kalerkantho


ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে তসলিমা; তিনি ঠিক কী চান?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৩৪



ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে তসলিমা; তিনি ঠিক কী চান?

ছবি: তসলিমা নাসরিনের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

গত কয়েকদিন ধরেই প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের একটি বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বেশ শোরগোল চলছে। বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত এই লেখিকা মৃত্যুদণ্ডকে ধর্ষণ থামানোর উপায় বলে মনে করছেন না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সুস্থ চিন্তার বেশিরভাগ মানুষ যখন ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে, সেখানে একজন নারী অধিকার কর্মী হয়েও কেন ফাঁসি চান না তসলিমা?

এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই সোশ্যাল সাইট ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দুটি পোস্ট করেছেন তসলিমা। আজ সোমবার প্রথম পোস্টটিতে তিনি লিখেছেন, 'আমি মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে। যে অপরাধই যে লোকই করুক না কেন, কারো মৃত্যুদন্ড হোক চাই না। যেইনা বললাম, অমনি খবর করা হলো 'তসলিমা বলেছেন ধর্ষকরাও মানুষ, তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে'। আমি প্রায়ই বলি মানুষ জাতের মতো নিকৃষ্ট জাত আর নেই। তাহলে মানুষ তাও আবার ধর্ষক -- তাদের প্রতি আমার এত দরদ উথলে উঠলো কেন? সারা জীবন ধর্ষণের বিরুদ্ধে লিখলাম, আর এখন এক হেডলাইনেই আমার লড়াই উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা। মিডিয়ার কী পাওয়ার! বাপরে বাপ!’

'মৃত্যুদন্ড ছাড়া আর কি শাস্তি নেই দুনিয়ায়? সেই শাস্তি দাও অপরাধীকে। সবচেয়ে ভালো হয় , মানুষকে যদি শিক্ষিত আর সচেতন করে গড়ে তোলা যায়। অপরাধ যে কারণে হচ্ছে, সেই কারণটাকে যদি নির্মূল করা যায়। এই কাজটি কেউ করতে চায় না। সবাই সোজা পথটি ধরতে চায়। সোজা পথটি হলো, অপরাধীকে মেরে ফেল। চোখের বদলে চোখ নিয়ে নাও। খুনের বদলে খুন। এর নাম কিন্তু বিচার নয়, এর নাম প্রতিশোধ। এটি করে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া যায়। জনগণ ভাবে অপরাধ দমনে সরকার বিরাট এক ভূমিকা নিয়েছে।'

'অপরাধীর জেল হলে এমন তো হতে পারে, সে ভালো মানুষ হয়ে জেল থেকে একদিন বেরোবে। নিরপরাধকেও তো কত মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। জেলে থাকাকালীন যদি প্রমাণ হয় মানুষটি নিরপরাধ, তখন অন্তত ভুল শোধরানোর সুযোগ পাওয়া যায়।'

'১৪০ টি দেশ মৃত্যুদন্ড বিলুপ্ত করেছে। বাকি দেশগুলোও করবে। সবচেয়ে কম অপরাধ কোন দেশে হয়? যে দেশগুলোয় মৃত্যুদন্ড নেই। সবচেয়ে বেশি অপরাধ? যে সব দেশে মৃত্যুদন্ডের আইন আছে। অপরাধীকে মৃত্যুদন্ড দিলে কি অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে মানুষ? প্রমাণ পাওয়া গেছে, একেবারেই না। খুনীকে মৃত্যুদন্ড দিলে কি মানুষ আর খুন করবে না? ঠিক করবে। কিন্তু সমাজের মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুললে খুনখারাবির সংখ্যাটা কমে যায়।'

'একই রকম ধর্ষককে মৃত্যুদন্ড দিলেও পুরুষেরা ধর্ষণ বন্ধ করবে না। পুরুষ তখন ধর্ষণ বন্ধ করবে যখন মেয়েদের ধর্ষণের বস্তু হিসেবে তারা আর দেখবে না। অলরেডি এই নষ্ট নারীবিদ্বেষী পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাদের শিখিয়ে ফেলেছে যে মেয়েরা ধর্ষণের বস্তু, এই শেখাটা মাথা থেকে দূর করতে হবে। ব্যস, তাহলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে। নতুন করে কাউকে আর নতুন কিছু শেখাতে হবে না, শেখাতে হবে না যে মেয়েরাও মানুষ, তাদের শ্রদ্ধা কর ব্লা ব্লা।'

এই পোস্টের ঘণ্টা দুয়েক পর আরেকটি পোস্টে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বিদ্রুপাত্মক একটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, 'যে ব্যাডারা সারা জীবন মেয়েদের বিরুদ্ধে যা তা কথা কইয়া কাটায়, ধর্ষণের জন্য মেয়েদের পোশাকরে দুষে, রাইত বাড়লে মেয়েদের ইনবক্সে নিজের ইয়ের ছবি পাঠায়, আর ধর্ষণের শাস্তির কথা উঠলেই সোশ্যাল মিডিয়া ফাডাইয়া ফালায় চিল্লাইয়া -- মৃত্যুদন্ড দেও, ফাঁসি দেও, *** কাইট্যা ফালাও, এইডা কাইট্যা ফালাও,ওইডা কাইট্যা ফালাও -- ওদেরে আমার ভয়াবহ ধর্ষক বইলা সন্দেহ হয়।'

ওদের কালচারটা হইলো ভায়োলেন্সের কালচার। ওরা বেশি চিল্লায়, কারণ, ওরা দেখাইতে চায় যে ওরা ভালো লোক, ওরা ধর্ষণ করে না। ওই শালারা মনে হয় সুযোগ পাইলেই আগে চুপচাপ ধর্ষণডা সাইরা লয়।ধর্ষণ তো যৌনতা না, ধর্ষণ তো ভায়োলেন্স। ভায়োলেন্সই তাদের শরীর আর মনরে আরাম দেয়।'



মন্তব্য