মানসিক রোগ ও মাদকাসক্ততা কমাতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আয়োজন ও মিডিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। স্কুলের পাঠ্যসূচিতে মানসিক রোগের বিষয়ে পাঠদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে পড়ানো বাধ্যতামূলক করা জরুরি।

অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস

প্রযুক্তির অনেক সুবিধা আছে। সেসব সুবিধা আমরা অবশ্যই গ্রহণ করব। প্রযুক্তির বিশ্বে যেসব কুফল আছে সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পর্নো সাইটের কারণে সন্তানদের মানসিক অবক্ষয় ঘটছে। তাদের মধ্যে ভোগবাদী সত্তা ঢুকছে। আকাশ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে আর এটা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেই করতে হবে। যেকোনো প্রদ্ধতিতেই হোক করতে হবে। সন্তানদের হাতে প্রযুক্তি দেওয়ার আগে মা-বাবার প্রযুক্তির নিরাপত্তা প্রদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকতে হবে। এরপর নিয়ন্ত্রিতভাবে সন্তানদের হাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। যদি না দেওয়া হয়; সে বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত হবে না, পিছিয়ে পড়বে। পরিবর্তিত বিশ্বে মাদক একটি জটিল সমস্যা ও মানসিক রোগ। এটা মানুষের আবেগ, চিন্তা সব কিছুকেই এলোমেলো করে। এটি একটি ব্রেন ডিজিজ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি রোগ। মাদকাসক্তি মানসিক রোগ হিসেবেই দেখতে হবে। মাদকাসক্তকে আমরা রোগী হিসেবেই দেখব। মাদকের কারণে মানসিক রোগ হয়, খাদ্য, ঘুম, যৌন সমস্যা তৈরি করে। মাদকাসক্ত আর মানসিক রোগী এক। একজন মানুষ যদি মাদক নেওয়ার ফলে মানসিক রোগ হয়; তাহলে দুটোকে দুই ভাগ করে আলাদা করে রাখা যায় না। এসব বিষয় নিয়ে যারা সরাসরি কাজ করে তাদের অভিজ্ঞা নিয়ে নীতি প্রণয়ন করা উচিত। সেখানে উচ্চপর্যায়ে বসে নীতিনির্ধারণ না করলে কল্যাণকর হবে না। কোনো নীতিমালা তৈরি করার ক্ষেত্রেই মূল থেকেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। যে যে বিষয়ে বোদ্ধা তাঁদের কথা শুনতে হবে। তাহলেই সেই নীতি জাতির জন্য কল্যাণকর হবে।

অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক আলম
পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

আমাদের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক ১৮ বছরের নিচে। ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে এক গবেষণায় দেখা য়ায়, শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক রোগী ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। মানে আট কোটি তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক কোটি ৩৬ লাখ শিশু-কিশোর মানসিক রোগী। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের মধ্যে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মানসিক রোগী। 

বিশেষ করে মোবাইল, ফেসবুক, ইন্টারনেট ও মাদকাসক্তি থেকে মানসিক রোগের সৃষ্টি হয়। মানসিক রোগ শুধু সামাজিক সমস্যায় নয়, এটা মস্তিষ্কের কারণেও হয়। মানসিক রোগীর সঙ্গে প্রায় শারীরিক রোগও থাকে। মানসিক সমস্যার আরো একটি বড় জায়গা। আর তা হলো ডিভোর্স বা সেপারেশন ও যৌতুক। বৈশ্বিক এই পরিবর্তনের কারণে খাপ খাওয়াতে না পেরে তরুণরা মানসিক রোগী হয়ে পড়ছে। দেশের মানসিক চিকিৎসাব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। দেশের ৮০ শতাংশ মানসিক রোগী কুসংস্কারের ফলে চিকিৎসা নেয় না। ৩০টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আট কোটি মানুষের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশে শতাধিক মেডিক্যাল কলেজে আছে। ৩০টিতে বহির্বিভাগ আছে। এটা অন্তত ১০০ তে নিয়ে যাওয়া উচিত।

অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

শিশু থেকে কিশোর; কিশোর থেকে তরুণে পরিবর্তন হচ্ছে। এ সময় মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। একটি অ্যাডোলেসেন্ট সংকট তৈরি হয়। সময়টা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য মানসিক শুশ্রূষার প্রয়োজন। সেই সময় তাদের অবহেলা বা সমালোচনা করা হলে কিন্তু আমরা লাভবান হব না। যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে। আর পরিবার বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষককে এই দায়িত্ব নিতে হবে। বিশ্ব পরিবর্তনের ফলে আমাদের কিশোর-কিশোরীরা একাকী হয়ে পড়ছে। খেলার মাঠ বন্ধু-বান্ধব নেই। আছে ভার্চুয়াল বন্ধু। তাদের সঙ্গে আড্ডা মারছে। এর ফলে মনোকষ্ট বাড়ছে। ভার্চুয়াল গেমের নামে ব্লু হোয়েলসহ ভয়ংকর সব গেম খেলছে। এর ফলে ঘুমের সময় পরিবর্তন হচ্ছে। যখন তাদের ঘুমাতে যাওয়ার কথা সেই সময় তারা জেগে থাকছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতাও বাড়ছে। সিঙ্গেল প্যারেন্টও দিন দিন বেড়ে যাছে। এক জরিপে দেখা যায়, মেয়েরাই বেশি ডিভোর্স দিচ্ছে। তাদের বক্তব্যে আমি তার চেয়ে এক হাজার টাকা বেশি বেতন পাই। আমি কেন তার খবরদারি এবং নজরদারিতে থাকব। এর ফলে বাচ্চাদের মানসিক চাপ বাড়ছে।

ডা. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান
সাবেক অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য দুটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ব এখন পরিবর্তনশীল। এখনকার ও আগের সময়ের তরুণদের মধ্যে বড় পার্থক্যের বিষয়টি হলো পরিস্থিতি। তখন ছিল এক রকম, আর এখন অন্য রকম। এ পরিস্থিতিতে মা-বাবাকে বুঝতে সন্তানের কী অবস্থা। মানসিক রোগের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। কারো সন্তান কোনো ক্ষেত্রে খারাপ করলেই গালমন্দ কিংবা মারধর করা হয়, কটু কথা বলা হয়। মা-বাবা না বুঝলে তরুণদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হবে। অনেক সময় মনের ভেতর পুষে রাখা কথা বলতে না পেরেও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়, নতুন নতুন সমস্যা দেখা দেয়। মাদকে আকৃষ্ট হয়। এমন একটি ঘটনা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়া এক শিক্ষার্থীর। হঠাৎ করেই সে ফল খারাপ করল। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেল সন্তানটি মাদকাসক্ত। মা তখন কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে সংসার ফেলে রেখে সন্তানকে দেখভাল করছেন। ঢাকায় থাকছেন, সন্তানকে নিয়মিতই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন আবার নিয়ে যান।

নতুন করে মানসিক সমস্যায় যুক্ত হয়েছে রিলেশনশিপ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। মোটেও এটা করা শোভনীয় নয়। এতে সমস্যা বাড়বে। বরং তরুণ সন্তানকে বুঝিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. সাহিদা চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে পরিবার থেকেই আন্দোলন তৈরি শুরু করতে হবে। কিন্তু পরিবারের আমরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গে সুষ্ঠু আচরণ করি না। সন্তানদের রোল মডেল তার মা-বাবা। কিন্তু দেখা যায়, ওই বাবা বাচ্চাকে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে। তাহলে তারা তাদের রোল মডেল থেকে কী শিখল? আমাদের এসব আচরণ বন্ধ না করলে; আমাদের সন্তানদের মানসিক বিপর্যয় রোধ করাও সম্ভব নয়। স্কুলের শিক্ষকদেরও দায়িত্ব বাড়াতে হবে। তাঁরা বাচ্চাদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করে। ফলে তাদের মধ্যে নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার কমাতে হবে। রাত জেগে সন্তানরা মোবাইলে চ্যাট করে। ফলে স্কুলের ফল বিপর্যয় হয়। তখন মাতা-পিতার টনক নড়ে। এ সময় মানসিক চিকিৎসা নিতে আসে। কাজেই পরিবার থেকেই তাঁদের সন্তানের মানসিক সংকট তৈরি হয়।

অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা সম্ভব ও আছে। এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে ভুল ধারণার ফলে প্রথমে চিকিৎসকের কাছে যায় না, কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকেই বিশ্বাস করছে। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। আর চিকিৎসার মাধ্যমে মানসিক রোগ সারাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই দিবসটিতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন ও উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য। মানসিক রোগের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সাইকিয়াট্রিস্ট ছাড়াও সমাজের গণমান্য ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের একটি বড় অংশই তরুণ। নানা কারণে এই তরুণরা মানসিক রোগে আক্রান্ত। কাজেই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বর্তমানে তরুণদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি ভর করেছে, যা মাদকের চেয়েও বড় ক্ষতিকর। এ বিষয়ে মা-বাবা বা পরিবারের সদস্যদের খেয়াল রাখতে হবে। বই নিয়ে তিন-চার ঘণ্টা পড়ালেখা করা উচিত; কিন্তু এখনকার তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেটেই সময় কাটাচ্ছে বেশি। ফলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে। মানসিক রোগের চিকিৎসায় কুসংস্কারকে দূরে ঠেলে সচেতন হতে হবে।

অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, ব্রেইন স্পেশালিস্ট ও বিভাগীয় প্রধান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

তরুণদের নিয়ে আমরা সতর্ক, কিন্তু আমরা কি জানি তরুণরা কেমন আছে? কেউ হয়তো সঠিক উত্তর দিতে পারব না, কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করলে উত্তর মিলবে। তরুণদের অনেক সমস্যায় মাতা-পিতা কিংবা কেউ জানে না। অনেক সময় বলতেও চায় না তরুণরা। আবার কেউ কেউ বলতে গিয়ে কিংবা মাতা-পিতা জেনে গিয়ে মারধরেও পড়েছে। মাতা-পিতাকে সহনীয় হতে হবে। তরুণরা এ বয়সেই আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয়। বিশ্বে আত্মহত্যা মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ। ৯২ শতাংশ তরুণ নিয়মিত অনলাইনে থাকে। মাদকাসক্তও একটি মানসিক রোগ। বর্তমানে দেশে ৬০-৭০ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। খাত নামে নতুন একটা মাদক দেশে আসছে। কিন্তু যে আইন করা হচ্ছে, সেটা নিয়ে সাইকিয়াট্রিকদের ভালো করে বসা উচিত। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন করা হয়েছে, কিন্তু এসব করা হয় একটা গ্রুপের প্রচারণায়। আইন প্রণেতাদের মধ্যে কিছু একটা ঢুকিয়ে দেয়, কিন্তু আইনের দীর্ঘস্থায়ী ফল কী সেটা নিয়ে ভাবি না। আমরা তথ্য-উপাত্ত দিতে পারি না, তারাও নেয় না। নিউ ইয়র্কে কেজি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষা বাধ্যতামূলক। আমাদের ক্ষেত্রেও এমনটা করা উচিত। মানসিক রোগমুক্ত করতে সন্তানের সঙ্গে মাতা-পিতাকে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। যোগাযোগও বৃদ্ধি প্রয়োজন। একটা সময় বের করতে হবে, যে সময়টা পরিবারের সবাই প্রযুক্তিমুক্তভাবে বসতে পারবে। মোবাইল ফোন বন্ধ করাও কোনো সমাধান হবে না, কারণ পরিবর্তনশীল বিশ্ব সম্পর্কে জানতে হবে। ততে ততটুকই করতে হবে, যেটুকু কোনো ক্ষতিকর হবে না।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজুল ইসলাম
বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ

শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা নিয়েই স্বাস্থ্য। কিন্তু আমরা ভুলে যাই মানসিক ও সামাজিক সুস্থতা দরকার। মানসিক সুস্থতা ছাড়া কোনো সুস্থতা সম্ভব নয়। মানসিক সুস্থতা হলো মন, মনন আবেগ ও আচরণ। মন ও চিন্তাশক্তি, আবেগ অনুভূতি ভালো না থাকলে সব কিছুই শূন্য হয়ে যাবে। মানসিক সুস্থতাকে সম্পূর্ণভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। সামাজিক, পারিবারিক, ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সবখানেই পরিবর্তন হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে তরুণের ওপর। তরুণ হলো সেই শক্তি যে শক্তি দেশ চালায়, তরুণ হলো সেই শক্তি যে শক্তি স্লোগানে মাতে, জোয়ারের বিপরীতে চলতে পারে ও জোয়ার তৈরি করতে পারে। প্রাণচঞ্চল সৃষ্টি করতে পারে। দেশকে বদলে দিতে পারে তরুণরা। আর এই তরুণ সময়ই বিকাশ বা উন্নতির সময়। মানুষের বড় হওয়ার সময়। এই সময়কে আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। মানসিক রোগ একটা মানুষকে ধ্বংস করছে। আর মাদক, ফেসবুক পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হবে। সবাইকে বুঝতে হবে মানসিক রোগ কোনো জিনে ধরা, ভূতে ধরা রোগ নয়। এটা ওঝা দিয়ে চিকিৎসারও ব্যাপার না। মানসিক রোগের অন্য ১০টি রোগের মতো বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা আছে। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ আছে। চিকিৎসার মাধ্যমে এর সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। মানসিক রোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান আমাদের মধ্যে নেই।

অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ
মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবর্তনশীল সমাজ ও সামাজিক কাঠামোর মাধ্যমেই তরুণদের স্বাস্থ্য ও শারীরিক পরিবর্তন হয়। এই বয়সে তরুণদের অনেক পরিবর্তন ঘটে। একজন তরুণ কোনদিকে যাবে, সেটা শুধু তরুণের ওপরই নির্ভর করছে না, পারিবারিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করছে। একজন তরুণের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বেড়ে যেন সুস্থ হয়, সেই বিষয়েই গুরুত্ব দিতে হবে। আর সেই প্রক্রিয়া পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। কারণ একজন শিশু জন্মের পর পরিবার থেকে নানা শিক্ষার শুরু। জ্ঞানচর্চায় স্কুল কিংবা কলেজে গিয়েও অনেক কিছুর সংস্পর্শে আসে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তরুণা কেন এমন হয়ে যায়? তরুণের বেড়ে ওঠার সঙ্গে অনেক কিছুই জড়িয়ে যায়। এ জন্য তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবারের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। ‘গুড প্যারেন্টিং’ প্রয়োজন। শিশুর প্রতি প্রত্যেকটা পরিবারের জোর অ্যাটেনশন দেওয়া প্রয়োজন। তরুণের কথা ও চাওয়া তার মতো করেই শুনতে হবে। মনের কথা শুনতে হবে। খোলা মনে কথা বলতে হবে। মনের কথা বলতে যদি তরুণের বাঁধা থাকে, তবে সমস্যা বাড়বে। আর মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিতে হবে। নানা ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন একটা সময় রাখতে হবে সন্তানের কথা শুনতে। সেটা রাতে হোক বা ঘুমানোর আগে হোক। আর সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে মাতা-পিতাকে পরিবর্তন হতে হবে। যদি মাতা-পিতা রাত জেগে মোবাইল চালায়, তবে সন্তানও সেটা শিখবে। সন্তান ঠিকমতো ঘুমাল কি না সেটা দেখতে হবে। তরুণ বয়সে মস্তিষ্ক থেকে শারীরিক গঠন পর্যন্ত ঘুম প্রয়োজন। সেটা দেখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরও ভূমিকা রয়েছে তরুণকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক বিষয়েও শিক্ষা দিতে হবে। তরুণদের গাইড করতে কোনো বিষয়ের ভালো দিকটা নিতে হবে। আর খারাপ দিকটা ত্যাগ করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারে ভালো দিকটা নিতে উৎসাহ দিতে হবে।

ডা. দেলোয়ার হোসেন
সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

তরুণরা এই বয়সেই শারীরিক পূর্ণতা ও বিকাশ লাভ করে। যার জন্যই বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিশ্ব তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সোচ্চার। তরুণ সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে একটা টার্মওয়েল তৈরি হয়। পার্টনার ভায়োলেন্সও এই বয়সেই হয়ে থাকে। একটা কালভার্ট নির্মাণ করতে রডের পরিবর্তে যদি বাঁশ দেওয়া হয়, তবে কালভার্টটি যেমন হবে ঠিক, তেমনি মানসিক রোগ, যৌন হয়রানির শিকার, বুলিংয়ের মধ্যে বেড়ে ওঠা তরুণের অবস্থাও তেমনই ভঙ্গুর হবে। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী হবে? ফিশ ওয়েল খাওয়াতে হবে। জীবন যাপনেও পরিবর্তন আনতে হবে, নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। রাত জেগে ফেসবুক কিংবা অন্য কাজ করলে কর্মক্ষমতা নষ্ট হবে। দেশের ৮২ শতাংশ শিশু বুলিংয়ের মধ্যেই বড় হয়। তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে। ১৮ বছরের আগে কোনো তরুণ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারবে না—এমন বিষয় নির্দিষ্ট করে জাতীয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

ডা. মেখলা সরকার
সহযোগী অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ , জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও তরুণ দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তরুণরা এ বয়সে বয়ঃসন্ধি থেকে একটি পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। দ্রুতই পরিবর্তন ঘটে। সার্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক পরিবর্তনও হয়। আত্মোপলব্ধি, নিজেকে জানা ও নিজের অবস্থান সম্পর্কে পরিচয় ঘটে। বোধের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে, নতুন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে।

ডা. জিল্লুর রহমান খান
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস

জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তরুণ, যারা সমাজের কর্মক্ষম ও চালিকাশক্তি। বিশ্বের প্রতি পাঁচজনে একজন বা ২০ শতাংশ তরুণ মানসিক রোগে আক্রান্ত। কিন্তু ভ্রান্ত ধারণা, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে কুসংস্কার ও ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাস করে মানুষ। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মাদকাসক্তি, আত্মহত্যার চেষ্টা, অতি চঞ্চলতা, বুলিং, সাইবার ক্রাইম, গ্যাং কালচার, অবাধ্যতা, দেশীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধাচরণ, ইন্টারনেট ও ফেসবুক আসক্তি, সম্পর্কজনিত ও মানিয়ে চলার বিষয়ে মানসিক সমস্যা থেকে এ রোগের সৃষ্টি। প্রাপ্তবয়স্ক ১৬.১ শতাংশ আর শিশু-কিশোর ১৮.৪ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত; কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত সাইকিয়াট্রিস্ট মাত্র ২৩০ জন। ৩১টি সরকারি মেডিক্যাল ও বেসরকারি আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজে মানসিক রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়, কিন্তু অপ্রতুল। চিকিৎসার আওতায় আনতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সংবাদপত্রের ইতিবাচক ভূমিকা বাড়াতে হবে। তরুণদেরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ, মানসিক রোগীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তকরণ, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও পদ সৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি জানানো হয় প্রবন্ধে।

মোহম্মদ মিজানুর রহমান
এজিএম (বিপণন), ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

সাধারণ মানুষ আর চিকিৎসকদের মধ্যে যোগসূত্র সাধনেই আমরা কাজ করে থাকি। পাশে থেকে সমর্থন দিই। রোগীর চিকিৎসায় যে ওষুধ প্রয়োজন সেটা সরবরাহ করে থাকি। বিশ্বে যেসব ওষুধ আছে কিন্তু বাংলাদেশে প্রয়োজন থাকলেও ছিল না, মান বজায় রেখে সেসব তৈরি করি। শুধু রাজধানী কিংবা জেলা শহরেই নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমরা ওষুধ দিয়ে থাকি। বহুজাতিক অনেক কম্পানি সেটা করে না; কিন্তু জাতীয় কম্পানি হিসেবে প্রান্তিক পর্যায়ে আমরা সবখানে ও সর্বত্রই ওষুধ দিয়ে থাকি। জনগণের সাধ্যের মধ্যে আমরা ওষুধ দিয়ে থাকি। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান রকেটবিজ্ঞানের মতো নয়, চেষ্টা করলেই মানসম্মত ওষুধ তৈরি করা সম্ভব। আমরা সেটাই করে যাচ্ছি। রোগীদের জন্য হাইটেক ওষুধ সাধ্যের মধ্যে তৈরি করব।

ডা. এ কে এম খলীকুজ্জামান
সাইকোথেরাপিস্ট, স্নায়ুরোগ, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

জন্মের পর একজন শিশু পরিবার, মাতা-পিতা ও বড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অনেক কিছুই শিখছে, কিন্তু কেন পরিবর্তনশীল বিশ্বে এসে এই পরিবর্তন হচ্ছে? শৃঙ্খলা থেকে সরে যাচ্ছে। অস্থিরতা, বেদনা, আত্মহত্যা চেষ্টা ও মাদকাস্ত হচ্ছে। মানুষের যেসব গুণ থাকে, তার একটি বিনয়। মানুষকে বিনয়ী হতে হবে। সত্গুণ চর্চা করে তখনই সেটা স্থায়ী হয়। বিনয়ের সংস্পর্শে নিজেকে গড়ে তোলে। কিন্তু এখন সেটা নেই। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একটি ছেলে সিগারেট খাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সময়ে গুরুজন কিংবা বড়দের দেখলে সালাম দিত, কিন্তু এখন সেটা হারিয়ে গেছে।

মোস্তফা মল্লিক
বিশেষ প্রতিনিধি, চ্যানেল আই

পরীক্ষার সময় বেশি সময় ধরে যেন পড়তে পারে এ জন্য শিক্ষার্থীরা বিশেষ ধরনের ড্রাগস নিয়ে থাকে। দেশের নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এটা করলেও অভিভাবকদের একটা মনোসম্মতি রয়েছে। ৫-১০ শতাংশ শিক্ষার্থী এটি করে থাকে। মাতা-পিতা সম্মতি দেয়, পরীক্ষার সময়ই তো, নিক একটু বেশিই না হয় পড়ল। এটা গেল শহরের চিত্র, কিন্তু গ্রামে শিক্ষার চিত্র আরো ভয়াবহ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, যেখানে হেঁটে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, সেসবের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদকের আখড়া। শিক্ষার্থীরা মাদক নেয় না, কিন্তু এই পরিস্থিতি পার হয়েই উচ্চশিক্ষা পর্বে ঢুকে। আবার অনেক অভিভাবক স্কুলের সামনে গিয়ে সিগারেট খায়, যা তরুণদের অনুপ্রাণিত করে। গণমাধ্যমেও তরুণদের অনেক বিষয় উঠে আসে না, কিন্তু সেসব দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।

যাঁরা অংশ নিয়েছেন
অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিউল আলম
সভাপতি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস

অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস

অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক আলম
পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

ডা. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান
সাবেক অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

অধ্যাপক ডা. সাহিদা চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, ব্রেইন স্পেশালিস্ট ও বিভাগীয় প্রধান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজুল ইসলাম
বিভাগীয় প্রধান, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ

অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ
মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

ডা. দেলোয়ার হোসেন
সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

ডা. মেখলা সরকার
সহযোগী অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

ডা. জিল্লুর রহমান খান
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টস

মোহম্মদ মিজানুর রহমান
এজিএম (বিপণন), ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

ডা. এ কে এম খলীকুজ্জামান
সাইকোথেরাপিস্ট, স্নায়ুরোগ, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

মোস্তফা মল্লিক
বিশেষ প্রতিনিধি, চ্যানেল আই 



মন্তব্য