kalerkantho


চারটি দেহে বেঁচে রইল আট বছরের শিশুটি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৮ ১৬:৩৩



চারটি দেহে বেঁচে রইল আট বছরের শিশুটি

দুরারোগ্য মস্তিষ্কের অসুখ অকালে কেড়ে নিয়েছে তাঁদের আট বছরের শিশুকন্যাকে। কিন্তু এই নিদারুণ বিপর্যয়ের সময়ও এই দম্পতি ভোলেননি, তাঁদেরই মতো সন্তান হারানোর আশঙ্কায় আকুল বাবা-মাদের কথা। তাই নিজেদের সদ্যমৃত শিশুকন্যার অঙ্গ দান করে আরো চারটি জীবন রক্ষা করলেন মুম্বাইয়ের এক দম্পতি।

মুম্বাইয়ের বান্দ্রার লীলাবতী হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হয় চার্চগেটের বাসিন্দা আট বছরের ছোট্ট মেয়েটি। তাকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করা হলেও গত সোমবার মৃত্যু হয় তার। তার বাবা-মা নিজেদের শোক সামলে মেয়েটির শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গ দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

লীলাবতী হাসপাতালের অঙ্গদান সমন্বয়কারী প্রমোদ সিংহে জানান, শিশুটির মৃত্যুর পর আমরা অঙ্গদানের সম্ভাবনাবষিযক দুটি টেস্ট করি। আমরা নিশ্চিত হয়ে শিশুটির পরিবারের সাথে কথা বলি, তাদের বোঝাতে সক্ষম হই অঙ্গদানের সম্ভাবনা সম্পর্কে। শিশুটির পরিবার সচেতন এবং তারা রাজি হয়ে যায় অঙ্গদানের বিষয়ে। এর পর একে একে শিশুটির হৃৎপিণ্ড, দুটি কিডনি, লিভার এবং দুটি চোখ দান করার ব্যবস্থা করা হয়।

মেয়েটির হৃৎপিণ্ডটি প্রতিস্থাপিত হয় মুলুন্দের ফোর্টিস হাসপাতালে ১০ বছরের একটি মেয়ের শরীরে। লিভার ও একটি কিডনি যায় যশলোক হাসপাতালে দুই রোগীর দেহে এবং আরো একটি প্রতিস্থাপিত হয় লীলাবতী হাসপাতালেরই এক রোগীর শরীরে। আর কর্নিয়া দুটি রাখা হয়েছে লীলাবতী হাসপাতালের রোশনি আই ব্যাংক-এ। এই দুটি কর্নিয়া বসানো হবে আলোহীন দুটি চোখে।

সাধারণত শিশুদের অঙ্গ বিকল হলে তা প্রতিস্থাপন করা খুবই কঠিন কাজ। কারণ কোনো শিশু মারা গেলে তার শোকসন্তপ্ত বাবা-মার কাছে সেই সময় অঙ্গদানের কথা বেশির ভাগ সময়ই বলে উঠতে পারেন না চিকিৎসক ও অন্যরা। এই ক্ষেত্রে মেয়েটির বাবা-মা নিজে থেকেই এগিয়ে আসায় রক্ষা পেল চার-চারটি জীবন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস


মন্তব্য