kalerkantho


স্কুলে সহপাঠী যখন ছাগল!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৪৫



স্কুলে সহপাঠী যখন ছাগল!

জার্মানির বার্লিনের হাগেনবেক নামের এক স্কুলে শিক্ষার এক নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতি এবং ইকোসিস্টেম তথা প্রাণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পাঠ্যসূচির সব বিষয়ের সাথেই জুড়ে দেয়া হয়েছে প্রাণবৈচিত্র্যের পাঠ।

কেবল সকাল আটটা বাজে। উঠতি বয়সিদের স্বাভাবিক চপলতা, মোবাইল ফোনে ডুবে থাকা বাদ দিয়ে কিছু টিনএজারকে দেখা গেল ওরিও, আগ্রো এবং ভিলমার কাণ্ডকারখানা মনোযোগ দিয়ে দেখতে। এই তিন ছাগলের মধ্যে কিছু একটা তাঁরা খুঁজে পেয়েছে, যা তাঁদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে।

শুধু ছাগল নয়, বার্লিনের এই স্কুলে হাঁস, মুরগি, শূকর এবং আরো নানা ধরনের পশুপাখি আছে। প্রতিদিনই জার্মানির অন্য সব স্কুলের মতো হাগেনবেক স্কুলেও সকালে দল বেঁধে প্রবেশ করে প্রায় ৪০০ ছাত্র-ছাত্রী। কিন্তু তবুও অন্যদের চেয়ে বেশ খানিকটা আলাদা এই স্কুল।

১২ বছরের ইয়ারা বলছে, ‘আমি এই স্কুলেই পড়তে চাই, কারণ, আমি পশু-পাখি এবং বাগান পছন্দ করি।’ ইয়ারা তখন তাঁর বন্ধুদের সাথে মিলে স্কুলের বাগান থেকে তুলে আনা আপেল কাটছিল। এই আপেল একটু পরে তারা ছাগলকে খাওয়াবে।

এলোডি নামের আরেক শিক্ষার্থী বলছে, ‘এদের একজন একজন করে যত্ন করে খাওয়াতে হয়৷ নাহলে একজন কম খাবার পেলেই মারামারি শুরু করে দেয়।’

ক্লাসরুমে বসে পড়াশোনা করার চেয়ে এটা কি বেশি মজার? এক মুহূর্ত দেরি না করে উত্তর এলো, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’

পশুর চেয়েও বেশি কিছু
তাই বলে এই স্কুলে যে কোনো ক্লাসরুম নেই, তা কিন্তু না। হাগেনবেকেও অন্য সব স্কুলের মতো গণিত, জার্মান ভাষা, খেলাধুলা, পদার্থবিজ্ঞান এবং ভাষাবিজ্ঞান শেখানো হয়। কিন্তু সবকিছুতেই থাকে জীববৈচিত্র্যের ছোঁয়া।

স্কুলের উপপ্রধান ক্লাউডিয়া ক্র্যোটেনহ্যার্ড্ট বলেন, ‘শিক্ষকরা সবাই একসাথে আলোচনা করেই ঠিক করেন, কিভাবে পড়ালে শিক্ষার্থীদের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণা দেয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, জার্মানিতে আমরাই একমাত্র স্কুল, যারা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়।’

২০০৭ সালে জার্মান সরকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগ নেয়ার পর থেকেই চালু হয় এই প্রকল্প। তবে এরপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ক্র্যোটেনহ্যার্ড্ট ও তাঁর সহযোদ্ধাদের।

পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে কিভাবে শস্য বুনতে হয়, কিভাবে তাদের যত্ন নিতে হয় এবং সবশেষে কিভাবে ফসল তুলতে হয়, সে বিষয়েও হাতেকলমে শিক্ষা পেয়ে থাকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

আরো নানা ধরনের পরিকল্পনা থাকলেও সীমিত বাজেটের কারণে সবসময় সবকিছু করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু অর্থের অভাব যাতে ব্যতিক্রমী এ চলার পথ রুদ্ধ না করতে পারে, সে ব্যাপারে শিক্ষকদের পাশাপাশি সচেতন অভিভাবকরাও।

সূত্র: ডয়চে ভেলে



মন্তব্য