kalerkantho


মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে শিশুটির!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৮ ২০:৪৯



মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে শিশুটির!

বয়স আড়াই বছর। সেই শিশুকে দুই পায়ের মাঝখানে চেপে ধরে আটকানোর চেষ্টা করছেন এক নারী। আর তার কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা চালাচ্ছে শিশুটি।

সে কথা বলতে পারে না। গোঙানি আর কান্নার আওয়াজ বন্ধ ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। এই অসম ধস্তাধস্তির মধ্যেই ওই নারীর হাত ছাড়াতে গিয়ে মেঝেতে ছিটকে পড়ে শিশুটি।

মেঝেতে আছড়ে পড়ে তার মাথা। রক্ত ঝরতে থাকে। এটা কোনো অপহরণের দৃশ্য নয়। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়া এই দৃশ্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের। আর এই নারী একজন থেরাপিস্ট। শিশুর মায়ের অভিযোগ, থেরাপিস্ট চৈতালি মুখোপাধ্যায়ের বেধড়ক মারেই মাথা ফেটে গেছে তার ছেলের।

শিশুপুত্রকে প্রিন্স বক্তিয়ার শাহ রোডের একটি বেসরকারি থেরাপি সেন্টারে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন বেহালার দম্পতি অভিক ও কথাকলি মালাকার। সোমবার ছিল দ্বিতীয় দিন। আড়াই বছরের আদ্রিক প্রথমে যেতে চাইছিল না থেরাপিস্ট চৈতালি মুখোপাধ্যায়ের কাছে। তার পর প্রায় জোর করেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

থেরাপির নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসার সময় মা-বাবাকে থাকতে দেওয়া হয় না। কথাকলিও তাই নীচে রিসেপশনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি তার সে দিনের অভিজ্ঞতার কথা বলেন, আদ্রিক ঢোকার কিছুক্ষণ পর থেকেই থেরাপিস্টের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। তার পর দেখলাম, হঠাৎ রিসেপশনে একটা ফোন এল। তার পরই এক কর্মী ওপরে স্যাভলন আর তুলা নিয়ে দৌড়ায়। দেখে আমার সন্দেহ হয়। আমিও পেছন পেছন যায়। গিয়ে দেখি, আমার ছেলে মেঝেতে পড়ে আছে। মাথার পেছন দিক দিয়ে রক্ত ঝরছে।

সেই অবস্থাতেই স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে আদ্রিককে নিয়ে যান কথাকলি। সেখানে চিকিৎসার সময় ছেলের সঙ্গে কথা বলেই তিনি বুঝতে পারেন, থেরাপিস্ট আদ্রিককে মারধর করেছে। সময় নষ্ট না করে চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই দম্পতি।

তদন্তের শুরুতেই থেরাপি সেন্টার থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। কথাকলির দাবি, ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, কীভাবে আমার ছেলেকে মারধর করছে ওই থেরাপিস্ট। প্রথম থেকেই ওই নারীর কাছে থাকতে চাইছিল না আদ্রিক। ওকে বোঝানোর বদলে উল্টে গায়ের জোরে আড়াই বছরের শিশুকে আটকে রাখছেন চৈতালি।

ওই থেরাপি সেন্টারের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য জানাতে চাননি।

অভিযোগ পাওয়ার পরই ফুটেজ খতিয়ে দেখে, মঙ্গলবার সকালে চৈতালিকে আটক করে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। গোটা ঘটনায় এখনো স্তম্ভিত কথাকলি।

তিনি বলেন, এখনো আদ্রিক সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এখনো ওর চোখে-মুখে ভয়। এর পর অন্য কোথাও চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাবো কোন সাহসে?



মন্তব্য