kalerkantho


পর্যটক টানতে কক্সবাজারে ব্যাপক আয়োজন

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার    

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:১৫



পর্যটক টানতে কক্সবাজারে ব্যাপক আয়োজন

কক্সবাজারে সংস্কারের পাশাপাশি সাজানো হয়েছে তারকা মানের হোটেল ও রিসোর্টগুলো

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার নতুন করে সেজেছে। আশা করা হচ্ছে, এবারও বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটবে। ঈদের ছুটি সামনে নিয়ে হোটেল-গেস্ট হাউসগুলো নতুন করে সংস্কারসহ সাজানো হয়েছে। এরই মধ্যে সাগরপারের তারকা হোটেলগুলোর বেশির ভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। দুই মাস আগে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়েছে বর্ষণমুখর সময়ে। তবে এখন ভাদ্র মাস হলেও এসেছে শরৎকাল। শরতে বৃষ্টি-বাদল এমনিতেই কম হয়। শরতের এমন সময়টিই সাগরপারে বিনোদনের জন্য সবচেয়ে ভালো মুহূর্ত। এ সময়ে ভারি বর্ষণ থাকে না, যা থাকে তাও দারুণ উপভোগ্য। এসব কারণেই গত ঈদের ছুটিতে যারা কক্সবাজার সৈকতে আসেনি তারাই এবার ভ্রমণে আসবে—এমন আশা ব্যবসায়ীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদুল আজহার ছুটি কাটানোর জন্য সাগরপারের তারকা মানের সিগাল হোটেলের বেশির ভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। হোটেলের প্রধান নির্বাহী রুমী সিদ্দিকী জানান, ‘শরতের এমন সময়ে ভারি বর্ষণ তেমন থাকে না। বেশি গরম নয় তেমনি আবার ঠাণ্ডাও নয়। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে প্রচুরসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছি।’

সাগরপারের তারকা মানের হোটেল দ্য কক্সটুডের ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার অংচা চিং চাক জানান, ‘গত ঈদের চেয়েও এবারে ভ্রমণকারীর চাপ বেশি হবে। এরই মধ্যে আমাদের হোটেলের ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘হোটেলের বুকিং পরিস্থিতি দেখে এখন কমপক্ষে দুই দিনের কম বুকিং নেওয়া হচ্ছে না।’ একইভাবে কলাতলী সাগরপারের তারকা হোটেল সায়মান বিচ রিসোর্ট ও ইনানী সৈকতের তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপের বেশির ভাগ কক্ষও বুকিং হয়ে গেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (পর্যটন ও প্রটোকল) এস এম সরোয়ার কামাল জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের সামাল দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বিধানের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কমিটির ৩০ জন কর্মীর মধ্যে কক্সবাজার সৈকতে ২১ জন এবং ইনানী সৈকতে তিনজন কর্মীকে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখা হয়েছে ভ্রমণকারীদের দেখভাল করার জন্য।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, সৈকতে সার্বক্ষণিক ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যদের রাখা হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে। পুলিশ সুপার এবারের ছুটিতে ভ্রমণে ইচ্ছুক লোকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে বলেন, বর্ষার এমন সময়ে সাগর এমনিতেই একটু অশান্ত থাকে। তাই কক্সবাজার সৈকতে এসেই কোনো তথ্য না জেনে সাগরে নামা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। তবে এবার সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ ভ্রমণ সম্ভব নয়। কারণ সাগর এখন অশান্ত। 



মন্তব্য