kalerkantho


'নারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবেই নিজেকে দাঁড় করাতে চাই'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:০৩



'নারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবেই নিজেকে দাঁড় করাতে চাই'

লজ্জা আর আড়ষ্টতার শৃঙ্খল ভেঙে সমাজে নারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবেই নিজেকে দাঁড় করাতে চান কৈশোরে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার পূর্ণিমা রানী।

আজ তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) পদে চাকরিতে যোগদানের পর এক স্বাক্ষাৎকারে পূর্ণিমা রানী এভাবেই তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার দেলুয়া গ্রামের অনিল কুমার শীলের পরিবারের ওপর ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৮ অক্টোবর রাতে চালানো বর্বরোচিত হামলার এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তার (অনিল শীলের) ছোট মেয়ে পূর্ণিমা শীলের ওপর পাশবিক নির্যাতন করে। পূর্ণিমা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে টেলিকমিউনিকেশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ আনার্স শেষ করেছেন। 

সমাজে নজরবন্দি না থেকে সব নারীকে ঘুরে দাাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, নির্যাতিত নারীরা নিজেকে গুটিয়ে রাখতে চাইলেও এ বিষয়ে তার অবস্থান ভিন্ন হবে। সাধারণ নিয়ম ভেঙ্গে নারীরা সাহস নিয়ে এগুবে। নজরবন্দি হয়ে থাকবে না। এটাই আমি চাই। আমি ভবিষ্যতে সমাজের অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়াতে চাই।

কাজে যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। 

পূর্ণিমা বলেন, আমার চাকরি হয়েছে, এখন মাথার বোঝা যেন হালকা হয়েছে। তিনি বলেন, সেই ২০০১ সালের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পড়ালোখার পাশাপাশি আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। 

নির্যাতিত নারীদের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পূর্ণিমা বলেন, দরিদ্র নারী শিশুদের লেখাপড়া শেখানো, নির্যাতনের শিকার নারীদের আইন সহায়তা দেওয়াসহ নারীদের জন্য কাজ করতে চান।

নির্যাতিত নারীদের জন্য কাজ করতে পূর্ণিমা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেশ কিছু নারীকে সহায়তা দিয়েছি। তবে আমার একার পক্ষে সমাজের নির্যাতিত নারীদের সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই অসহায় নারীদের লেখাপড়ার জন্য অর্থ সহায়তা এবং নির্যাতিত নারীদের আইনী ও সামাজিক অন্যান্য সহায়তা দিতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, আগে প্রাইভেট জব করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল না। মায়ের ইচ্ছায় করেছি। এখানে আমি যদি ভালোভাবে কাজ করতে পারি তাহলে নিজের যোগ্যতায় আমি যেকোনও লেভেলে সরকারি চাকরি করতে চাই। 

নির্যাতনের পর যাদের সহায়তা পেয়েছিলেন তাদের কথা উল্লেখ করে পূর্ণিমা বলেন, ‘নির্যাতের পর প্রথম সহায়তা পাই বেবী মওদুদের কাছ থেকে। এরপর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কাছে আমি সহায়তা পেয়েছি।


মন্তব্য