kalerkantho


মিনুরও ঘর আছে; ঘর নেই নির্বাসিতার...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৮ ১৯:৩৯



মিনুরও ঘর আছে; ঘর নেই নির্বাসিতার...

ছবি: ফেসবুক

তার দেশ থেকেও যেন নেই; ঘর থেকেও নেই। বছরের পর বছর এ দেশ ও দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার অপরাধ- কুসংস্কারের অন্ধকুপে কলম চালিয়ে মানবতার জয়গান করা। এ জন্য দেশান্তরী হতে হয়েছে তাকে। দিন কাটে উগ্র ধর্মান্ধদের মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে। তবু তার কলম থেমে নেই; থেমে নেই মিনুর প্রতি তার ভালোবাসা।

মিনু একটি বিড়ালের নাম। বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের আদরের বিড়াল মিনু। ১৫ বছর ধরে এই প্রতিবাদী লেখিকার সঙ্গী তিনি। একটা বিড়াল সাধারণত এত বছর বাঁচে না। কিন্তু মিনু বেঁচে আছে তসলিমার আদরে। দেশান্তরী লেখিকার যন্ত্রণা নিয়ে নির্মিত চুর্ণী গাঙ্গুলীর মুভি 'নির্বাসিত' তে দেখা গেছে মিনুর একটি চরিত্র।

মিনুকে নিয়েই আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়েছেন তসলিমা। লিখেছেন মিনুর প্রতি তার ভালোবাসার কথা। তার জন্য একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কথা।

বিখ্যাত এই লেখিকা লিখেছেন, 'এটা মিনুর ঘর। এই ঘরটিকেই ওর জন্য সাজিয়ে দিয়েছি। ওর প্রাইভেসি দরকার ভীষণ। আমার ঘরে ও বেশিক্ষণ টিকতে পারে না, কম্পিউটারের, ফোনের, ফ্যানের,এসির আর টিভির শব্দ ওর অসহ্য লাগে, সে কারণে ও আলাদা ঘর চেয়েছে, আলাদা ঘর পেয়েছে। গেস্ট এলে ফ্লোরিং করে, ওর ঘরে কেউ ভাগ বসাক, সেটি ও চায় না।'

'১৫ বছর মিনু রাজকন্যার জীবন যাপন করছে, তার আগে কয়েক মাস ছিল ও কলকাতার রাস্তার একটা বেড়াল। এখন ওর খাবার খেলনা বিদেশ থেকে আসে। এত বছর কোনও সাধারণ বেড়াল বাঁচে না। মিনু বেঁচে আছে কারণ আদর পাচ্ছে, সম্মান পাচ্ছে, পুস্টিকর খাবার পাচ্ছে। অসুখ বিসুখে ডাক্তার পাচ্ছে, হাসপাতাল পাচ্ছে। তার বেড়ালাধিকার কেউ লঙ্ঘন করছে না।'


মন্তব্য