kalerkantho


অ্যাথেন্সের বুকে বেঁচে থাকা আরেক ইতিহাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ২২:২৭



অ্যাথেন্সের বুকে বেঁচে থাকা আরেক ইতিহাস

'অ্যাক্রোপলিস? এই দিকে', অ্যানাফিওটিকার বাসিন্দারা পর্যটকদের এভাবেই পথপ্রদর্শন করেন। অ্যাথেন্সের বুকের অনতিদূরে অবস্থিত কিছুটা পরিচিত পাহাড়ি সরু, আঁকাবাঁকা পথে মানুষকে এভাবেই বলা হয় এগিয়ে যেতে।

অ্যানাফিওটিকার হোয়াইট-ওয়াশ করা দেওয়াল ও চকচকে জানালা-দরজাওয়ালা ছোট ছোট বাড়িগুলোকে যেন গ্রিক সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের উত্তর-পূর্ব দিকে স্থাপিত অ্যানাফিওটিকা অঞ্চল আধুনিক গ্রিক সাম্রাজ্যের রাজধানীর সমবয়সী।

ঐতিহাসিক স্থান পালকা অঞ্চলের বাসিন্দা পেশায় স্থপতি পানাজিওটিস পারাস্কেভোপোলাস। তিনি জানান, অ্যানাফিওটিকার নিজস্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

১৮৩২ সালে বাভারিয়ার রাজপুত্র অটো গ্রিসের শাসনকার্যের ভার নেওয়ার পর, অটোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ফলে অ্যাথেন্স ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

শহরটা পুনরায় নির্মাণের উদ্দেশ্যে তিনি অ্যানাফি থেকে দক্ষ রাজমিস্ত্রিদের ডেকে আনেন। নবনির্মিত স্থানের অন্যতম অঞ্চলে বর্তমানে শহরের পার্লামেন্ট গড়ে উঠেছে।

নিজেদের পরিবার নিয়ে থাকার জন্য শ্রমিকরা বেআইনিভাবে নিকটবর্তী স্থানে নিজেদের থাকার জন্য বসত ভিটে তৈরি করেন। প্রাথমিকভাবে বেআইনি পদক্ষেপ বলে মনে হলেও ১৮৬২ সালে রাজনৈতিক কারণে অটো দখলের পর এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অ্যানাফিওটিকা শহরের গায়ে কোনোরকম আঁচ লাগেনি।

আশ্চর্যজনকভাবে এককালের বেআইনি স্থানই আজ গ্রিক সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করে অ্যাথেন্সের ঐতিহাসিক স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে।

বাড়িগুলো অত্যন্ত ছোট এবং সর্বাধিক ৫০ স্কয়ার মিটার অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। বাড়ির চারপাশে রয়েছে বাগান এবং কঠোর সংরক্ষণ নিয়মাবলী দ্বারা অঞ্চলটি নিরাপদে রক্ষিত।



মন্তব্য