kalerkantho


নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মে, ২০১৮ ১৮:১৪



নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন

নিপাহ ভাইরাস আবারো ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতের কেরালায় এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। এর মধ্যে ৩১ বছর বয়সি এক নার্সও আছেন, যিনি এক ভাইরাস আক্রান্তকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন।

নিপাহ ভাইরাস কী?
নিপাহ ভাইরাস খুবই সাম্প্রতিক একটি সংক্রামক রোগ। সাধারণত যেসব বাদুড় ফল খায়, তাদের থেকেই পশুপাখি ও মানুষের মধ্যে ছড়ায় এটি। ১৯৯৮ সালে এটি মালয়শিয়ার সুঙ্গাই নিপাহ গ্রামে প্রথম চিহ্নিত হয়। এক বছরের মধ্যে এই রোগ প্রথমে শূকর ও পরে ৩০০ লোকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ১০০ জন মারা যান। মহামারী রোধে লাখ লাখ শূকর মেরে ফেলা হয়।

কীভাবে ছড়ায় নিপাহ?
সম্প্রতি দেখা গেছে, শুধু বাদুড় থেকেই নয়, ভাইরাস আক্রান্ত মানুষ ও গৃহপালিত পশু, যেমন গরু, শূকর ইত্যাদি থেকেও ছড়ায়। এমনকি ভাইরাস আক্রান্ত ফল থেকেও ছড়াতে পারে নিপাহ। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে খেজুরের রস খেয়ে অনেকেই আক্রান্ত হয়েছিলেন এ রোগে। গবেষণা বলছে, বাদুড়ের মুখের লালা ও মূত্র থেকেই খেজুরের রস দূষিত হয়েছিল। কেরালায় সম্প্রতি এক পরিবারের কুয়োর মধ্যে মৃত বাদুড় থেকে ছড়ায় নিপাহ ভাইরাস।

এই রোগের আলামত কী?
নিপাহ ভাইরাসের কারণে মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়, যাকে বলা হয় এনসেফেলাইটিস। গবেষকদের মতে, আক্রান্ত হবার তিন পর থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়া শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে জ্বর, বমি ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পরের এক দুই দিনের মধ্যেই একজন কোমায় চলে যেতে পারেন, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০ ভাগ আক্রান্তই শেষ পর্যন্ত মারা যান।

চিকিৎসা কী?
এখন পর্যন্ত মানুষ বা পশুপাখির জন্য নিপাহ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। একমাত্র চিকিৎসা হলো উপসর্গগুলো রোধ করা ও নিবিড় পরিচর্যায় রাখা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হয়, যেন তা না ছড়ায়।

নিজেকে রক্ষা করবেন কীভাবে?
আপনার এলাকায় যদি এই রোগে কেউ বা কোনো পশু আক্রান্ত হয়, তাহলে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। সেখানকার খেজুর ও এর কাঁচা রস, এমনকি অন্যান্য কাঁচা ফল খাওয়া থেকেও বিরত থাকুন।

-ডিডাব্লিউ


মন্তব্য