kalerkantho


অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়েরির সেই দুই পাতায় 'ডার্টি জোকস'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মে, ২০১৮ ১০:৪০



অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়েরির সেই দুই পাতায় 'ডার্টি জোকস'

ছবি অনলাইন

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির হলোকাস্টের শিকার কিশোরী অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়েরির দুটি পাতা বাদামি কাগজ দিয়ে ঢাকা ছিল। সম্প্রতি সে দুটি পাতা আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় উন্মোচিত করেছেন গবেষকরা।

ইহুদি কিশোরী অ্যানার পরিবার আত্মগোপনে থাকার সময় ওই ডায়েরিতে দৈনন্দিন ঘটনা লিখে রাখতেন। এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চলমান পরিস্থিতি, তার পরিবারের অবস্থা ও অ্যানার নিজের অনুভূতির কথা লেখা আছে। পরে একটি নাৎসি ক্যাম্পে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে অ্যানা মারা যান।

তার সেই ডায়েরি পরবর্তীতে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। একে পরবর্তীতে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো।

১৩ বছর বয়সে একান্ত ব্যক্তিগত লেখা গোপন রাখতেই পাতা দুটি বাদামি কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখেন অ্যানা। তবে নতুন ইমেজিং প্রযুক্তির বদৌলতে এর পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা।

লুকানো পাতা দুটিতে  ‘ডার্টি জোকস’ এবং যৌনতা নিয়ে চিন্তা-ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে। যুদ্ধের পর অ্যানার বাবা তার ডাইরি প্রকাশ করেন, যা ইহুদিদের উপর নাৎসি বাহিনীর চরম অত্যাচারের প্রমাণপত্র হিসেবে জগৎজুড়ে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

একটি পৃষ্ঠার ওপর কাটাকাটি করে বেশ কয়েকটি প্যারা এবং যে চারটি ‘ডার্টি জোকস’ জানতেন সেটি লিখেছিলেন অ্যানা।

পাতা দু’টিতে যৌন শিক্ষা সম্পর্কিত লেখা ছাড়াও অন্য কাউকে এ সংক্রান্ত কথা বলা নিয়ে নিজের কল্পনা এবং পতিতাদের নিয়ে বাবার কাছ থেকে শোনা কথাও লিখেছিলেন অ্যানা।

ডায়েরিতে লেখা একটি কৌতুক হচ্ছে, ‘জার্মান ভেরম্যাচ মেয়েরা কেন নেদারল্যান্ডসে এসেছে জানেন? সেনাদের গদি হতে।’

এছাড়া তিনি লিখেছেন, ‘কখনো কখনো আমি ভাবি, কেউ আমার কাছে আসবে এবং যৌনতা সম্পর্কে তাকে কিছু বলতে বলবে, আমি কেমন করে সেটা করব? উত্তরটা হচ্ছে...’

প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর অ্যানার পরিবার ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে নেদারল্যঅন্ডের ইন্সটিটিউট অব ওয়ারের হলোকাস্ট অ্যান্ড জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ফ্র্যাংক ভ্যান ভ্রি বলেন,  সাম্প্রতিক উন্মোচিত পাতাগুলো পড়লে যে কেউ তার হাসি আটকাতে পারবেন না। বাড়ন্ত শিশুদের মাঝে এ ধরনের ‘ডার্টি’ জোকস সাধারণ বিষয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।



মন্তব্য