kalerkantho


লোভের কাছে হারল স্নেহ

গৃহপরিচারিকার গ্রামের বাড়ির মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেল ...

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:১৭



গৃহপরিচারিকার গ্রামের বাড়ির মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেল ...

অল্পবয়সী গৃহপরিচারিকাকে মেয়ের স্নেহে রেখেছিলেন গৃহকর্ত্রী। কিন্তু মেয়েটির লোভের কাছে এই স্নেহ পরাজিত হয়েছে। বাসা থেকে সে ৩০ ভরি সোনা ও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে। গত সোমবার রাতে গৃহপরিচারিকার গ্রামের বাড়ির বসতঘর খুঁড়ে ২২ ভরি সোনা ও ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, ঢাকার ১১৯/১ মালিবাগ প্রথম লেনে বাস করেন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রাহিমা পারভিন রোজি। এই বাসায় পাঁচ বছর ধরে কাজ করে ১৭ বছরের একটি মেয়ে (অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না)। এক মাস আগে বাসা থেকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জে চলে আসে। গত সোমবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। মেয়েটিকে বাড়িতে না পেয়ে তার মাকে আটক করে পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর স্বীকারোক্তিতে বসতঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে নানা ধরনের প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। বিকেলে সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলে। স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল সীতাহার দুটি, কণ্ঠচিক একটি, এক জোড়া বালা, কানের দুল একটি, আংটি পাঁচটি, চিকন চেইন দুটি। এর সঙ্গে ৪৮ হাজার টাকাও উদ্ধার করা গেছে। বাকি টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে। গৃহকর্ত্রী রাহিমা পারভিন রুবি জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর তিনি বাবার বাড়ি মাদারীপুরে বেড়াতে যান। ২৪ ডিসেম্বর বাবার বাড়ি থেকে সন্ধ্যায় ফিরে এসে দেখেন বাসার কিছু তৈজসপত্র বিছানায় এলোমেলো পড়ে আছে। ঘর তল্লাশি করে দেখেন চুরি হয়েছে। স্বর্ণালংকার, টাকাসহ কিছু প্রসাধনী খোয়া গেছে। এর পর থেকে গৃহপরিচারিকাকে খোঁজাখুঁজি করেন তিনি। তাকে কোথাও পাননি। এ নিয়ে সন্দেহ হলে ২৬ ডিসেম্বর শাহজানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ১১ জানুয়ারি গৃহপরিচারিকাকে আসামি করে জিনিসপত্রের তালিকা দিয়ে একটি মামলা করেন তিনি।

গৃহকর্ত্রী আরো জানান, তাঁর বোনের বাসা বনশ্রীতে কাজ করত মেয়েটির বড় বোন মোবেশার আক্তার। তাঁর মাধ্যমে ২০১২ সালের জুলাইয়ে মেয়েটি কাজে যোগ দেয়। তখন মেয়েটি ছোট ছিল। তাকে বাসার পাশে একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। এ বছর সে চতুর্থ শ্রেণিতে উঠেছে। তাঁর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে দেশের বাইরে থাকে। স্বামী ও ছোট ছেলে নিয়ে তিনি ঢাকার মালিবাগে বাস করেন। তিনি বলেন, ‘তাকে আমি নিজের মেয়ের মতো দেখাশোনা করতাম। সেও আমাকে মা বলে ডাকত। প্রতিবেশীরা সবাই জানত ও আমারই মেয়ে। ওর এই কাণ্ডে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি। এখনো ভাবতে পারছি না, ও এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটাতে পারল!’ ঈশ্বরগঞ্জ থানার পরিদর্শক বদরুল আলম খান জানান,  এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।



মন্তব্য