kalerkantho


আইএস'কে কাঁচকলা দেখিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সেই সিরিয়ান মেয়েরা (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৮ ১১:২৭



আইএস'কে কাঁচকলা দেখিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সেই সিরিয়ান মেয়েরা (ভিডিও)

পড়াশোনা করতে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল, সেই মেয়েদের একজন ফাতিমা

শিক্ষা অর্জনের মৌলিক অধিকার আমাদের থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। স্কুলে যাওয়ায় ছিল নিষেধাজ্ঞা। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে কথাগুলো বলছিল সিরিয়ার এক কিশোরী। জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস সিরিয়ার মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছিল। 

কিন্তু এই ছোট ছোট মেয়েরা আইএস এর মতো ভয়ংকর জঙ্গিগোষ্ঠীর নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করার সাহস করেছে। নিজের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে ঠিকই পড়াশোনা করে যায় তারা। 

তারা আমাদের সবসময় নিকাব পরকে বাধ্যতামূলক করে। সঙ্গে কোনো ধরনের বাই বা পত্রিকা রাখাও নিষেধ ছিল, বলছিল ১৪ বছর বয়সী ফাতিমা। স্কুল সংশ্লিষ্ট যেকোনো কিছু সঙ্গে দেখলেই সর্বনাশ! এমনকি সঙ্গে থাকা কলম বা পেন্সিলও তারা ভেঙে ফেলতো। 

পরে একদল মেয়ে এক পরিকল্পনা হাতে নেয়। তারা মেসেজিং প্লাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো। সেখানেই যোগাযোগ করে কাছের এক শহর ইয়ালদায় চলে যেতো। সেখানে শিক্ষকরা বোর্ডে যা লেখতেন তার ছবি তুলে আনতো তারা। 

ওই শহরে আমরা একসঙ্গেও যেতে পারতাম না। যারা পারতো যেতো। তারাই ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করতো, জানাল ফাতিমা। সবাইকে লুকিয়ে সেই ছবি ডাউনলোড করতে হতো। যারা ভবনের নিচতলায় থাকতো তাদের ছয় তলায় উঠতে হতো এ কাজ করতে। সবাই ছাদে উঠে যেতো ইন্টারনেট সংযোগটাও ঠিকঠাক মতো পাওয়ার জন্যে। তাই বলে যে এ পদ্ধতি সবসময় কাজে লাগতো তা না। 

কিন্তু লেখাপড়ার জন্যে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এই বাচ্চা মেয়েদের কেন এত ঝুঁকি নিতে হবে? হাসিমুখে ফাতিমা জানালেন, শিক্ষা একটা অস্ত্র। আমাদের বাবা সবসময় শিক্ষা অর্জনে উৎসাহ দিতেন। 

সূত্র: বিবিসি



মন্তব্য