kalerkantho


কোথায় জাকারবার্গ?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৮ ১২:৪২



কোথায় জাকারবার্গ?

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ঝামেলায় পড়তে চলেছে ফেসবুক। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ফেসবুকের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনি ক্যাম্পেইন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাম্ব্রিজ অ্যানালিটিকার দ্বন্দ্বে বড় কিছু ঘটবে বলেই মনে হচ্ছে। 

ফেসবুকের ডেটা সিকিউরিটি চিফ অ্যালেক্স স্টামোসকে সরানোর যে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে তা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ক্রমশ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, ফেসবুকের মতো এমন মেগা কম্পানিতেও কি স্বচ্ছতায় গলদ রয়েছে? 

প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লন্ডন-ভিত্তিক ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করেছিল ট্রাম্পের প্রচারশিবির। অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকের পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়ে অপব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি তদন্ত শুরু হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, যুক্তরাজ্যেও ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা মূলত একটি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। ফেসবুকের পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়ে অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে ফেসবুকের নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রশ্ন অবশ্যই মার্ক জাকারবার্গের দিকেই। ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ফেসবুককে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে- এমন অভিযোগ ওঠার পর জাকারবার্গ তাকে 'পাগলাটে আইডিয়া' বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু ঘটনা আরো খারাপের দিকেই যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

ফেসবুক চোখের পলকে ফুলে-ফেঁপে ওঠে তার আইডিয়ার কারণে। ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারির একাধিক উপায় উদ্ভাবন করে তারা। আসলে ব্যবহারকারীরা কল্পনাও করতে পারবেন না, ফেসবুক তাদের সম্পর্কে কতটা জানে! তারা প্রত্যেক মানুষের মানসিক অবস্থা, ইচ্ছা, চাহিদা ইত্যাদি বুঝে তার কাছে বিজ্ঞাপন পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ফেসবুক জানে কোন মানুষ কোন পণ্যটা কিনতে চাইবেন। এভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পণ্য বিক্রির অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ফেসবুক। 

ফেসবুক এতটাই প্রভাবশালী যে স্কটিশ সাংবাদিক এবং কলামিস্ট হুগো রিফকাইন্ড টাইমস-এ লিখেছেন, ফেসবুক বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং ক্ষমতাধর সোশাল মিডিয়া। এটা পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে রাজনীতি পর্যন্ত বিক্রি করতে সক্ষম। মানুষের আচার-ব্যবহার পর্যন্ত বদলে দিতে স্মার্ট মেসেজের ব্যবহার করে তারা। নির্দিষ্ট প্রার্থীকে যেন মানুষ ভোট দেয়, তার ব্যবস্থা রয়েছে ফেসবুকেই। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য উভয় দিক থেকে শুরু হয়েছে জোর তদন্ত। এ অবস্থায় মার্ক জাকারবার্গকে অবশ্যই যুক্তিযুক্ত বক্তব্য এবং পর্যাপ্ত প্রমাণপত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। হয়তো তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে চাইবেন না জাকারবার্গ। কিন্তু নিদেনপক্ষে জনসমক্ষে কোনো বিবৃতি তো দিতেই হবে। এ ক্ষেত্রে ব্লগ পোস্টে বড় কোনো পোস্ট দিয়ে পোষাতে পারবেন না তিনি। 

তাহলে এখন কোথায় আছেন জাকারবার্গ? কোনদিকেই বা যাচ্ছেন তিনি? কোন পথেই বা এগোবেন? তিনি যাই করেন না কেন, যে অভিযোগ উঠেছে তার যথাযথ জবাবদিহি তাকে করতেই হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আ্ইপ্রণেতাদের ডাকে জাকারবার্গ সাড়া দেননি। কিন্তু এভাবে তিনি বেশি সময় এড়িয়ে চলতে পারবেন না। প্রস্তত হয়েই আসতে হবে তাকে। নয়তো কী হবে তা বলা যায় না।
সূত্র : বিবিসি 



মন্তব্য