kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্র চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক

সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত    

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ১০:১৩



যুক্তরাষ্ট্র চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক

১৯৬৯ সালে পাকিস্তানে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগ। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বভাবত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ যাতে সরকার গঠন করতে না পারে সেই উদ্দেশ্যে পশ্চিম পাকিস্তানে পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং পাকিস্তানের তত্কালীন সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও তাঁর সামরিক বাহিনী ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে সরকার গঠন করতে দেয়নি, এটা একটা বড় ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, পার্লামেন্ট বসবে পূর্ব পাকিস্তানে, কিন্তু ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান চাইলেন পার্লামেন্ট পূর্ব পাকিস্তানে নয়, বসবে পশ্চিম পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। স্বভাবতই বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল পশ্চিম পাকিস্তানে যেতে অস্বীকার করে। সেই সময় ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে শুরু হয়ে যায় বাঙালি নিধনযজ্ঞ। ইয়াহিয়া-ভুট্টো তখন পুরোপুরি সমর্থন পান আমেরিকার। তখন নিক্সনের বিদেশ সচিব হ্যানরি কিসিঞ্জার এক বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শুধু উসকানি দিচ্ছেন না, সব রকম সাহায্য করছেন। তিনি আরো বলেছিলেন, আমেরিকার ইতিহাসে তাদের বিদেশ নীতির ব্যর্থতার জন্য আমরা ভারতের গান্ধী পরিবারকে ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব। করেও ছিল তাই। প্রথমে ইন্দিরা গান্ধী ও পরে তাঁর পুত্র রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে। আজ ৪৭ বছর পরেও আমেরিকা থেমে নেই। বাঙালি হত্যার জন্য তারা রাজাকার, আলবদর, আলশামসের মতো ষড়যন্ত্রকারীদের কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ বাঙালিকে খুন করেছে এবং তাদের সম্পত্তি দখল করেছে। তারা যখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসছিল, তখন পথের মধ্যে মেয়েদের শ্লীলতাহানি করে এবং সব কিছু লুট করে নিয়েছিল। সেদিনকার যুবকরা গর্জে উঠেছিল। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, নূরে আলম সিদ্দিকী এবং অবশ্যই যাঁর নাম এখনো বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত, সেই কাদের সিদ্দিকী।

আগেই উল্লেখ করেছি যে আমেরিকা বাংলাদেশকে এখনো ঠিকমতো মেনে নিতে পারছে না। মাত্র দুই মাস আগে গাজীপুরে পৌর নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর ঢাকায় নিযুক্ত ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূত সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের নিন্দা করেছেন। আওয়ামী লীগ, হাসিনাপুত্র জয় ওয়াজেদ পাল্টা বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের বিষয়ে আমেরিকার নাকগলানোর ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বাংলাদেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র হয় ওয়াশিংটনে, ইসলামাবাদে ও কলকাতার হোচিমিন সরণিতে। তাই বাংলাদেশের নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগেই কলকাতায় ন্যান্সি পাওয়েলের মতো আর একজন মহিলাকে উপরাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরেই নানা ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে কতটা ওয়াকিফহাল তা আমার জানা নেই, কিন্তু তাদের পূর্বপুরুষেরা যে সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব তাদেরই। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাকে প্রকৃত মূল্য না দিয়ে শুধু ধর্মীয় উন্মাদনা নিয়ে তাকে ধ্বংস করার প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এই শিক্ষাই বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাবী প্রজন্মের কাছে রেখে গেছেন।

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্ট। এই দিনটি ভারতের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনই দুঃখেরও বটে। কারণ ওই দিনই খন্দকার মোশতাক আহমদ ও জিয়াউর রহমান জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ওই হত্যার পেছনে সেদিনও কলকাঠি নেড়েছিল আমেরিকা। জাতির পিতাকে হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, চার মাস পরেই মুক্তিযুদ্ধের চার নায়ককে—তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও আবু হোসেন কামরুজ্জামান—তাঁদের জেলের ভেতর গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পাকিস্তান এবং আমেরিকার দুষ্কর্মের কথা পৃথিবীর সামনে আর গোপন নেই। আমেরিকা চায়নি পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশ গঠন করুক। কিন্তু সাড়ে সাত কোটি বাঙালির দাবি ছিল আলাদা রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্র গঠন করতে গিয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছিল। প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং ভারতের কোটি কোটি মানুষ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধকালীন সেই ৯ মাস পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বের জনমতকে একীকরণ করে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সচেষ্ট হন। এর ফলে পাকিস্তান বাধ্য হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে দিতে। পাকিস্তান জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় পৌঁছান। ৯ মাস ধরে তাঁর কথা শুনেছি, তাঁর দেশ স্বাধীন করার আশা-আকাঙ্ক্ষার স্বপ্ন আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন, কিন্তু এই মহান নেতাকে দেখার সৌভাগ্য তো আমাদের হয়নি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের যে বিমানে তিনি ঢাকায় পৌঁছেছিলেন সেই বিমানের দরজা খুলতেই দেখলাম সেই সৌম্য ও দৃঢ়চেতা মানুষটিকে। সেদিন তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রমনা ময়দানে তাঁর কথা শোনার জন্য লাখ লাখ মানুষ অপেক্ষা করছিল এবং তাঁকে দেখার জন্যও অনেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিল। বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন—‘আমি লন্ডন ও দিল্লিতে সব শুনেছি। আপনারা বেঈমান হবেন না। আমার নীতি ও আদর্শ হলো সমাজবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। হিন্দুরা হিন্দু মন্দিরে যাবে পূজা করতে, আর মুসলমানরা মসজিদে যাবে নামাজ পড়তে। সুতরাং আমরা এখানে ভাই ভাই হয়ে থাকব। আর হিংসা নয়, এবার দেশ গঠনের কাজে আমাদের আত্মনিয়োগ করতে হবে।

তেজগাঁও থেকে যে খোলা গাড়িতে বঙ্গবন্ধু রমনা ময়দানে গিয়েছিলেন সেখানে তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন বাংলাদেশের জেলে যে চারজনকে হত্যা করা হয়েছিল, যাঁদের অপরাধ ছিল বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া। সেই চারজন এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রকারী খন্দকার মোশতাক আহমদ, গোয়েন্দাদের কাছে শুনেছি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর খন্দকার মোশতাক আহমদ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহটি নাড়িয়ে দেখেছিলেন প্রাণ আছে কি না, আর তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন জিয়াউর রহমানসহ আরো কিছু সেনা অফিসার; আমেরিকান গুপ্তচর বাহিনী সিআইএ আর পাকিস্তানের আইএসআই গুপ্তচর বাহিনী।

৪৩ বছর ধরে বাংলাদেশ এই দিনটি শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ১৫ আগস্ট শুধু বাংলাদেশের শোক দিবস নয়, শোক দিবস পৃথিবীর গণতন্ত্রপ্রিয় প্রত্যেকটি মানুষের। যত দিন চন্দ্র, সূর্য থাকবে তত দিনই এই জঘন্যতম দিনটির কথা পৃথিবীর ৪০ কোটি বাঙালির নয়, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষের, যারা গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রাখে সে এই দিনটি ভুলবে না।

এই মহান নায়কের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৭২ সালের ১৩ অথবা ১৪ জানুয়ারি, যদিও তারিখটি এখন ঠিক মনে নেই। কলকাতায় থাকাকালীন আমার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো মুক্তিযুদ্ধের ওই চার বীর সেনানির সঙ্গে। তাঁরা আমাকে দেখে প্রত্যেক দিনই বলতেন, দেশ স্বাধীন কবরই আর বঙ্গবন্ধুকে ফিরিয়ে আনবই। আমাকে প্রায়ই ঠাট্টা করে বলতেন যে আপনি এত পরিশ্রম করছেন, আমাদের কথা লিখছেন। আমি পাল্টা বলেছিলাম, বঙ্গবন্ধু যেদিন আসবেন আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন। আমি প্রথম তাঁর সাক্ষাৎ নেব। কথা রেখেছিলেন। আমাকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছিলেন। আমি তখন ঢাকার কন্টিনেন্টাল রোডে থাকি, কামরুজ্জামান সাহেব আমাকে তাঁর পরিবারের একজন করে নিয়েছিলেন। ফোন করে আমাকে বললেন, কাল সকালে হোটেলের সামনে সকাল ৮টায় প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন। ঠিক ৮টায় গাড়ি এসে দাঁড়াল, আমাকে বললেন—‘চলো, তোমায় ৩২ নম্বর ধানমণ্ডি রোডের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।’ সাংবাদিক হিসেবে আমি তখন বেশ উত্তেজিত, ৩২ নম্বরে পৌঁছে দেখি তাজউদ্দিন সাহেব, সৈয়দ সাহেব এবং ক্যাপ্টেন সাহেব আগেই পৌঁছে গেছেন, আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই বঙ্গবন্ধু বললেন—‘সব শুনেছি, আনন্দবাজার পত্রিকায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং আমার কঠিন পরিশ্রম’ আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে দেখালেন খান সেনারা কিভাবে তাঁর লাইব্রেরি তছনছ করে দিয়েছে, আধপোড়া বইগুলো দেখিয়ে বললেন— ‘এসব আমার প্রিয়, শ্রদ্ধেয় কবি রবীন্দ্রনাথের রচনাবলি’, আমার সঙ্গে সেদিন ছিলেন আনন্দবাজারের কর্ণধার অরূপ সরকার। অরূপবাবু আমাদের ইঙ্গিত করে বললেন যে সব রবীন্দ্র রচনাবলি পৌঁছে দেব। সব রবীন্দ্র রচনাবলি পৌঁছেও দিয়েছিলাম।

বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তান জেলে, তাঁর ওপর কী ধরনের নির্যাতন হয়েছিল, সেই নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ আমাকে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন তাঁর জন্য জেলের ভেতর কবর খোঁড়া হয়েছিল। তাঁকে হত্যা করে জেলেই কবর দেওয়া হবে, তিনি পাকিস্তানি জেলারকে অনুরোধ করে বলেছিলেন— ‘আমাকে হত্যা করে কবর দাও, সেই কবরের একটু মাটি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিও।’

সেই যে পরিচয় হলো সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে আমার সঙ্গে তাঁর প্রতিদিনই দেখা হতো গণভবনে। আমি তখন ঢাকায়। খবরের সন্ধানে বিকেল ৪টা থেকে আমি গণভবনে বেঞ্চিতে বা শোফায় তাঁর ঘরের সামনে বসে থাকতাম। কখনো বা তাঁর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ সাহেবের ঘরে। তোফায়েল সাহেবের কাছে আতি কৃতজ্ঞ, কারণ তিনি আমাকে নানা খবরের টিপস দিতেন আর বলতেন, বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করুন, কখনো বা খবরটা পুরোপুরি তোফায়েল সাহেব আমাকে দিতেন। তাজউদ্দিন সাহেবের কাছ থেকে খবর পেলাম বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে বারান্দায় পেয়ে আমি বললাম—‘আমার একটা প্রশ্ন আছে’। তিনি বলেছিলেন প্রশ্নটা জানি, উত্তরটা তিনি আমাকে বলেছিলেন—‘আপনি বরিশালের পোলা, আর আমি জাতির পিতা, আমাকে মারবে কেডা, ভয় পাবেন না’ বলে একগাল হেসে নিজের ঘরে ঢুকে গেলেন।

৪৩ বছর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিক্রিয়া জাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছড়িয়ে না পড়ে সেই জন্য জিয়া-খন্দকার জুটি রাস্তায় রাস্তায় ট্যাংক নামিয়ে দিয়েছিলেন এবং কারফিউ জারি করেছিলেন। বিশ্বের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। আমাদের খবরের একমাত্র ভরসা ছিল রেডিও, বয়টার ও এপি। খবর আসত তাও সেন্সর হয়ে, ভারতেও তখন জরুরি অবস্থা।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরেই জিয়া-খন্দকার জুটি সব রকম অত্যাচারকে দূরে সরিয়ে রেখে বীর-বিক্রম কাদের সিদ্দিকী তাঁর বাহিনী নিয়ে ঢাকার পথে এগোতেই জিয়া বাহিনীর বাধা পায়। কিন্তু সে বাধা অতিক্রম করে জিয়া বাহিনীর সঙ্গে কাদের বাহিনীর প্রচণ্ড লড়াই হয়। কাদের কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। কারণ ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তাঁর অবদানের কথা এক বিশাল ইতিহাস। তিনি এখনো সেসব কথা ভুলতে পারেন না। গত বছর ঢাকায় তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন ‘টাইগার’। বলেছিলেন—‘টাইগার একজন বড় বিপ্লবী’, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ‘টাইগার’ বেশ কয়েক বছর ভারতেই আত্মগোপন করে ছিলেন। কখনো দিল্লিতে আবার কখনো কলকাতায়। ৪৩ বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে বার বার একটি কথাই মনে হচ্ছে— নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসকে দেখিনি, কিন্তু দেখেছি আর এক বাঙালি নেতাকে। নেতাজি বলেছিলেন— তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।’—আর বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতায় বলেছিরেন—‘রক্ত যখন দিয়েছি, আরো দেব, স্বাধীনতা অর্জন করেই ছাড়ব’। তিনি তা করেও ছিলেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে দেশ গঠনের যে কর্মসূচি নিয়েছেন তা প্রশংসার যোগ্য।

লেখক : পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ সাংবাদিক 



মন্তব্য