kalerkantho


কোরবানির আগে জেনে নেয়া জরুরি...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:২৯



কোরবানির আগে জেনে নেয়া জরুরি...

ত্যাগের উৎসব ঈদুল আজহা। ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখতে হবে। আবার পরিবেশের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উদাসীন হলে চলবে না। কোথায় পশু জবাই করা উচিত, কীভাবে বর্জ্য ফেলা দরকার ইত্যাদি বিষয়ে সবাই জানেন। তবুও আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক। 

১. সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, যেখানে সেখানে কোরবানি দেবেন না। নির্দিষ্ট স্থানে জবাই করতে হবে। গর্ত খুঁড়ে রক্ত পুঁতে ফেলবেন। অসুস্থ ও ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব সাধারণ নিয়ম না মানলে দুর্গন্ধ ছড়ায়, রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, পশুর চামড়া নষ্ট হয় ইত্যাদি। পবিত্র মক্কায় কোরবানি ও পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে রয়েছে। সেখানে ধর্মীয় নির্দেশনা মেনেই  প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষরা পশু কোরবানি করেন।। 

২. কোরবানির নির্ধারিত স্থানকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নয়তো জীবাণু ছড়াবে। পশুর অনেক কিছুই কিন্তু কাজের জিনিস। রক্ত, গোবর, নাড়িভুড়ি, হাড় ও অন্যান্য উচ্ছিষ্টাংশ সার, বোতাম, চিরুনি, মৎস খাদ্য, পশু খাদ্যসহ বেশ কিছু শিল্পের কাঁচামাল।

৩. কোরবানির পশুকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়াবেন। এটা জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেবেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করানো উচিত। কোরবানির আগের রাতে পশুকে পানি ছাড়া আর কিছু খাওয়াবেন না। মোটামুটি ১২ ঘণ্টার মতো তাকে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। 

৪. সকাল বেলা পশুকে ভালোভাবে গোসল করাতে হবে। পশুকে নরম সুতা বা পাটের তৈরি রশি দিয়ে বাঁধবেন। নাইলনের দড়ি ব্যবহার করা যাবে না। জবাই করার সময় পশুর গলার নিচের দেড় ফুট গভীর ও দেড় ফুট চওড়া ও লম্বায় একটি গর্ত খুঁড়ে তার মধ্যে পশুর রক্ত ঝরাবেন।

৫. পশুর দেহ থেকে নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্টাংশ যেখানে সেখানে ফেললে তা পচে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াবে। এতে বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ভয়ও আছে। কাজেই মাটি খুঁড়ে সেখানে মাটিচাপা দিন।  

৬. চামড়া ছড়ানোর পদ্ধতি পেশাদার কসাইরা ভালো জানেন। এ কাজে যেসব ব্যবহার করবেন তা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মাটিতে তিন/চার ফুট গর্ত করে তার ওপর চুন, ব্লিচিং পাউডার বা ফাম-৩০ নামক জীবাণুনাশক স্প্রে করে তার ওপর কাঁটাজাতীয় কিছু ডালপালা কিংবা খড়কুটা দিয়ে ঢেকে শক্ত করে মাটিচাপা দিতে হবে।

৭. কোরবানির মাংস বিলানোর বিষয়ে ধর্মীয় নিয়ম হলো- মোট মাংসের তিনটি ভাগ করে এক ভাগ গরিব-দুঃখীকে, এক ভাগ আত্মীয়স্বজনকে এবং এক ভাগ নিজে খাওয়ার জন্য রাখতে হয়। আবার পশুর মালিকের উৎপাদিত ভালো মানের চামড়া দিয়ে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। এটা আপনি এতিম খানাতেও দিয়ে দিতে পারেন। উট, গরু, মহিষ, ভেড়া, দুম্বা ও ছাগল ছাড়া অন্য কোনো পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর, গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে দুই বছর, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে।



মন্তব্য