kalerkantho


এক বধিরের সঙ্গে পাখিদের ভাব বিনিময়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:০৯



এক বধিরের সঙ্গে পাখিদের ভাব বিনিময়!

সহকর্মীদের ভাষা না শূনতে পারলেও পাখিদের ভাষা তিনি ঠিকই বোঝেন

ছোটবেলা থেকেই কানে শোনেন না তিনি। কিন্তু থেমে থাকেননি। রাজালি বিন মোহামান হাবিদিন পাখিদের সঙ্গে অনন্য সখ্য গড়ে তুলেছেন। সিঙ্গাপুরের জুরং বার্ড পার্কের অন্য সব কর্মী তাকে 'বার্ড হুইসপারার' নামেই ডাকেন। 

শিশু বয়সে একটা রোগ হয়েছিল তার। আর ওটার ছোবলেই ৮০ শতাংশ শ্রবণশক্তি খোয়া যায় তার। আজ থেকে দুই যুগ আগে পাখিদের এই পার্কে কাজ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে তার গুণে ডেপুটি হেড এভিয়ান কিপার পদে আসীন হয়েছেন।  

এখানকার পাখিদের সঙ্গে তার অনেক ভাব। অনেকেই বিশ্বাস করেন, পাখিদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। আওয়াজ, মুখ এবং দেহের নানা ভঙ্গিমায় তিনি পাখিদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রত্যেক পাখির আচরণ এবং অভ্যাস তার মুখস্থ। তিনিই কেবল জানেন পাখিদের ভাষা এবং তাদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়। 

জানালেন, এরা সবাই আমার খুব কাছের বন্ধু। বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ আর নড়াচড়া দিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয় আমার। 

রবার্ট রেডফোর্ড অভিনীত হলিউড মুভি 'দ্য হর্স হুইসপারার' এর আদলে সহকর্মীরা সবাই তার নাম দিয়েছেন 'বার্ড হুইসপারার'। তারা বলেন, তিনি বিস্ময়করভাবে পাখিদের সঙ্গে মিশে গেছেন। এখানে আমাদের কেউ তেমনটা পারে না। 

অ্যাসিস্টেন্ট কিউরেটর অ্যাঞ্জেলিন লিম বলেন, কোনো পাখির দিকে একবার তাকিয়েই তিনি বুঝতে পারেন ওটা ঠিক আছে কি না। 

কাজেই সহকর্মীদের সঙ্গে রাজাইলের যোগাযোগ স্থাপনের কাজটা অনেক কঠিন। কিন্তু পাখিদের সঙ্গে নয়। তবে নিজের এই মন্ত্র তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন সহকর্মীদের মাঝে। তিনি কোন আওয়াজ এবং ভঙ্গীতে কী বোঝান সে শিক্ষা দেন মাঝে মধ্যেই। পাখিদের সঙ্গে সহজেই ভাষা বিনিময় করেন তিনি। কিন্তু সহকর্মীদের লিপ রিডিং করে তারপর জবাব দিতে হয়। 

পার্কটি পাখিদের বিশাল এক অভয়ারণ্য। এখানে ৫ হাজার পাখি রয়েছে। প্যারোট থেকে শুরু করে হর্নবিল সবই আছে। তিনি প্রতিদিন পাখিদের জন্যে তালের বানানো খাবার নিয়ে আসেন। পাখিরা তাকে ঘিরে ধরে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইজের প্যারোট হায়াসিন্থ ম্যাকাউ আগ্রহভরে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। 

বিশাল এক পাখি অনায়াসে তার হাতে এসে বসে এবং তার আঙুল কামড়াতে থাকে। এগুলো পাখিদের বিশ্বাস আর নির্ভয় থাকার নিশানা। সূত্র : এনডিটিভি 


মন্তব্য