kalerkantho


পেশাগত মানোন্নয়নের প্রতিষ্ঠান 'পুলিশ স্টাফ কলেজ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:০৩



পেশাগত মানোন্নয়নের প্রতিষ্ঠান 'পুলিশ স্টাফ কলেজ'

পুলিশের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের বিস্তারিত প্রয়োগিক ও তত্ত্বীয় জ্ঞান প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ স্টাফ কলেজ (পিএসসি) বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সার্ক অঞ্চলে বহুমাত্রিক অপরাধ মোকাবেলা, প্রচলিত পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, নৈতিকতা বোধের চর্চা, পুলিশি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সর্বোত্তম পুলিশ সেবা অনুশীলনে পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০০০ সালের ১৬ নভেম্বর মিরপুর ১৪ নম্বর সেক্টরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এই কলেজ তার কার্যক্রম শুরু করে। ২০ একর জায়গাজুড়ে সবুজের স্নিগ্ধতা। এই কলেজে ২০১৫ সালের ১৫ মে থেকে রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল ডা. সাদিকুর রহমান। তাঁরই তত্ত্বাবধানে ২০১৬ সালে ফলিত অপরাধতত্ত্ব এবং পুলিশ ব্যবস্থাপনা'য় (এমএসিপিএম) মাস্টার্স প্রোগ্রাম  চালু হয়। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত পুলিশ স্টাফ কলেজ-বাংলাদেশ-এ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে এই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও ক্যাডার/ননক্যাডার সিভিল কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা, পেশাজীবী, সাংবাদিক এবং বিদেশি নাগরিকরাও এমএসিপিএম করেন।

পরিচালনা পর্ষদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
প্রতিষ্টানটির পরিচালনা পর্ষদে পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভাইস চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রসচিব। এ ছাড়া সদস্য রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক, জনপ্রশাসন সচিব, অর্থসচিব, শিক্ষাসচিব, রেক্টরসহ ১৩ জন।

ক্যাম্পাস চত্বরে একটি সমৃদ্ধ অত্যাধুনিক লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন, একটি পুকুর, একটি সুইমিংপুল, ব্যায়ামাগার, ছয়টি শ্রেণীকক্ষ, টেনিস কোর্ট, একটি খেলার মাঠ, অতিথিশালয়, কনভেশসন সেন্টার ছাড়াও হরেক রকমের ফলজ ও বনজ গাছ-গাছালি রয়েছে।

অর্জন
দুটি ব্যাচ এমএসিপিএম ডিগ্রি নিয়ে সফলভাবে বের হয়েছে। প্রথম ব্যাচে ১৮ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। দ্বিতীয় ব্যাচে ২১ জন। এবার আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এমএসিপিএম প্রোগ্রামে দেশি-বিদেশি অতিথি শিক্ষকদের দিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ব্যবস্থাও আছে। এটি সম্পূর্ণ অনাবাসিক প্রতিষ্ঠান। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা প্রদানে সহযোগিতা করা হয়।

এদিকে, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজ (পিএসসি) এবং অস্ট্রেলিয়ার ম্যাক্যুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১৭ সালে ২৮ নভেম্বর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্টান সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের কার্যক্রমটি চলমান। 

একাডেমিক কার্যক্রম ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয় এ প্রতিষ্ঠানে। সম্প্রতি ইন্টারপোলের পৃষ্টপোষকতায় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস ট্রেনিং ফর সাউথ অ্যান্ড সাইথইস্ট এশিয়া র্শীষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রতিবছর পিএসসি সার্কভুক্ত দেশগুলোর অংশগ্রহণ ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম র্শীষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে আসছে। এ সকল প্রশিক্ষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পুলিশ বাহিনী তথা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে পিএসসির মিথষ্ক্রিয়া বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজে বাংলাদেশের এমডিএস (ট্রেনিং) এডিশনাল ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ মো. মতিউর রহমান শেখ বলেন, পিএসসিতে সার্কেল এসপিদের দুই সপ্তাহব্যাপী ক্রাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কোর্স করানো হয়। যেখানে মামলা তদন্ত-তদারকি ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তবে এই কোর্সটি তিন সপ্তাহব্যাপী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এডিশনাল এসপি পদমর্যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের শেখানো হয় আর্থিক ও মানিল্ডারিং প্রতিরোধের বিষয় ও অপরাধিদের আইনের আওতায় আনার কৌশল। আরো বেশ কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পুলিশ সুপার ও এডিশনাল ডিআইজিদের এখানে লিডারশিপের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, এখানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ আমাদের উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবিরোধী সহায়তা কর্মসূচি (এটিএ) ইসিট্যাপ এফবিআই কাউন্টার টেরোরিজম নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক সংগঠন যেমন ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, জার্মান সংস্থা জিআইজেড আসে, যাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের যৌথভাবে প্রোগ্রাম চলমান। দেশীও কিছু সংগঠন যেমন জাতীয় মানবাধিকার সংগঠন, বেলা ও ব্লাস্ট মানবাধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় নিয়ে যৌথভাবে প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয় বলে জানান তিনি।

ভর্তিচ্ছুদের জন্যে 
পুলিশ স্টাফ কলেজ এমএসিপিএম প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হতে তদুর্ধ্ব কর্মকর্তা যাদের নূন্যতম ২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। নন-পুলিশদের আবেদনের ক্ষেত্রে নূন্যতম ২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ ছাড়া মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা তিন বছরের স্নাতকসহ মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা ৪ বছরের স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীরা এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি সংক্রান্ত আরো তথ্য http://www.psc.gov.bd থেকে জানা যাবে।



মন্তব্য