kalerkantho


নিথর বোনের পাশে মুড়ি খাচ্ছেন তিনি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৮ ২৩:১৬



নিথর বোনের পাশে মুড়ি খাচ্ছেন তিনি!

পাশের বাড়ির একজন মুড়ি-চিনি নিয়ে কলিং বেল চাপতেই দরজা খুলে দেন ৪৫ বছর বয়সী এক নারী। ফিসফিস করে বলেন, তার বোন সকাল থেকে কথা বলছে না। নড়াচড়াও বন্ধ!

এ ধরনের এ কথা শুনে সীমা তিওয়ারি নামে ওই প্রতিবেশি পড়ে যান বিপাকে। পরে তার সংবাদের ভিত্তিতেই বাড়িতে আসে পুলিশ।

সীমাকে সঙ্গে নিয়েই পুলিশ চারতলার ফ্ল্যাটে যায়। সেখানে দেখা যায়, শোয়ার ঘরের খাটে পড়ে রয়েছে নিথর দেহ। সেই ঘরের এক পাশে বসেই কয়েক ঘণ্টা আগে দিয়ে যাওয়া মুড়ি খাচ্ছেন মৃতের বড় বোন।

পুলিশ বলছে, মৃত ওই নারীর নাম পুতুল বসাক (৩৮)। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের ধারণা, অপুষ্টিজনিত কারণে মারা গেছেন পুতুল। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কলকাতার লালবাজারে।

শনিবার গভীর রাতে বা রবিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে। জানা গেছে, রেখা, পুতুল ও তাদের আরো এক বোন বাবার সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন।

তাদের বাবা সরকারি কর্মচারি ছিলেন। ১৫ বছর আগে বাবা মারা যান তিনি। ২২ বছর ধরে ওই বাড়িতে থাকলেও কখনোই প্রতিবেশিদের সঙ্গে কথা বলতেন না তারা। নিজেদের মতো থাকতেই পছন্দ করতেন।

দুই বছর আগে ছোট আরেক বোন মারা যান। পুলিশ ওই সময় জানিয়েছে, অপুষ্টিজনিত কারণেই এই মৃত্যু। পরে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিবেশিরা দুই বোনকে দেখভালের দায়িত্ব নেবেন। প্রতিদিন ওই ভবনের তিনতলার দু’টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা খাবার পৌঁছে দিতেন।

রেখা, পুতুলের প্রতিবেশি সীমা জানান, ছোটবোন মারা যাওয়ার পর দুই বোনের মধ্যে ঝগড়া, মারামারি আরো বেড়ে যায়। তাদের ঘর আরো অপরিচ্ছন্ন হয়ে থাকতো। দুর্গন্ধ এড়াতে অধিকাংশ দিন বাইরে থেকে খাবার দিয়েই চলে যেতেন তিনি।

তিনি আরো বলেণ, কয়েক দিন ধরে পুতুল খাবার নিতে বের হতেন না। রেখাই খাবার নিয়ে দরজা বন্ধ  করে দিতেন। তার ভাষায়, বুঝতে পারতাম দু’জনের মানসিক সমস্যা রয়েছে। খাবার ঠিক মতো ভাগ করতে পারবে না। তাই দু’জনকে আলাদা করে খেতে দিতাম। কিন্তু কয়েক দিন পুতুলকে দেখতে পাইনি। যখন দেখলাম মনে হল কঙ্কাল শুয়ে আছে।

তাদের দেখভালের ব্যবস্থা করার জন্য বারবার পুলিশকে জানানো হয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি লিখিতভাবে আনন্দপুর থানায় জানানো হয়। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা করেনি।

লালবাজারর সরকারি একজন কর্মকর্তা জানান, বছর দুয়েক আগে ছোট বোন মারা যাওয়ার পর তাদের মানসিক চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

কিন্তু ওই দুই বোন আপত্তি তোলেন। এমনকি আবাসিকদের একাংশও আপত্তি জানান। তবে রেখা এখন পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। আবাসন সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।



মন্তব্য