kalerkantho


বিপাশার লাল টিপ এখনো রয়েছে তার ডেস্কটপে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ১০:১০



বিপাশার লাল টিপ এখনো রয়েছে তার ডেস্কটপে

নিহত বিপাশা কোনো একসময় তার ডেস্কটপে এই লাল টিপটি সেঁটে রেখেছিল

বিপাশাকে যারা চিনতো, তার কপালের ওই লাল টিপকেও তর মতো করেই চিনতো লোকে। তার সেই লাল টিপ একটা এখনো রয়ে গেছে অফিসের ডেস্কটপে। কালো মনিটরের বামে ওপরের দিকে বিপাশার একটা লাল টিপ তার মতো করেই হাসছে। কাজের ফাঁকে বা বেখেয়ালে হয়তো ওটা লাগিয়ে রেখেছিল সে। অফিসের ডেস্কটপের ওই টিপটাই এখন সহকর্মীদের কাঁদাচ্ছে। ওটা দেখামাত্র বুকটা হু হু করে উঠছে সবার।

ডেস্কটপে সেঁটে থাকা লাল টিপের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বিপাশার সহকর্মী দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত শুভ্র আইচ মনন। এটাই অফিসে বিপাশার শেষ স্মৃতি। 

সানজিদা হক বিপাশা, ছবিটা কেবলই স্মৃতি

গেলো সোমবার কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় স্বামী-সন্তানসহ না ফেরার দেশে চলে যান বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সহযোগী সমন্বয়ক সানজিদা হক বিপাশা। 

যশোরের মেয়ে বিপাশা। তার স্বামীর রফিক জামানের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী। তিনি এক সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। রিমু-বিপাশা দম্পতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাদের একমাত্র ছেলে অনিরুদ্ধ ধানমণ্ডিবয়েজ স্কুলে কেজি ওয়ানে পড়ে। স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে রাজধানীর শুক্রাবাদে নিজেদের বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকতেন রিমু। 

রবিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে শেষবারের মতো রাজধানীর আসাদ গেটের অফিস থেকে বের হন তিনি। ১৭ মার্চ দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু কোনদিন আর না ফেরার খবর এলো তার। বিপাশার স্বপরিবারে চলে যাওয়ার এ ঘটনায় পুরো অফিস শোকে স্তব্ধ। বিপাশার ডেস্কের আশপাশে প্রতিদিনের মতোই অনেকে আসছেন। শুধু তিনি নেই। আছে শুধু তার একটা লাল টিপ। 



মন্তব্য