kalerkantho


যেভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে যাচ্ছে সাহায্যের জন্য পাঠানো অর্থ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৩:২৪



যেভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে যাচ্ছে সাহায্যের জন্য পাঠানো অর্থ

ছবি অনলাইন

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য মানবিক সাহায্য পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন দেশ থেকে। আর এসব অর্থ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সন্ত্রাসীদের হাতে। কিন্তু কিভাবে যাচ্ছে এ অর্থ? সম্প্রতি এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই তথ্য।

সোমালিয়ার একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল শাবাব। এরা আল কায়েদার সহযোগী গোষ্ঠী। দারিদ্র্যপীড়ি সোমালিয়ায় বহু বছর ধরেই চলছে প্রচণ্ড খাদ্যাভাব ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। এ অবস্থায় তাদের জন্য সাহায্য না পাঠিয়েও উপায় নেই। কিন্তু এ সাহায্যই চলে যাচ্ছে আল শাবাবের হাতে।

দেশটির বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে আল শাবাব। তারা এসব স্থানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া নিয়মকানুন বলবৎ রেখেছে। বিদেশি সহায়তা দারিদ্র্যদের জন্য পাঠানো হলেও তারা এসবের বিপুল অংশ একপ্রকার জোর করেই হস্তগত করে। যেসব উপায়ে তারা বিদেশি সহায়তা হস্তগত করে তার মধ্যে তিনটি উপায় উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

ট্যাক্স
সোমালিয়ার ভেতরে সংঘাতের কারণে বহু মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে। তাদের ওপর বিভিন্নভাবে ট্যাক্স আরোপ করে সন্ত্রাসীরা। এর মধ্যে রয়েছে তারা যেসব পণ্যদ্রব্য কেনে সেগুলোর ওপর ট্যাক্স। এছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সাহা্য সংস্থা যেসব সহায়তা পাঠায় তার একটি অংশও তারা হস্তগত করে।

চেকপয়েন্ট
আল শাবাব নিয়ন্ত্রণ করে সোমালিয়ার বিশাল এলাকা। আর এ নিয়ন্ত্রণভুক্ত এলাকায় বহু চেকপোস্ট বসিয়েছে তারা। এসব চেকপোস্ট দিয়ে যেসব সাপ্লাই ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে সেগুলোকে টোল দিতে হয় এ পথে চলাচলের জন্য। এক হিসাবে জানা যায়, সন্ত্রাসীদের মাত্র একটি চেকপোস্ট থেকেই প্রতিদিন পাঁচ হাজার ডলার আয় হয়।

নিরাপত্তা
সোমালিয়া কাজ করছেন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। তাদের নিরাপত্তাহীনতার মাঝে কাজ করতে হয়। তবে আল শাবাবকে কিছু টাকা দিলেই তারা বিদেশিদের কোনো ক্ষতি হবে না এমন নিশ্চয়তা দেয়। এ নিশ্চয়তা নেওয়ার জন্য প্রতি মাসে আল শাবাবকে বিদেশিরা ২৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়ে থাকে। এ অর্থও সন্ত্রাসীদের আয়ের অন্যতম উৎস।

অনেক বিশ্লেষকই বলছেন, এসব অবৈধ অর্থের লোভে সোমালিয়াতে সন্ত্রাস যেমন দূর হচ্ছে না তেমন দেশটির জনসাধারণও অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সূত্র : সিএনএন


মন্তব্য