kalerkantho


মায়ের স্মৃতিতে প্রজাপতির ভাঙা পাখা মেরামত!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৩:০০



মায়ের স্মৃতিতে প্রজাপতির ভাঙা পাখা মেরামত!

চিহ্নিত অংশ মেরামত করেছেন রমি, আবারো উড়বে মোনার্কটি

চিরবিদায় নিয়েছেন রমি ম্যাকক্লোসকির মা। মায়ের কথা কেউ কি ভোলেন? রমিকে তিনি প্রায়ই বলতেন, প্রজাপতি দেখলেই বুঝবে তোমার সঙ্গে আমি আছি। সেই কথাগুলো এখনো স্পষ্ট মনে আছে রমির। 

মা চলে যাওয়ার পর থেকে প্রজাপতিদের বিষয়ে ভীষণ আগ্রহী হয়ে উঠলেন রমি। হামেশাই দেখা যায় একটা টেবিলের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছেন। তার চারদিকে সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি আর চিকন তার ছড়ানো। একটি জ্যান্ত প্রজাপতি পাখা মেলে রয়েছে টেবিলে। ওটাকে নিয়েই তার ব্যস্ততা। প্রজাপতির দু পাখনায় কালো কালির মতো শিরা-উপশিরা বয়ে গেছে। তীব্র কমলা রংয়ের মন পাগল করা লাইন ছড়িয়ে রয়েছে এখানে সেখানে। ওর একটা পাখা ভাঙা। সেই পাখাই সারাই করছেন রমি। বিড়বিড় করে হয়তো বলছেন, দেখা যাক, তোমাকে রক্ষা করতে পারি কিনা। 

আরো পড়ুন: আত্মহত্যার শ্যুটিং: ট্রেনের ধাক্কায় ২ ছাত্রের মৃত্যু! 

প্রজাপতি দেখলেই মায়ের কথা মনে পড়ে রমির

গত সেপ্টেম্বর থেকে নিজ বাড়ির আঙিনার আনাচে-কানাচে কয়েকটি মোনার্ক (এক জাতের প্রজাপতি) দেখেছিলেন তিনি। এর পর থেকেই মায়ের স্মৃতি জিইয়ে রাখতে এদের দেখভালে লেগে যান। বুনো পরিবেশে কীটনাশক এবং অন্যান্য কারণে এদের বেঁচে থাকা বেশ কঠিন। তাই তিনি বাড়ির একটি ঘরে তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন। রমি বলেন, মোনার্করা সত্যিই অনেক সুন্দর। তাদের দেহে কমলা আর কালোর অসাধারণ মিশেল ঘটেছে। 

আমেরিকার কানেকটিকাটে রমির ছোটকালটার বেশির ভাগ কেটেছে পরিবারের অর্গানিক খামারে খেলা করে। সেখানে অনেক প্রজাপতি দেখতেন। তাই এমনিতেই প্রজাপতির প্রতি ভালোবাসা আছে তার। প্রকৃতির মধ্যে বেড়ে উঠেছেন। তিনি চিনেছেন পাখি, মৌমাছিসহ প্রকৃতির আরো অনেক কিছু। এদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে দিতেন তার মা।

স্মৃতিচারণ করলেন রমি, আমার মা এদের বেড়ে ওঠা এবং টিকে থাকার পেছনে কারণ খুঁজে পেতেন। মায়ের কাছ থেকেই প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে উঠেছি। 

আরো পড়ুন: বিটকয়েন খুঁজতেই শেষ হবে যে দেশের বিদ্যুৎ! 

এই পাখাটিও সারাই হবে, রমির মায়ের হাসির মতো উড়বে প্রজাপতিটি
 

জর্জিয়ার সাভান্নাতে কস্টিউম ডিজাইন নিয়ে পড়ছিলেন রমি। এক যুগ আগের কথা। কলেজের প্রথমবর্ষেই মা সুজানের স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকেন। শেষ দিনগুলোতে মায়ের সঙ্গে তার অনেক আবেগময় কথা হতো। মা স্বান্তনার স্বরে প্রায়ই বলতেন, চিন্তা করো না। তুমি যখনই প্রজাপতি দেখবে, মনে করবে আমি সেখানে আছি। 

সেই থেকে শুরু। রমি আহত ও বিধ্বস্ত প্রজাপতিদের ডানা সারাই করেন। সূক্ষ্ম এবং প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। ভাঙা পাখনার প্রজাপতিগুলোকে সারাইয়ের টেবিলে নিয়ে আসেন তিনি। সূক্ষ্ম সার্জারিতে কাজে তাদের সুস্থ করে তোলেন। 

বললেন, প্রজাপতিদের ওড়ার জন্যে ভারসাম্যপূর্ণ পাখা দরকার। এদের কারো পাখা ভাঙা দেখলেই মনটা কেঁদে ওঠে। মায়ের কথা মনে পড়ে। তাদের আসল সৌন্দর্যই তো পাখায়। 

প্রজাপতির পাখাও যে মেরামত করা যায়, তার প্রমাণ দেখালেন রমি। আসলে এমন অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে পরিবেশকে রক্ষা করা যায়। প্রজাপতির দেখভালের মাধ্যমে মায়ের স্মৃতিচারণে মগ্ন থাকেন তিনি। তার চোখের সামনে মায়ের হাসির মতো উড়ে বেড়ায় প্রজাপতিগুলো। সূত্র : বিবিসি 


মন্তব্য