kalerkantho


৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুবোগুহার চোখজুড়ানো দৃশ্য (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:২৬



৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুবোগুহার চোখজুড়ানো দৃশ্য (ভিডিও)

মেক্সিকোয় পাওয়া গেছে দুনিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ ডুবো-গুহা। এর দৈর্ঘ্য ৩৪৭ কিলোমিটার (২১৬ মাইল)। উপকূলীয় মাটির গভীরে পানিতে পূর্ণ এই সুরঙ্গ-গুহার দৈর্ঘ্য এযাবত পাওয়া যাওয়া এ ধরনের গুহার তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত। 

অসংখ্য পার্শ্ব সুরঙ্গ থাকায় এটা ডুবুরিদের কাছে কোনো গোলকধাঁধাঁর চেয়ে কম নয়। সম্প্রতি স্কুবা ডাইভাররা পানিভর্তি এই সুরঙ্গ গুহাটির আবিষ্কার করেছেন যা অনেকটাই অন্তঃসলিলা নদীর মতো।

প্রথমে এটিকে মনে করা হয় দুটো আলাদা সুরঙ্গ হিসেবে। পরে সুদক্ষ ডুবুরি আর বৈজ্ঞানিকদের পর্যবেক্ষণে প্রমাণ হয় যে আসলে একটি গুহারই অংশ সেসব। 

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন মায়া সভ্যতার অনেক অমিমাংসিত রহস্যের সমাধান লুকিয়ে আছে এই গুহায়

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ওই অঞ্চলে গড়ে ওঠা এবং বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাচীন মায়া সভ্যতা বিষয়ে অনেক রহস্যের সমাধান মিলবে এই আবিষ্কারের ফলে। প্রাচীন মায়ান শহরগুলো মাটির তলার এই জলসুরঙ্গ দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে মনে করছেন অনেকে এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ চালাতো বলেও ধারণা করা হচ্ছে।  

স্যাক অ্যাক্টন গুহায় ডুবুরিদের অনুসন্ধান চলছে

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এর অবস্থান পূর্ব মেক্সিকোর কোয়ান্টানা রু রাজ্যের টুলুমের কাছে, যার নামকরণ করা হয়েছে স্যাক অ্যাক্টন। গ্রান অকুইফারো মায়া প্রজেক্টের (জিএএম) অধীনে চালানো অনুসন্ধানে এর খোঁজ পাওয়া যায়। এই প্রকল্পের কাজ ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধান ও সংরক্ষণ গবেষণা করা।

আরো পড়ুন  তুষারের গাড়িতে বোকা বনল কানাডার পুলিশ!

ইউকাটান উপদ্বীপ অঞ্চলের পানির তলার জগৎ পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই প্রজেক্ট কাজ শুরু করে তারা। কিছুদিন কাজ করার পর- প্রথমদিকে মাটির নিচে কয়েকটি সুরঙ্গের সন্ধান মেলে। এরপর ব্যাপক তল্লাশিতে দেখা যায় এগুলো ৩৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এক সুরঙ্গ-গুহার অংশ। কয়েক মাসের মধ্যেই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। 

জিএএমের অনুসন্ধানী দল যখন প্রথমে গুহাটির মাপজোক করে তখন স্যাক অ্যাক্টনের দৈর্ঘ ২৬২ কিলোমিটার (১৬৩ মাইল) বলে জানা যায়। ওইসময়ে ডুবুরিরা এর পাশেই আরেকটি সুরঙ্গ পান যার দৈর্ঘ  ৫৩ মাইল (৮৫ কিলোমিটার) যা দোস ওজোস নামে পরিচিত। প্রথমে তারা দুটি আলাদা টানেল মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন আসলে একটি একটি গুহারই অংশ ওই টানেলগুলো যার দৈর্ঘ ৩৪৭ কিলোমিটার। 

জিএএম পরিচালক ও আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজিস্ট জুয়েরিলামো ডি এন্ডা এ প্রসঙ্গে বলেন, দোস ওজোস আদতে স্যান অ্যাক্টনেরই অংশ।  এই আবিষ্কার মায়া সভ্যতা থেকে স্পেনিশ সাম্রাজ্যের সময়কার এখানকার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আমাদের সাহায্য করবে।  

আরো পড়ুন  বিক্রি হচ্ছে বোতলবন্দি ভূত! আটক ভূত বিক্রেতা

ওই ডুবো গুহায় এরইমধ্যে মায়াসভ্যতার স্মারক শত শত পুরাকীর্তি তথা তৈজসপত্র ও প্রাণীজ হাড়গোরের পাওয়া গেছে। -গার্ডিয়ান,রয়টার্স,জনসত্তা.কম



মন্তব্য