kalerkantho


মাথাব্যথা সারাতে নানারকম পদ্ধতির সন্ধান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:২১



মাথাব্যথা সারাতে নানারকম পদ্ধতির সন্ধান

মাথাব্যথা যার হয়, সে এই কষ্ট বোঝে। মাইগ্রেন হলে তো কথাই নেই। এমন ধারাবাহিক ব্যথা কমাতে মানুষ কী না করে! তবে ওষুধ অনেক ক্ষেত্রে উলটে ক্ষতি করতে পারে। জার্মানিতেও মাথাব্যথা কমাতে নানারকম পদ্ধতি রয়েছে।

জার্মানিতে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ নানা রকম মাথাব্যথার যন্ত্রণায় ভোগেন। যেন মনে হয় মাথায় কেউ হাতুড়ি মারছে। কেউ পরীক্ষার সময়ই ঘনঘন মাথাব্যথা নিয়ে হতাশ। কেউ বলেন, সারাদিন ঠিকমতো পানি না খেলে সন্ধ্যায় মাথাব্যথা হয়। কেউ বা ট্যাবলেট খেয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়েন।

স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্কে এক ধরনের শর্ট সার্কিট দেখা দেয়। তখন নিউরোট্রান্সমিটার বেরিয়ে এসে সেরিব্রাল মেমব্রেনের ধমনীতে সংক্রমণ ঘটায়। ধমনী ফুলে উঠে মাথা দপদপ করে। কখনো মনে হয়, যেন হাতুড়ি মারা হচ্ছে। মাথাব্যথার নানা ধরন রয়েছে। তবে মাইগ্রেন তার সবচেয়ে মারাত্মক রূপ।

বারবারা লিন্ডেনটাল-সাক্স বহু বছর ধরে মাইগ্রেনে ভুগেছেন। ফলে তাঁর জীবনটাই বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘‘সবসময়ে মনে হতো, কঠিন রোগে ভূগছি, সাহায্যের প্রয়োজন। মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম।'

' কয়েক বছর আগে তিনি জার্মানির ফ্রাইবুর্গ শহরের বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ব্যথা নিরাময় কেন্দ্রে আসেন। উৎস সন্ধানের মাধ্যমেই মাথাব্যথার চিকিৎসার সূচনা হয়। সেখানকার চিকিৎসক পেটার বেয়েরেন্স বলেন, ‘‘স্ট্রেস এর স্পষ্ট কারণ, অর্থাৎ মনের মধ্যে বাড়তি চাপের অনুভূতি। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোন পরিবর্তন ঘটলে এমনটা হয়। তাছাড়া ঘুম, জেগে থাকা ও খাবার সময়ের ছন্দ পরিবর্তনও এর কারণ হতে পারে।''

অনেক রোগী ওষুধের শরণাপন্ন হন। কিন্তু ঘনঘন ওষুধ খেলে সেই ট্যাবলেটই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বারবারা লিন্ডেনটাল-সাক্স মাইগ্রেন কমাতে অনেক রকম চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ওষুধ, হোমিওপ্যাথি, নেচারোপ্যাথি, যোগাসন, মনোযোগের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত খেলাধুলা, বাটারবার, ম্যাগনেসিয়াম – সবকিছু মনেও নেই। একটা গোটা পাতাজুড়ে তালিকা রয়েছে।''

তাহলে কী করা যায়? হালকা মাথাব্যথা হলে ট্যাবলেট বা মেন্থল তেল কাজে লাগতে পারে। কিন্তু মাইগ্রেন সামলাতে একেবারে অন্যভাবে এগোতে হয়। স্ট্রেস কমানো ও খেলাধুলা তার অঙ্গ। কয়েক বছর ধরে এমনকি বোটক্স প্রয়োগ করা হচ্ছে। পেটার বেয়েরেন্স বলেন, ‘‘কঠিন এই রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে ফেললে সেটা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে বা অন্তত কমিয়ে ফেলতে হবে।''

রোগীদের মধ্যে আদানপ্রদানও কিছুটা সাহায্য করে। হাইনৎস পস্টলেব এক সাপোর্ট গ্রুপ গঠন করেছেন। কয়েক বছর ধরে তিনি নিজে ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘কী যে ছিল, কেউ জানে না। জানার দরকারও নেই, আমি তো আর মাইগ্রেনের অভাব বোধ করছি না। খুব ভালো আছি।''

মাইগ্রেন বংশানুক্রমেও চলতে পারে। যেমন হাইনৎস পস্টলেব-এর সন্তান ও নাতিনাতনিরাও মাইগ্রেনে ভুগছে। 

- ডিডাব্লিউ


মন্তব্য