kalerkantho


১২টি অভিযোগ তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে

ইসরায়েলি সেনাদের কিল-ঘুসি-লাথি মারা সেই ফিলিস্তিন কিশোরী তামিনি (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৫০



ইসরায়েলি সেনাদের কিল-ঘুসি-লাথি মারা সেই ফিলিস্তিন কিশোরী তামিনি (ভিডিও)

গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফিলিস্তিন কিশোরী আহেদ আমিনিকে

এক ফিলিস্তিন কিশোরীর সাহসিকতায় সবাই হতভম্ব। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা লাভের স্বপ্নে এই মেয়েটি যেন বীরত্বগাথার গল্প লিখে দিয়ে যাবে। তার নাম আহেদ তামিনি। ইসরায়েলি সেনাদের চড়-লাথি মারা কন্যাশিশুটি এখন নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের 'হিরো'। ইসরায়েলি সেনাদের ওপর 'হামলা' চালানো এই সাহসী কিশোরীকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আরো গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার মা-বোন এবং চাচাতো বোনকে। গতকাল ইসরায়েলের সামরিক আদালতে তার বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। 

আহেদ তামিনির বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনার ওপর হামলা, তাদের দায়িত্বপালনে বাধাপ্রদান এবং তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপসহ ১২টি অভিযোগ তোলা হয়। 

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রদানের পর থেকেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ নতুন রূপ নেয়। সম্প্রতি ফিলিস্তিনদের ওপর ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ জানাতে পশ্চিমতীরে দুই ইসরায়েলি সেনার ওপর চড়াও হয় মেয়েটি। এক ভিডিও-তে দেখা যায়, সেনাদের ওপর সে কিল-ঘুসি-লাথি ছুঁড়ছে। ভিডিও প্রকাশের ৪ দিন পর ১৯ ডিসেম্বর তামিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ির বাইরে সেনাদের ওপর চড়াও হওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হয়। তার কাজিনের মুখে ইসরায়েলি ফোর্স রাবার বুলেট ছোড়ার পর পরই তামিনি ক্ষেপে যায়। আহত কাজিন হাসপাতালে ৭২ ঘণ্টা কোমাতে ছিলেন। 

ভিডিওতে আহেদের চাচাতো বোন ২০ বছর বয়সী নূরকেও দেখা গেছে। তার মা মারিমানও ছিলেন। এদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

নাবি সালিহ গ্রামের ১৬ বছর বয়সী এই কিশোরী সেই ২০১২ সাল থেকেই আলোচিত। তিনি শিশু বয়স থেকেই ফিলিস্তিনদের আন্দোলনে সক্রিয়। 

প্রিজনার্স রাইটস গ্রুপ 'আদ্দামির' এক প্রতিবেদনে জানায়, সেনাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ ফিলিস্তিন শিশুদের বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে সাধারণ বিষয়। যেখানে ফিলিস্তিনরা ইসরায়েলি মিলিটারি আইনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন, সেখানে পাথর ছুড়ে মারার অপরাধে ২০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এবার ইসরায়েলিরা তামিনির মতো শিশুকে তাদের টার্গেট করেছে। তাকে ধরে এবং তার পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলনরত ফিলিস্তিন সমাজকে তারা থামিয়ে দিতে চায়।
সূত্র : আলজাজিরা



মন্তব্য