kalerkantho


স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তরা 'অর্ধ নারী'! ঘর করতে নারাজ স্বামীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:৪৮



স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তরা 'অর্ধ নারী'! ঘর করতে নারাজ স্বামীরা

স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ার পর আলজেরিয়ার নারীরা ক্যান্সারকে ভয় করেন না, তারা সংসার ভাঙার ভয়ে থাকেন

স্তন ক্যান্সার নিয়ে পৃথিবীব্যাপী নারীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা এনজিও বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরই মাঝে আলজেরিয়ার এক মায়ের ঘটনা শত আশাবাদের মধ্যেও কষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে। 

তিন সন্তানের জননী লিন্ডার বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার পরও বোধহয় সামাজিক ক্যান্সারের আক্রান্ত থাকেন নারীরা। স্তন ক্যান্সারের পর তাকে পরিত্যাগ করলেন স্বামী। স্তন ফেলে দেওয়ার কারণে তাকে 'অর্ধ নারী'র অপবাদও দেওয়া হলো। 

চিকিৎসকের এক সহকারী জানান, ক্যান্সারের কারণে ১৮ বছরের সংসার জীবন থেকে কাউকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া সত্যিই দুঃখজনক বিষয়। 

এখানে লিন্ডার কথা বলা হলেই তিনি একা নন। আলজেরিয়ার এমন হাজারও নারীকে স্বামী ত্যাগ করেছেন স্তন ক্যান্সার হওয়ার কারণে। প্রতিবছর হাজার হাজার নারী এ রোগে ভুগছেন আলজেরিয়ায়। এ রোগের কারণে তাদের নারীত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

হায়াত নামের আরেক নারী জানান, তার একটি স্তন কেটে ফেলে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। আর এ কথা জানার পর স্বামী বলেন, আমি স্ত্রী হিসেবে একজন পরিপূর্ণ নারী চাই। তার তিন-চতুর্থাংশ নয়। 

ক্যান্সার চ্যারিটির প্রধান সামিয়া গাসমি বলেন, এখানে অসংখ্য নারী আসেন যাদের স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এই মারাত্মক মুহূর্তে তাদের ছেড়ে চলে যান স্বামীরা। এমনকি হাসপাতালে এসে ক্যান্সারা ধরা পড়ার পর অনেকে মাথার ওপর থেকে ছাদটাও হারিয়ে যায়। 

এরা সবাই এমন নাজুক পরিস্থিতিতে বিষণ্নায় পড়ে যান। অনেকেই কী করবেন তা ভেবে পান না। সেখানে স্তন ক্যান্সারের বিষয়টি যেন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীদের কেউ এর বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন না। এমনকি ভয়ে অনেকে রোগের জানানও দিতে নারাজ। 

এমন ঘটনা ঘটেছেও। এক নারি গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কেপোথেরাপির কারণে তার মাথার চুল পড়ে যাবে। এ কারণে বেশ আগেভাগেই তিনি হিজাব পরা শুরু করেন। কেবলমাত্র এই পারিবারিক ও সামাজিক চিন্তাধারার করণে নারীরা এখন স্তন ক্যান্সারকে লজ্জাজনক রোগ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। 

অস্ত্রোপচারের ৫ বছর পর হায়াত সুস্থ আছেন। তবে তার চারপাশে আছেন তার আত্মীয় এবং বন্ধুরা। আর লিন্ডাকে স্বামী ছেড়ে দিলেও সন্তানরা ছেড়ে যাননি। 
সূত্র : এমিরেটস 



মন্তব্য