kalerkantho


চন্দ্রবোড়ার বিষ নামানোর চেষ্টা করেছে ওঝা, অতঃপর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ জুলাই, ২০১৮ ১৭:৫১



চন্দ্রবোড়ার বিষ নামানোর চেষ্টা করেছে ওঝা, অতঃপর

সাপে কামড়ানোর পর ওঝার কাছে গিয়ে প্রাণ হারাতে বসেছিলেন নন্দরানি বিশ্বাস। মরণাপন্ন নন্দরানিকে পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় তিনি সুস্থ হন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির সামনে বাগানের ঘাস পরিষ্কার করছিলেন ভারতের বারুইপুরের শাসনের বাসিন্দা নন্দরানি বিশ্বাস। সেই সময় তার হাতে কামড় দেয় চন্দ্রবোড়া সাপ।

তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। তার বাড়িতে কেউ না থাকায় পাশের বাড়ির দু'জন নারী তাকে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে যান। ওঝা বেশ কিছুক্ষণ ঝাড়ফুঁক করেন। তার পর বলেন, বিষহীন সাপে কামড় দিয়েছে। এদিকে ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়েন নন্দরানি। অবস্থা বেগতিক দেখে ওঝা তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বলেন।

বাড়ি ফিরে নন্দরানি রক্তবমি শুরু করেন। হাত ফুলে যেতে থাকে। তখন সাপ নিয়ে কাজ করা যুক্তিবাদী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দ্রুত ওই নারীকে ক্যানিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিসিইউ-তে রেখে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

হাসপাতালের সর্পরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, চন্দ্রবোড়ার বিষ হেমাটোটক্সিস। যা মূলত কিডনি অকেজো করে। রোগীর মূত্রত্যাগের মাত্রা বাড়তে থাকে। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও আসে। একটা সময়ে মূত্রত্যাগ বন্ধ হয়ে যায়। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।

তিনি আরো জানান, এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন। যদিও হাসপাতালে সেই ব্যবস্থা নেই। তাই এভিএস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার উপরে নির্ভর করেই তার চিকিৎসা করা হয়েছে।

নন্দরানির জামাই নিতাই মণ্ডল বলেন, শাশুড়িকে সাপে কামড়ানোর পর ওঝা ঝাড়ফুঁক করলে বেশ কিছু সময় নষ্ট হয়। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও যুক্তিবাদীর প্রচেষ্টায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, সাপে কামড়ালে মানুষ এখনো ওঝা-গুনিনের কাছে যাচ্ছে, এটা অত্যন্ত দুঃখের। মানুষকে সচেতন করতে হবে। সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার কমাতে ক্যানিং হাসপাতালের চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ জন্য তারা প্রশংসার যোগ্য।

সাপে কামড়ালে ওঝা বা গুনিন নয়, ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, দীর্ঘদিন ধরে এই মর্মে প্রচার করে আসছে ক্যানিংয়ের যুক্তিবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা। অবশ্য এত কিছুর পরেও এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে ওঝা-গুনিনদের প্রতি বিশ্বাস রয়েই গেছে।

ফলে অনেক ক্ষেত্রেই জরুরি চিকিৎসা শুরু করা যাচ্ছে না। মারা যাচ্ছেন রোগী। কখনো আবার চিকিৎসা শুরু করতে অনর্থক দেরি হয়ে যাচ্ছে। সংকটজনক অবস্থা হচ্ছে রোগীর। যেমন হয়েছিল নন্দরানির।

 



মন্তব্য