kalerkantho


ছাগলে সুবিধা বেশি

♦ কোরবানিতে চাহিদা গরুর দ্বিগুণ ♦ কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা হয় না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৪৫



ছাগলে সুবিধা বেশি

দেশে পশু কোরবানিতে গরুর প্রতিই সবার আকর্ষণ থাকে বেশি। গরুর আকার-আকৃতিও বড়। দামও বেশি। কোরবানির ঈদ এলে সাধারণ আলাপ-আলোচনায় তুঙ্গে স্থান করে নেয় গরু। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। পরিসংখ্যান বলছে, গরুর চেয়ে প্রায় দিগুণ কোরবানি দেওয়া হয় ছাগল। ফলে ছাগল বেচাকেনাও বেশি। অন্যদিকে ছাগলের ক্ষেত্রে গরুর মতো মোটাতাজাকরণের সংশয়ও কম থাকে। চাহিদার অনুপাতে জোগানেরও সমস্যা নেই। দেশে কোরবানির চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছাগল রয়েছে। অবশ্য আর্থিক লেনদেনের প্রবাহ বেশি হওয়ার কারণে ছাগলের চেয়ে গরুকে ঘিরেই থাকে সব আয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানিতে গরুর ওপর চাপ কমাতে এখন মানুষের উচিত ছাগলের ওপর নজর বাড়ানো।

জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. হীরেষ চন্দ্র ভৌমিক কালের কণ্ঠকে জানান, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে প্রায় এক কোটি ১৬ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ লাখ হচ্ছে গরু ও মহিষ। বাকি ৭১ লাখের মধ্যে ৭০ লাখই ছাগল। গত বছরও প্রায় এই সংখ্যক ছাগল কোরবানি হয়েছে সারা দেশে। গরু আকারে বড় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি গরু কয়েক নামে কোরবানি দেওয়া যায় বলে সেদিকেই অধিকাংশের নজর। আবার পরিমাণেও মাংস কিছুটা বেশি পাওয়া যায় বলে মানুষের ঝোঁক গরুর ওপরই বেশি থাকে। এসব  মিলিয়েই কোরবানির পশুর হাটের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় প্রাধান্য পায় গরু।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরো জানান, গরুর চেয়ে ছাগল অনেক নিরাপদ। গরুতে যে বিষাক্ত প্রক্রিয়ায় মোটাতাজাকরণের ভয় বা আশঙ্কা থাকে, দেশে ছাগলের ক্ষেত্রে এখনো তেমন কিছু হচ্ছে না। আবার কোরবানির সময় রক্ষণাবেক্ষণেও গরুর চেয়ে ছাগলের ক্ষেত্রে ঝামেলা কম।

আর্থিক বিশ্লেষণ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ অর্থনীতিবিদ ডা. মো. রুহুল আমীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোরবানির পশুর বিপণনে আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনো গবেষণা বা জরিপ নেই। তবে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ থেকে বলা যায়, কোরবানির গরু বা ছাগল যা-ই হোক, তা অন্য সময়ের পশুর চেয়ে আলাদা থাকে। বাছাই করা বা বাজারকে লক্ষ্য করে সাধারণ গরু-ছাগলের চেয়ে কোরবানির পশুকে বেশি যত্ন-আত্তি করা হয়। ভিন্ন ধরনের খাবার খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়। এর প্রধান কারণ থাকে ওজন বাড়ানো এবং দেখতে বড়সড় দেখানো। ফলে বর্তমান বাজারদর অনুসারে এক লাখ টাকা দামের একটি কোরবানির গরুতে সাধারণত প্রায় ৩০০ কেজি মাংস হতে পারে। আবার একইভাবে ১৫ হাজার টাকার একটি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলে ১৫ কেজি মাংস হতে পারে।’

ওই প্রাণিসম্পদ অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, কোরবানিতে যেমন ৫০ হাজার টাকা দামের গরু বিক্রি হয়, আবার দেড়-দুই লাখ টাকা দামেও বিক্রি হয়। তবে গড় হিসাবে, বর্তমানে কোরবানিতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকাতেই বেশি গরু বেচাকেনা হয়। আর ছাগলের ক্ষেত্রে তা হয় ১০-১৫ হাজার টাকায়। অবশ্য দেশে এখন এক লাখ টাকায়ও ছাগল বিক্রি হয়। একটি ১০ হাজার টাকার ছাগলে মাংস ১০ কেজির নিচে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এসব হিসাবের কারণে কোরবানিতে ছাগলের সংখ্যা বেশি হলেও মূলত গরুর ক্ষেত্রেই অর্থিক লেনদেন বেশি হয়। আর তাই কোরবানির পশুর হাট বা বাণিজ্য মুখরিত থাকে মূলত গরু নিয়েই।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, কোরবানির ছাগলের জন্য আলাদাভাবে তেমন কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। সাধারণত কোরবানির গরুর হাটে এক পাশে ছাগল থাকে। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে পথেঘাটে, অলিগলিতেও ছাগল বেচাকেনা হয়।

শুধু গরু বা ছাগলই নয়, গত কয়েক বছর ধরে মরু দেশের উটও স্থান পাচ্ছে কোরবানির পশুর হাটে। এবারও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উটের সরবরাহ দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে দুম্বাও। এ ছাড়া দেশে কোরবানিতে ভেড়ার প্রচলন আগে থেকেই রয়েছে। 



মন্তব্য