kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিজ: বরিস জনসনের প্রস্তাবে হাসাহাসি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:১১



ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিজ: বরিস জনসনের প্রস্তাবে হাসাহাসি

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মাঝে যে ইংলিশ চ্যানেল- সেটির ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, 'এই দুই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য এরকম একটা সংযোগ খুবই দরকার।'

তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা অস্বীকার করেছেন তাঁর এক মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এখন সাগরের তলদেশ নিয়ে যাওয়া এক টানেল দিয়ে যুক্ত। চ্যানেল টানেল বা ইউরোটানেল নামে পরিচিত এই টানেল দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। দুই দেশের মধ্যে এরকম একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব এর আগে ১৯৮১ সালেও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন এটিকে অবাস্তব প্রস্তাব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। কারণ এতে নাকি জাহাজ চলাচলে অসুবিধা হতে পারে।

আরো পড়ুন মাছধরা নৌকায় সজোরে ধাক্কা দিল দ্রুতগামী জাহাজ (ভিডিও) 

তবে ব্রিটেনের ইনস্টিটিউশন অব স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ফার্থ জানিয়েছেন, এটি বিশাল বড় কাজ সন্দেহ নেই, কিন্তু এরকম একটি ব্রিজ অবশ্যই নির্মাণ করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবশ্য বরিস জনসনের এই প্রস্তাব নিয়ে ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি অনেকে।

আরো পড়ুন হোটেলে বিছানার চাদর সাদা হয় কেন? 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরি করে তার খরচ মেক্সিকোর কাছ থেকেই আদায় করার কথা বলেছিলেন, অনেকে বরিস জনসনের এই প্রস্তাবকে তার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ব্রেক্সিট গণভোটের সময় ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার পক্ষে যারা প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বরিস জনসন তাদের অন্যতম।

ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম যুক্তরাজ্য সফরে এসেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্যান্ডহার্স্ট রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে'র সঙ্গে বৈঠক করেন।

বরিস জনসন যখন ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন এই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ব্রিটেন আর ফ্রান্স, যাদের মাঝখানে মাত্র ২০ মাইলের দূরত্ব, তারা যে কেবলমাত্র একটি রেললাইন দ্বারা যুক্ত, এটি তিনি মানতে পারছেন না। সেই পটভূমিতেই তিনি এই ব্রিজের ধারণাটি নিয়ে কথা বলেছেন।

বরিস জনসন লন্ডনের মেয়র থাকাকালেও এরকম বড় বড় সব অভিনব প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শিকার হন।

লন্ডনে টেমস নদীর মোহনায় কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সেখানে বিমান বন্দর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। হিথ্রো বিমান বন্দরকে সম্প্রসারণের বিকল্প হিসেবে এই প্রস্তাবের পক্ষে তিনি বেশ সরব ছিলেন। লন্ডনের রাস্তায় যে দোতলা রোডমাস্টার বাসগুলো চলতো, সেগুলো প্রত্যাহারের তিন বছরের মাথায় বরিস জনসন মেয়র হয়ে আবার সেগুলো ফিরিয়ে আনেন।



মন্তব্য