kalerkantho


ইমাম-পুরোহিত হাতে হাত রেখে দিলেন রক্ত!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুন, ২০১৮ ২১:৩৬



ইমাম-পুরোহিত হাতে হাত রেখে দিলেন রক্ত!

রোযা ছিলেন জুম্মা মসজিদের ইমাম। লোকনাথ মন্দিরের পুরোহিতও ছিলেন কালীর অমাবস্যার উপবাসে। সে অবস্থায় তারা দু’জনেই পরস্পরের হাত ধরে রক্তদান করেন।

ভারতের লালগোলা থানা প্রাঙ্গণে পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত শিবিরে রক্তদান করেন তারা। তাদের রক্তদানের ঘটনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রোযা রাখা অবস্থায় ওই শিবিরেই আরো এক যুবক রক্ত দান করেন।

তিনি লালগোলা থানার ছাইতুনি গ্রামের হাজিকুল শেখ। গত বুধবার রোযা রাখা অবস্থায় রক্ত দেন লালগোলা থানার রাজানগর গ্রামের জুম্মা মসজিদের ইমাম তথা মৌলবি ইমামুদ্দিন বিশ্বাস। ভোর থেকে রোযার মতোই নিরম্বু উপবাস থাকা অবস্থায় রক্ত দেন শ্রীমন্তপুর গ্রামের লোকনাথ মন্দিরের পুরোহিত বিশ্বজিৎ পাঠক।

প্রয়োজনে রোযা ভেঙে সম্প্রতি অনেকেই রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু রোযা থাকা অবস্থায় কোনো পুরোহিতের হাতে হাত রেখে ইমামের রক্ত দানের ঘটনা সম্ভবত এখন পর্যন্ত এই প্রথম।

ইমাম ইমামুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, আমি রক্ত দিয়েছি মাত্র। তার জন্য বাইরে থেকে আমি দেহে কোনো জিনিস গ্রহণ করিনি। ফলে রোযা না ভেঙেও আমার দেওয়া রক্তে কোনো বিপন্ন মানুষের উপকারে লাগলে আমার ভালোই লাগবে। শারীরিক অবস্থার অসুবিধা না করে রোযা রাখা অবস্থায় রক্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মে, বা হাদিসে কোনো বাধা নেই। শারারিক, বা মানসিক কোনও অসুবিধাও আমার হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ওই দিন ভোর থেকে অমাবস্যার উপবাস ছিলেন পুরোহিত বিশ্বজিৎ পাঠকও। পঞ্জিকা মেনে রাত ১টা ৫১ মিনিট তিনি উপবাস ভাঙেন। পুরোহিত বলেন, সেই উপবাসের জন্য রক্ত দিতে আমার কোনো রকম শারীরিক অসুবিধা ঘটেনি।

লালগোলার আইড়মারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, উপবাস ক্লিষ্ট অবস্থায় রক্তদান ঝুঁকি পূর্ণ। না দেওয়ায় ভালো। কিন্তু ওঁদের মানসিক জোরের কাছে শারীরিক দুর্বলতা হার মেনেছে।

পুরোহিত ও মৌলবি দু’জনেই বলেন, গ্রীষ্মকালে হাসপাতালে বরাবরই রক্তের অভাব দেখা দেয়। তখন মানুষের বিপন্নতা বাড়ে। আমাদের কাছে নারী ও পুরুষ ছাড়া মানুষের মধ্যে অন্য কোনো ভাগ বিভাগ নেই। তাই গ্রীষ্মকালীন অভাব মেটাতে আমাদের ওই রক্তদান। অন্য ৭৮ জনের সঙ্গে উপবাস ক্লিষ্ট ওই তিন জনেরও সেদিন রক্ত সংগ্রহ করে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক দল।

৩৮ বছরের ওই ইমামের বাড়ি লালগোলা থানা এলাকার পাইকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজানগর গ্রামে। মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি মাদ্রাসা থেকে পড়ে মৌলবি হয়েছেন। দুই ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে মৌলবির ছয় জনের সংসার। মসজিদের ইমামের কাজ ছাড়াও মিলাদ করে ও সামান্য কিছু জমিতে চাষ করে তার সংসার চলে।

৩৬ বছরের অবিবাহিত যুবক বিশ্বজিৎ পাঠক লোকনাথ মন্দিরের পুরোহিতের পাশাপাশি লালগোলা এমএন অ্যাকাডেমির হাইস্কুলের প্রহরীর চাকরিও করেন। তারা দু’ জনেই বলেন, এই সময়ে দু’জন দু’জনের হাতে হাত রেখে রক্ত দিয়ে সমন্বয়ের বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি। এর আগেও পৃথক ভাবে রক্তদান করেছি। রক্ত দিতে অন্যদের উৎসাহিতও করে থাকি।



মন্তব্য