kalerkantho


'প্রেমিকার' পাশে মৃত্যু নাইজেলের!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৩৩



'প্রেমিকার' পাশে মৃত্যু নাইজেলের!

ফাইল ছবি।

পাঁচ বছর ধরে একা ছিল সে। যদিও তাকে একেবারে একা বলা ঠিক হবে না। কারণ তাকে ঘিরে ছিল তার মতোই ৮০টি মূর্তি। আর তার মধ্যে থেকেই সে বেছে নিয়েছিল তার প্রেমিকাকে।

গত সপ্তাহে তার সেই কংক্রিটের ‘প্রেমিকা’র পাশ থেকেই ‘একাকী’ নাইজেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নাইজেল নিউজিল্যান্ডের উপকূলে মানা দ্বীপের বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক গ্যানেট পাখি!

তার সারা শরীরটাই সাদা, মাথায় কমলা এবং হলুদের মিশ্রণে ছোপ এবং ডানার ধারে কালো একটা রেখাও রয়েছে। বকের মতো দেখতে এই সুন্দর পাখিটির মৃত্যুতে শোকাহত পাখিপ্রেমিরা। নাইজেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে নিয়ে দুঃখের কবিতা প্রকাশ হতে দেখা যাচ্ছে।

২০১০ সালে মানা দ্বীপে গ্যানেট পাখিদের জন্য একটি ঘাঁটি বানানোর কথা ভেবেছিলেন বনদপ্তরের কর্মী ও সংরক্ষণকারীরা। কাজটা সহজ ছিল না!

কারণ ওই সামুদ্রিক পাখিদের বিষয়ে প্রচলিত ছিল যে, তারা সেখানেই বাসা বাঁধতে পছন্দ করে, যেখানে আগে কোনো গ্যানেট বাসা বেঁধেছিল।

আরো পড়ুন : গোসল করুন ২ মিনিটে, টয়লেট শেষে ফ্লাশ না করলে ভালো!

সেই বিশ্বাস থেকে ওই দ্বীপে ৮০টি সিমেন্টের গ্যানেট পাখির মূর্তি বানিয়েছিল বন দপ্তর। তার পর ছিল শুধুই অপেক্ষা! অবশেষে ২০১৩ সালে ওই দ্বীপে পৌঁছায় একটি গ্যানেট।

৪০ বছরে সেই ছিল প্রথম। ওই গ্যানেটটিকে ঘিরেই বনকর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। পাখিটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘নাইজেল’।

নাইজেলের আগমণের পরে বনকর্মীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, তার জন্য ওই দ্বীপে আরো গ্যানেট আসবে। কিন্তু সেই আশা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসতে থাকে। আর নাইজেল একা একা বাঁচতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা ক্রিস বেল জানান, নাইজেল ওই দ্বীপে তার পাথুরে বন্ধুদের মধ্যে থেকে একটি গ্যানেটের মূর্তিকে বেছে নিয়েছিল। তার পাশেই বাসা তৈরি করে সে।

তিনি আরো বলেন, সারাদিন ওই মূর্তিটার কাছেই দেখা যেত নাইজেলকে। ওই মূর্তিটার মধ্যেই নিজের প্রেমিকাকে খুঁজে নিয়েছে বলেও মনে হয়।

প্রেমিকার সঙ্গেই বছরের পর বছর একতরফাভাবে নিজের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছে নাইজেল। কয়েক সপ্তাহ আগে আরো তিনটি গ্যানেট পাখি মানা দ্বীপে পৌঁছায়। অনেকেই ভেবেছিল, জীবন্ত সঙ্গী পেয়ে প্রেমিকাকে ভুলে যাবে নাইজেল। কিন্তু আদতে তা হয়নি।

কংক্রিটের ‘প্রেমিকা’কে ছেড়ে রক্ত-মাংসের সঙ্গীদের সঙ্গে মিলেমিশে উঠতে পারেনি নাইজেল। এর পর গত সপ্তাহেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ক্রিস বেল জানান, কংক্রিটের ওই গ্যানেট মূর্তিগুলোক দেখে নিজের আদি বাসভূমির কথা ভুলে গিয়েছিল নাইজেল। অনেকে হয়তো তাকে ‘বোকা’ বলবে। কিন্তু সংরক্ষণের দিক থেকে দেখতে গেলে নাইজেল ছিল একটা বিশাল সম্পদ। নাইজেলকে নিয়ে আমাদের আশা ছিল, তার মাধ্যমেই মানা দ্বীপে গ্যানেটদের ঘাঁটি তৈরির কাজ এক দিন সফল হবে। শেষ দিকে এসে এ বার মনে হচ্ছে, সেটা সফল হতে চলেছে।


মন্তব্য