kalerkantho


ওয়েৎজি দ্য আইসম্যানকে নিয়ে গবেষণা

৫৩০০ বছর আগে জীবনের শেষ খাবারের মেনুতে যা ছিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৫২



৫৩০০ বছর আগে জীবনের শেষ খাবারের মেনুতে যা ছিল

ওয়েৎজি দ্য আইসম্যানের মমি নিয়ে গবেষণা চলছে বিজ্ঞানীদের

মেনুটা কোনো মাস্টারশেফের তৈরি করা ছিল না। তবুও আমাদের পূর্বপুরুষরা যথেষ্ট পুষ্টিকর খাবার খেতেন। অন্তত ওয়েৎজি দ্য আইসম্যানের শেষ খাবারটা বেশ সুষম ছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ৫ হাজার ৩০০ বছর আগের এই মানুষটি মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো যে খাবার খেয়েছিলেন তার হদিস পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সুষম হলেও খাবারে উচ্চমাত্রায় ফ্যাট ছিল বলেও জানান তারা। 

ওয়েৎজি দ্য আইসম্যান মারা যান বরফের গ্লেসিয়ারে। সেখানেই হাজার হাজার বছর ধরে তার মৃতদেহ সংরক্ষিত ছিল। ১৯৯১ সালে তাকে আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। এতদিন ধরে তাকে নিয়ে গবেষণা চালানো হচ্ছে। তার জীবনের অনেক তথ্য মিলেছে। তারই অংশ হিসেবে মৃত্যুর আগে ওয়েৎজি যে খাবার খেয়েছিলেন তার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

বিজ্ঞানীরা জানান, তার পাকস্থলীতে বুনো ছাগলের মাংসের চর্বি ছিল। এ ছাড়া হরিণের মাংস এবং প্রাচীন সময়ে মেলা এইনকর্ন নামের এক ধরনের খাদ্যশস্য এবং কিছুটা বিষাক্ত ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদও মিলেছে। 

তার খাবারে চর্বির পরিমাণ ছিল দেখার মতো, ৫০ শতাংশ। আধুনিক খাদ্য তালিকায় খুব বেশি হলে ১০ শতাংশ ফ্যাট থাকে। 

ইতালির বলজানোর ইউর‍্যাক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর মামি স্টাডিজের বিজ্ঞানী ড. ফ্রাঙ্ক মেইক্সনার বলেন, এই বরফযুগের মানুষটির বাস যে স্থানে ছিল তা বিবেচনা করতে হবে। তিনি যেখানে শিকার করছিলেন সেখানে দেহের জন্যে বাড়তি শক্তি দরকার। আর তা পেতে বাড়তি চর্বি দরকার। রুক্ষ পরিবেশে বেঁচে থাকতে প্রয়োজনীয় শক্তি একমাত্র ফ্যাটই দিতে পারে। 

কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত এ গবেষণায় বলা হয়, তাম্রযুগে মানুষ কী খেতো তার সম্পর্কে একটা ধারণা মেলে ওয়েৎজি দ্য আইনম্যানের কাছ থেকে। যদিও তার পাকস্থলীতে মেলা খাবারের বিস্তারিত জানা যায়নি। অদ্ভুত হলেও সত্য যে, তার পাকস্থলী দেহের যেখানে থাকার কথা ছিল সেখানে ছিল না। সম্প্রতি এটা আবিষ্কৃত হয়েছে। আসলে বছর বছর ধরে তার দেহ প্রাকৃতিকভাবেই মমিতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন কারণে দেহের প্রত্যঙ্গ এদিক সেদিক চলে গেছে। তবে পাকস্থলী দেহের ভেতরেই ছিল। 

মেইক্সনার বলেন, তার খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট ছিল। কাজেই তা সুষম বলা যায়। শেষ খাবার ছিল মাংস। ইউরোপিয়ান আল্পসে এক ধরনের বুনো ছাগল চড়ে বেড়াতো যার নাম আলপাইন আইবেক্স। এর মাংস খেয়েছিল সে। 

সম্ভবত ওয়েৎজি হার্বাল খাবারও খেয়েছিল। চিকিৎসার কাজে কিংবা এমনিতেই খাওয়া হয়েছিল। তার পাকস্থলীতে পাওয়া গেছে ব্র্যাকেন নামের এক ধরনের ফার্ন। এটা একটু বিষাক্ত। আবার এমনও হতে পারে, এই উদ্ভিদের পাতায় করে খাবার খেয়েছিলেন। আর ভুল করে কিছু ফার্নও পেটে চলে যায়। 
সূত্র: বিবিসি 



মন্তব্য