kalerkantho


১৪০ ইভটিজারকে ধরিয়ে দিলেন যে হিরো!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:০৭



১৪০ ইভটিজারকে ধরিয়ে দিলেন যে হিরো!

এইচডি ক্যামেরার সানগ্লাস পড়ে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকতেন রেলস্টেশনে। যেখানে নারীদের উত্যক্ত করা হতো। তার দৃষ্টিসীমার মধ্যে সব কিছুকে তার ক্যামেরায় রেকর্ড করে রাখতে থাকে। বেশ কয়েকদিন এমন করার পর সে ধরে ফেলে যে কোন চক্রটি নিয়মিত নারীদের হেনস্তা করে আসছে। এবং এবার তার কাছে উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণও রয়েছে। সেগুলো নিয়ে সে যায় পুলিশের কাছে। এভাবে মাত্র ছয় মাসেই মুম্বাই পুলিশ ১৪০ জন যৌন নিপীড়ক ও হয়রানিকারীকে জেলবন্দি করতে সক্ষম হয়েছে।

যার কথা বলা হচ্ছে তিনি হলেন দীপেশ। জন্ম মুম্বাইয়ের এক বস্তিতে। তার মা একটি ক্যাটারিংয়ের ব্যবসা চালাতেন এবং দৈনিক ১২ ঘণ্টার ওপরে কাজ করতেন। রাতে ফিরতে তার প্রায়ই অনেক দেরি হয়ে যেত। এজন্য বস্তির অন্যান্য অধিবাসীরা তাকে নিয়ে বিভিন্ন কুৎসা রটাত, দীপেশের সামনেই তার মায়ের নামে অশ্লীল গালমন্দ করত। কিন্তু এসব শুনেও দীপেশের মনে তার মা সম্পর্কে কখনোই অশ্রদ্ধা জন্মায়নি। 

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই দীপেশ পড়াশোনায় ইস্তফা দিয়ে একটি অফিসে চাকরি নেয়। প্রতিদিন সবার আগে অফিসে উপস্থিত হতো সে। আর অফিস ছাড়ত সবার শেষ। অন্যান্য অধিকাংশ মুম্বাইবাসীর মতই সে যাতায়াতের জন্য মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেন ব্যবহার করত। এবং একদিন ট্রেন স্টেশনেই সে এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়, যা পরবর্তিতে বদলে দেয় তার গোটা জীবন।

একদিন ট্রেন ধরতে স্টেশনে গিয়ে সে দেখতে পায়, লেডিস কম্পার্টমেন্টের সামনে কয়েকজন নারীকে এক দল মানুষরূপী নরপিশাচ খুবই বাজেভাবে উত্যক্ত করছে। দীপেশ বুঝতে পারে তার একার পক্ষে এদের মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তাই সে ছুটে যায় স্টেশনে কর্মরত পুলিশদের কাছে। অভিযোগ জানায় ওই উত্যক্তকারীদের নামে। কিন্তু প্রথমে পুলিশরা তার অভিযোগ আমলেই নেয় না। বারবার তাকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দীপেশ বারবার তাদের কাছে অনুনয় বিনয় করতে থাকলে অবশেষে একজন পুলিশ তার সাথে ঘটনাস্থলে যেতে রাজি হয়। কিন্তু ততক্ষণে অপরাধীরা কেটে পড়েছে।

সেদিনের সেই ঘটনা গভীর দাগ কাটে দীপেশের মনে। সে বুঝতে পারে, কেন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুতেই নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তেমন কিছু করতে পারছে না। কেননা তারা যে এ বিষয়টিকে খুব একটা আমলেই নেয় না। এই ঘটনা দীপেশ কিছুতেই ভুলতে পারে না। বরং সে তার মায়ের জন্য চিন্তিত হয়ে পড়ে। কেননা তিনিও তো রোজ রাত করে বাড়ি ফেরেন। পথিমধ্যে তার সাথেও যদি বাজে কিছু হয়ে যায়! দীপেশ তখন তার বন্ধুদের নিয়ে এক অভিনব কাজ শুরু করে। তারা কয়েকদিন মুম্বাইয়ের বেশ কিছু বাস ও রেল স্টেশন ঘুরে বুঝতে পারে, এই জায়গাগুলোই মূলত অপরাধীদের প্রধান আখড়া। অন্তত ৮৫% নারী প্রতিদিন এসব জায়গাতেই হয়রানির শিকার হয়। তখন তারা চিন্তা করে, এমন তো বেশিদিন হতে দেয়া যায় না। কিছু একটা করতেই হবে, যাতে অবস্থা পরিবর্তিত হয়।

দীপেশ তখন এমন একটি সানগ্লাস কেনে, যার ভিতরে ছিল এইচডি ক্যামেরা বসানো। এই সানগ্লাসটি পরে সে প্রতিদিন ট্রেন স্টেশনের লেডিস কম্পার্টমেন্টগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে শুরু করে, এবং তার দৃষ্টিসীমার মধ্যে সবকিছুকে তার ক্যামেরায় রেকর্ড করে রাখতে থাকে। বেশ কয়েকদিন এমন করার পর সে ধরে ফেলে যে কোন চক্রটি নিয়মিত নারীদের হেনস্তা করে আসছে। এবং এবার তার কাছে উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণও রয়েছে। সেগুলো নিয়ে সে যায় পুলিশের কাছে। সবকিছু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পুলিশও ঘটনার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে। এবার তারাও ৪০ সদস্যের একটি দল গঠন করে, যারা দীপেশ ও তার বন্ধুদের সাথে একই কাজ করা শুরু করে। এভাবে মাত্র তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই এই দলটি দেড় শতাধিক অপরাধীকে হাতেনাতে ধরে জেলে পুরতে সক্ষম হয়েছে।



মন্তব্য