kalerkantho


হুইলচেয়ার ম্যান: যুদ্ধাহত আফগান শিশুর সৃষ্ট সুপারহিরো (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মে, ২০১৮ ১৭:৫৯



হুইলচেয়ার ম্যান: যুদ্ধাহত আফগান শিশুর সৃষ্ট সুপারহিরো (ভিডিও)

মোহাম্মাদ সাঈদ এবং নিজের কমিকস 'হুইলচেয়ার ম্যান'

তার নাম মোহাম্মাদ সাঈদ। আফগানিস্তানের মানুষ তিনি। তখন বাল্যকাল। আফগান যুদ্ধে বোমার আঘাতে চলাফেরার ক্ষমতা হারান তিনি। বাবা কোনমতে হাসপাতালে নিলেন তাকে। সেখানেই ফেলে আসেন। কিন্তু বাবা সেই যে গেলেন, আর ফিরে আসেননি। হুইলচেয়ারে স্থান হয়েছে তার। বিশ্বের সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রিতে সব সময়ই সুপারহিরোদের জয়-জয়কার। এবার তিনি নিজের জীবন থেকে গল্প নিয়ে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কোনো সুপারহিরোর চরিত্র তৈরি করছেন। 

সাঈদ জানালেন, তখন আমার বয়স মাত্র ৬। বাবা-মা কেউ নেই। তাই তখন থেকেই নিজের দেখাশোনা নিজেই করতে থাকি। কিন্তু যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তার। তাই ওই হাসপাতালেই থাকলেন ৭ বছর। চলতে তো হবে। পয়সা দরকার। সেখানে মোবাইল ঠিক করার কাজ শিখলেন এবং শুরু করে দিলেন। 

অবশেষে কপাল খুলল তার। সেখানকার এক আমেরিকান সেবিকা তাকে দত্তক নিলেন এবং বোস্টনে নিয়ে গেলেন। বাবা ফেলে আসার পরের সাত বছর আমার কোনো পরিবার ছিল না, জানালেন সাঈদ। বললেন, এখন তিনিই আমার বাবা-মা। এটা দারুণ এক অনুভূতি। 

মেরুদণ্ডের হাড়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে তার। এই ছেলেটির প্রাণশক্তিই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। 

এবার হুইলচেয়ার বিষয়ে কিছু বললেন। জানালেন, হুইলচেয়ার যারা বানায়, তাদের জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। তাই তিনি নিজেই এসব জিনিস বানাতে শুরু করলেন। যারা পঙ্গু তারাই তো হুইলচেয়ার ব্যবহার করে। আর তাদেরকে তিনি অন্যভাবেও উৎসাহিত করতে চান। আসলে এই মানুষগুলোর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন দরকার। এই মানুষগুলো যেন সবসময়ই অন্যদের ওপর নির্ভরশী। সেই ধারণার পরিবর্তন দরকার। 

নতুন ধারণা খেলে গেলো তার মাথায়। তিনি বানালেন 'হুইলচেয়ার ম্যান' নামের এক সুপারহিরো চরিত্র। বললেন, এই কমিক চরিত্র বানিয়েছি আমার জীবনের গল্পের ওপর ওপর ভিত্তি করে। 

হুইলচেয়ার ম্যান একজন অভিবাসী। অন্যদেশ থেকে ভিনদেশে এসেছেন। টিনএজার। তার ধর্ম ইসলাম। তার সুপারপাওয়ারগুলোর উল্লেখযোগ্যটি হলো, কোনো অপরাধী তার অপরাধ সংঘটনের আগে যা চিন্তা করে, সুপারহিরো তাই দেখতে পান। 

দ্বিতীয় কমিক বইয়ে সুপারহিরো যান আফগানিস্তানে তার বোনকে খুঁজতে। বিমানবন্দরে এমন একজনের সঙ্গে তার দেখা যায় যিনি নিজেই নিজেকে উড়িয়ে দিতে যাচ্ছিলেন। এসব কার্যকলাপ আসলে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। সাঈদ হুইলচেয়ার ম্যানকে আঁকিয়েছেন একজন শিল্পীর সতায়তায়। 

সাঈদ চান, হুইলচেয়ারের মানুষগুলো সমাজের অন্ধকার অংশ থেকে বেরিয়ে আসুক। কারণ, এই সমাজকে তারাও অনেক কিছু দিতে পারে। 

সূত্র: বিবিসি 


মন্তব্য