kalerkantho


বাঘ লাপাত্তা, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৮ ১৪:০০



বাঘ লাপাত্তা, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাতি

বাঘ গেল কোথায়? জঙ্গলজুড়ে শুধু হাতি। বাঘ ধরার কাজ পণ্ড হওয়ার পথে। বাঘের ছবি তুলতে ৭টি ক্যামেরা বসিয়েছিল বন দপ্তর। তার দুটি গাছের গোড়া থেকে টেনে ফেলে দিয়েছে হাতিরা। একটি ক্যামেরার মেমরি কার্ড পর্যন্ত হাওয়া। গায়েব হয়ে গিয়েছে ডোরাকাটা বাঘবাবাজিও। ছাগলের টোপ দিয়ে খাঁচা পাতাই সার। ফাঁদে পা দেয়নি সে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো ক্যামেরাতেও তার ছবি ধরা পড়েনি। বরং হাতি দখল নিয়েছে লালগড় জঙ্গলের। শনিবার রাতে আমলিয়া থেকে হাতির একটি দল লালগড় থানার পাশ দিয়ে পডিহা জঙ্গলে পৌঁছায়। রবিবার বন কর্মীদের নজরে পড়েছে ভাদুতলা এলাকায় প্রায় ৫০টি হাতির পাল লালগড় জঙ্গলে ঢোকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। সুন্দরবন থেকে আসা প্রশিক্ষিত কর্মীদের বাঘ ধরা মাথায় উঠেছে। সেই কাজে তাঁদের দক্ষতার অভাব নেই বটে।

কিন্তু হাতি মোকাবিলায় যে তাঁরা নিতান্তই অজ্ঞ। হাতির ভয়ে তাঁরা অস্থির। অন্যদিকে, জঙ্গলে বাঘের ভয় থাকলে কি আর কেউ হাতি তাড়াতে যাওয়ার সাহস পান? বন কর্মীই হোক আর হুলা পার্টির সদস্য, হাতি তাড়াতে গিয়ে বাঘের মুখে জান দিতে রাজি নন কেউ। বন কর্তারা বলছেন বটে, এক জঙ্গলে হাতি ও বাঘ থাকার সম্ভাবনা নেই। তাতে আর আশ্বস্ত হচ্ছেন কে? বাঘের ভয়ে যাঁদের কাঠ-পাতা কুড়িয়ে বাজারে বিক্রি করার জীবিকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ঠেকা পড়েছে হাতি তাড়ানোর। 

সকলের প্রশ্ন একটাই, বাঘটা গেল কোথায়। মেদিনীপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ সাহার যেন অসহায় অবস্থা। তিনি বলেন, একদিকে হাতির ভয়, অন্যদিকে বাঘের বিপদ। জটিল সমস্যায় পড়েছি আমরা।

বাঘের খোঁজ লালগড়ে বন কর্মীরা
তিনি জানান, খাসজঙ্গল থেকে ৬টি ও পডিহা থেকে ১১টি হাতিকে ড্রাইভ করে মালাবতীর জঙ্গলে পাঠাতে না-পারলে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। 

অন্যদিকে, বাঘের সন্ধান না-পেয়ে হতাশ সুন্দরবন থেকে আসা বন কর্মীরা। তাঁদের অন্যতম পীযুষ বাড়ুই বলেন, মধুপুর খালের কাছে পুরনো পায়ের ছাপই আছে। নতুন ছাপ নেই। মাটি এখন শুকনো। সেখানে পায়ের ছাপ পড়ছে না। জঙ্গলে শুকনো শালপাতা মাটি ঢেকে দিয়েছে বলে পায়ের ছাপ দেখাই যাচ্ছে না। 

বাঘের টোপ ছাগল দুটিকে কচি পাতা খাইয়ে আবার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে খাঁচায়। বন কর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, লালগড়ে আর বাঘ বসে নেই। সন্ধ্যায় ধেড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সিয়ারবনি গ্রামে বাঘটিকে দেখা গিয়েছে বলে জানা গেছে। বন দপ্তর কিন্তু খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বরং তাদের আশঙ্কা, বাঁকুড়ার সারেঙ্গায় চলে যেতে পারে বাঘ।

সেখানে নাকি জানুয়ারিতে বড় বড় পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছিল। তখন কেউ পাত্তা না-দিলেও এখন সারেঙ্গাতেও সতর্কতা জারি করেছে বন দপ্তর। বন কর্মীরা সন্দিহান, বাঘ খাঁচাবন্দি হতে আসবে কি? 

গ্রামবাসীরা অবশ্য নিঃসন্দেহ, বাঘ গ্রামে ফিরবেই৷ মেলাখেড়িয়ার গণেশ মাহাতো বলেন, মধুপুর খালের মতো পানি এ তল্লাটে আর নেই। পানি খেতে আসবেই। হাতিতে আমাদের ভয় নেই। ভয় বাঘকেই। ভয় তাই কাটার নয় লালগড়ে৷
সূত্র : এইসময়



মন্তব্য