kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর বাড়িকে বিতর্কিত করতেই কি গুপ্তচরবৃত্তি ৩২ নম্বর ধারায়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১১:২৮



বঙ্গবন্ধুর বাড়িকে বিতর্কিত করতেই কি গুপ্তচরবৃত্তি ৩২ নম্বর ধারায়!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ...

বঙ্গবন্ধুর বাড়িকে বিতর্কিত করতেই কি গুপ্তচরবৃত্তি ৩২ নম্বর ধারায়!

বিষয়টি কারো কারো কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার সাংবাদিকতা ও লেখালেখির ২৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে এবার। জীবনে কিছু অভিজ্ঞতা তো হয়েছে! এদেশের আমলাদের আমি খুব ভালো করে চিনি। তারা সরকারকে বিপদে ফেলতে ওস্তাদ! 

৩২ মানেই আমরা বুঝি ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি। আর ওই বাড়ি মানেই বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু মানেই তো বাংলাদেশ! বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ওই বাড়িও ততদিন কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। 

প্রস্তাবিত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ নম্বর ধারাটি আরো বেশি বিতর্কিত। যেমন ৭৫ আমাদের কাছে একটি শোকের সংখ্যা। ৭৫ মানেই বাঙালি জাতির একটি কালো অধ্যায়ের নাম। তেমনি ৩২ মানে একটি ইতিহাসের নাম।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব মানুষের কাছে ওই বাড়িটি একটি তীর্থ স্থানের মতো। অথচ বিতর্কিত আইনের ৩২ নম্বর ধারায় গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি রাখা হয়েছে। কেন ওই ধারাটি ৩১ হলো না? বা অন্য কোনো সংখ্যা! 

আমার মনে হয়, যে কর্মকর্তা এই ড্রাফটটি করেছেন তিনি মনে প্রাণে স্বাধীনতা বিরোধী চেতনা ধারন করেন। ৩২ নম্বরকে বিতর্কিত করতেই এটা করেছেন। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আমিও চাই। সাংবাদিকদের জন্য এই আইনে সুরক্ষা রাখা উচিত। হাত-পা বেঁধে দিলে সাংবাদিকতা হবে না। তাতে বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ হবে। 

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইত্তেফাক সম্পাদক মানিক মিয়ার অসাধারণ সম্পর্ক ছিল বলেই স্বাধীনতা দ্রুততর হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। 

মন্ত্রিসভার সদস্যরা হয়তো খেয়াল করেননি। আমি মনে করি, ওই ধারাটি অবিলম্বে তুলে দেয়া উচিত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনো বেশির ভাগ সাংবাদিক আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। কেবল আপনাকে আপা বলে ডাকা যায়! আমরা কি অন্য কাউকে তা পারি?

মাননীয় শেখ হাসিনা, নিশ্চয়ই আমার উপলব্ধিটি বুঝতে পারছেন? অনুগ্রহ করে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। 

ইতি আপনার গুণমুগ্ধ
মোস্তফা কামাল
কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক



মন্তব্য