kalerkantho


বেলফোর ঘোষণা, ফিলিস্তিনের দুর্ভোগের শুরু যেখানে (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৮ ১৫:৪৪



বেলফোর ঘোষণা, ফিলিস্তিনের দুর্ভোগের শুরু যেখানে (ভিডিও)

অতীতে অধিকাংশ এলাকা ফিলিস্তিনের হাতে থাকলেও বেলফোর ঘোষণার পর দখল হতে হতে এখন অতি সামান্য অংশই আছে ফিলিস্তিনিদের হাতে। মানচিত্রে সবুজ অংশ ফিলিস্তিনের, সাদা অংশ ইসরায়েলের।

ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ফিলিস্তিনে ইহুদি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য সমর্থনের নিশ্চয়তা এই বেলফোর ঘোষণা। এটি মূলত  ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের একজন নেতা ব্যারন রথচাইল্ডের কাছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলুফোরের লেখা একটি চিঠি।

ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে। ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন ইহুদি আন্দোলনের নেতা ব্যারন রথসচাইল্ডকে।

এ ঘোষণার পর থেকে ক্রমে ইহুদিরা সে অঞ্চলে ইসরায়েল রাষ্ট্র্র গঠন করে তাদের ভূখণ্ড বৃদ্ধি করতে থাকে। তবে ফিলিস্তিনিরা ক্রমে ভূখণ্ড হারাতে থাকে। এখনও সে প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ইহুদীদের কাছে ব্রিটেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ফিলিস্তিনের জমিতে তাদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ করে দিবে। যদিও রোমান সময় থেকে ইহুদিদের ছোট্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী সে জায়গায় বসবাস করতো।

বেলফোর ঘোষণা তৈরি করা হয় ২ নভেম্বর ১৯১৭ তারিখে। তার এক সপ্তাহ পর ৯ নভেম্বর ১৯১৭ চিঠিটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ‘বেলফোর ঘোষণা’ পরবর্তীতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সাথে সেভ্রেস শান্তি চুক্তি ও ফিলিস্তিনের মেন্ডেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মূল কপিটি ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে ব্রিটেন। ১৯১৭ সালে থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৩৩ সালের পর থেকে জার্মানির শাসক হিটলার ইহুদিদের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেন। জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদি অভিবাসী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আসতে থাকে। তখন ফিলিস্তিনি আরবরা বুঝতে পারে যে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। ফিলিস্তিনি আরবরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্রোহ করে। কিন্তু আরবদের সে বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করেছে ব্রিটিশ সৈন্যরা।

১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দু'টি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। একটি ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটি আরবদের জন্য। তবে আরবরা সে এলাকার সংখ্যাগুরু হওয়ার পরেও কম ভূমি দেওয়ায় সে সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। এরপর নানা ঘটনায় ক্রমে ইসরায়েলিদের কাছে ভূমি হারাতে থাকে ফিলিস্তিন। এখন খুব কম ভূমিই অবশিষ্ট আছে।

ভিডিওতে দেখুন আরো কিছু তথ্য-



মন্তব্য