kalerkantho


ছেলে সেজে ১০ বছর পার আফগান কন্যার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:৪৩



ছেলে সেজে ১০ বছর পার আফগান কন্যার!

এক দশকেরও বেশি সময় আফগানিস্তানের এই তরুণী বাবা-মায়ের ইচ্ছায় ছেলে সেজে রয়েছেন। সিতারা ওয়াফাদার বাবা-মার কোনো পুত্রসন্তান নেই। সে কারণে সিতারাকেই জোর করে ‘ছেলে’ সাজিয়ে রেখেছেন।

পাঁচ বোন। কোনো ভাই নেই। কাদামাটির চার দেওয়ালের মধ্যে বাস। আফগানিস্তানের পশ্চিমের প্রদেশ নানগারহারে থানকে সিতারারা।

সেখানকার প্রথা ‘বাচা পোশি’ অর্থাৎ মেয়েকে ছেলে সাজিয়ে রাখা। আর ছেলে-রূপী মেয়ে পরিবারের যে কোনো ছেলের মতোই সব কাজ করতে পারে। আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী ছোট এই প্রদেশে মেয়েরা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি কোণঠাসা।

যেসব পরিবারে উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো পুত্রসন্তান নেই, তাদের মধ্যেই এই প্রথার চল রয়েছে। তারা মেয়েকে ছেলে সাজিয়ে ভাবেন, ‘ছেলের মতো’ দায়িত্ব পালন করবে সে।

তার চেয়েও বড় কথা, পরিবার ভাবে ছেলে সাজলে আর সন্তানকে হেনস্থার মুখে পড়তে হবে না। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক বারইয়ালাই ফেতরাত জানান, বাচা পোশি একেবারেই আফগানিস্তানের রক্ষণশীল এলাকার প্রথা।

সিতারার বয়স এখন ১৮ বছর। সকাল সকাল ব্যাগি শার্ট এবং প্যান্ট পরে বেরিয়ে পড়েন। খয়েরি ছোট চুল কখনো কখনো ঢেকে নেন স্কার্ফ দিয়ে। গলাটা যথাসম্ভব ভারী করে কথা বলার চেষ্টা করেন যাতে কেউ বুঝে না ফেলে!

দরিদ্র পরিবার তার। তাই ইট তৈরির কারখানায় সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করেন। আট বছর বয়স থেকে এই রুটিন সিতারার। চামড়া পুড়ে এখন বাদামি হয়ে গেছে। বৃদ্ধ বাবাও যান তার সঙ্গে।

সিতারা বলছিলেন, আমি কখনো ভাবি না যে আমি মেয়ে! বাবাও বলেন, সিতারা আমার বড় ছেলের মতো। কারো কারো অন্ত্যেষ্টিতেও যাই বাবার সঙ্গে। মেয়ে হলে এই সুযোগ কখনোই হতো না তার। সিতারার বোনেরাও ছোটবেলায় যেত কারখানায়। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে তারা আর যায় না। স্কুলের মুখ দেখেনি কেউই।

তবে বয়ঃসন্ধির পরে অবশ্য ছেলে সাজা অনেক মেয়েই ফিরে আসে নিজের জীবনে। কিন্তু ব্যতিক্রম সিতারা। তিনি এখনো ছেলে সেজেই আছেন। নয়তো কারখানায় তাকে ভীষণ ঝামেলায় পড়তে হবে বলে দাবি তার।

সিতারা বলেন, ওখানে কেউ বোঝে না, আমি মেয়ে। যদি বোঝে ওদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোনো মেয়ে কাজ করছে, তাহলে আমার কী হবে কেউ জানে না। অপহরণও করতে পারে ওরা!

তার আর কোনো উপায়ও নেই। পাঁচশটি ইট তৈরি করে একশ ৬০ আফগানি (দু’ডলারের সামান্য বেশি) মেলে। কারখানা মালিক আর আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ২৫ হাজার আফগানি ঋণ রয়েছে। মায়ের চিকিৎসায় অর্থ শেষ। তাই কারখানার কাজ ছাড়লে চলবে না সিতারার।

কিন্তু দীর্ঘ সময় ছেলে সেজে থাকতে থাকতে লিঙ্গ-পরিচয় নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয় না? অধ্যাপক ফেতরাত বলেন, পুরুষ-প্রধান সমাজে এমন সঙ্কট হতে বাধ্য। এর পরে এই সব মেয়েরা বাধ্য বৌয়ের ভূমিকায় মানিয়ে নিতে পারে না। অবসাদের শিকার হয়।



মন্তব্য