kalerkantho


বাঘ-ভয়ে বন্ধ গাড়ি, প্রাণ গেল দু'জনের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ২৩:০০



বাঘ-ভয়ে বন্ধ গাড়ি, প্রাণ গেল দু'জনের

বাঘ ধরতে পাতা হয়েছিল ফাঁদ। কিছুটা দূরেই সারারাত দাঁড়িয়ে ছিল বন দপ্তরের কর্মীদের গাড়ি। ভোরে সেই গাড়িতেই মিলেছে দুই বনকর্মীর মরদেহ। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও নেই। যেন ঘুমের মধ্যে নেমে এসেছে চিরঘুম!

মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ে নয়াবসত রেঞ্জের হামারগেড়্যা জঙ্গলের এ ঘটনায় আরো জটিল হয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য। বাঘের দেখা নেই, অথচ তাকে ধরতে গিয়ে মরতে হলো দু’জনকে। ভয়ই যেন কেড়ে নিল দু’টি প্রাণ।

মৃত দামোদর মুর্মু (৩৮) ছিলেন ফরেস্ট গার্ড, আর অমল চক্রবর্তী (২৮) বন দপ্তরের বিশেষ ওই গাড়ি 'ঐরাবত' এর চালক।

পুলিশ ও বন দপ্তর বলছে, সোমবার রাত ৩টা পর্যন্ত অমল ও দামোদর বন সুরক্ষা কমিটির পাহারাদারদের সঙ্গে গাড়ির বাইরে ছিলেন। ৩টা ১৫ নাগাদ ঘুমাবেন বলে গাড়িতে ওঠেন।

বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা বলছেন, গাড়ির সব দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন দু’জনে। ভেতরে জেনারেটর চলছে। গাড়ির সামনে-পেছনে আলো জ্বালাতেই চলছিল জেনারেটর।

ধারণা করা হচ্ছে, ডিজেলের ধোঁয়ার কার্বন ডাই অক্সাইডে ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।

মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা নাগাদ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা দেখেন, দিন হয়ে গেলেও 'ঐরাবত' এর আলো নেভেনি। গাড়ির কাছে গিয়ে ডাকাডাকিতেও সাড়া না মেলায় খবর দেওয়া হয় বনকর্তাদের।

শাবল নিয়ে এসে দরজা ভাঙতেই সকলে অবাক। ভেতরে ধোঁয়া, গাড়ির আসনে আর মেঝেতে পড়ে দামোদর ও অমলের মরদেহ। পুলিশ এসে তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যালে পাঠিয়েছে।



মন্তব্য