kalerkantho


ট্রাম্পদেশীয় এক অসাধারণ প্রেমগাথা: মৃত্যুর ঘণ্টা কয়েক আগে...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:০৩



ট্রাম্পদেশীয় এক অসাধারণ প্রেমগাথা: মৃত্যুর ঘণ্টা কয়েক আগে...

প্রেমিক জুটি ডেভিড-হিদার: প্রেম-প্রণয় আর বিশ্বস্ততার অব্যক্ত অথচ কী স্পষ্ট আকুতি ফুটে উঠেছে

যে দেশে ট্রাম্পের মতো ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট সেই দেশে ডেভিডের মতো ‘অসাধারণ এক সাধারণ’ মানুষও আছেন। আছেন (মানে ছিলেন) তার প্রেমিকা হিদারের মতো মনোবলের তরুণীও। ঘটনা জটিল লাগছে? কালের কণ্ঠের প্রিয় পাঠক, আসুন তাহলে জেনে নেই ট্রাম্পদেশীয় অসাধারণ এক প্রেম কথা।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট রাজ্যের ঘটনা এটি। মুখে অক্সিজেন মাস্ক পড়ানো রয়েছে কনের।  পাশের পুরুষটি তার বর, প্রেমিক থেকে বর। সাধারণ একটি ছবি। কিন্তু এই ছবির পেছনে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক গল্প। গল্পটি গর্বেরও, অন্তত বিশ্বের তাবৎ মানবিক আর হৃদয়বান মানুষদের জন্য। মেয়েটির চোখে প্রেম-প্রণয় আর বিশ্বস্ততার অব্যক্ত অথচ কী স্পষ্ট আকুতি ফুটে উঠেছে!

ছবিতে নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন কনে রয়েছে হাসপাতালের বিছানায় শোওয়া। বিয়ের আয়োজন, লোভনীয় কেক- এসবের জন্য খুব তাড়া ছিল মেয়েটির। কারণ, চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আছে তার আয়ু! 

তারা দুজন ছিলেন যেন হংস-মিথুন। আর দশটা আমেরিকান প্রেমিক জুটির মতোই স্বপ্ন বুনছিলেন সময় এলে গাঁটছড়া বাঁধবেন- সুখের সংসার গড়ে তুলবেন। কিন্তু হঠাৎ এলো অশনি সংকেত। হিদার মোজার নামের এই মিষ্টি মেয়েটির কঠিন অসুখ ধরা পড়লো। ক্যান্সার! তাসের ঘরের মতো সবকিছু চুরমার হয়ে গেল যেন!

মে ২০১৫ সালে একটি নাচের ক্লাসে প্রেমিক ডেভিডের সঙ্গে চার চোখের মিলন হয় তার। রোমান্সের রঙিন জগতে ভাসতে থাকা অবস্থায় ধরা পড়লো হিদারের স্তন ক্যান্সার!

২০১৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর যেন রূপকথার মিষ্টিমধুর কাহিনীর ওপর শকুনের ছায়া পড়লো। হিদারের ক্যান্সার সবকিছু মুহূর্তেই যেন অন্ধকারে ঢেকে দিল। 

কিন্তু হিদার একদিক দিয়ে ভাগ্যবান। কারণ, তার প্রেমিক ডেভিড এমন এক ব্যক্তি যিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ধার ধারেন না। ডেভিড ঠিক করলেন পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই বিয়েটা করে ফেলবেন- যাতে হিদারকে একটু হলেও সুখী করা যায়। একদিন রাতে, রাস্তায় চলার সময় সড়ক বাতির আলোতে হিদারের কাছে নিবেদন করেন নিজের ইচ্ছা- তোমাকে বিয়ে করতে চাই শিগগির। অসম্মতি ছিল না প্রিয়ার।

কিন্তু এ ঘটনার দিন পাঁচেকের মাথায় পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে মোড় নিতে থাকে। গত সেপ্টেম্বরে ক্যান্সারের বিষবলয় হিদারের মস্তিষ্কে বিস্তার লাভ করে।  যদিও তাদের উভয়েরই ইচ্ছা ছিল কয়েক বছর পর বিয়ে করার। তবে পরিস্থিতির মুখে তারা ৩০ ডিসেম্বর বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ডাক্তাররা বলেছিলেন যে তাদের আরো তাড়াতাড়ি করতে হবে। সময় একদম নেই। 

এরপর ২২ তারিখে দিন ধার্য হয়। 

দুর্লভ এক চিত্রনাট্যের বাস্তব মঞ্চায়ন যেন। প্রধানপাত্র-পাত্রী যার যার ভূমিকা পালন করছেন,দর্শক হিসেবে আছেন হাসপাতালের নার্স আর স্বজন-বন্ধুরাও। অনেকের চোখই অশ্রুসজল

হিদারের মৃত্যুর কিছু ঘণ্টা আগে বর-বধূর সাজ নিলেন তারা। স্থানীয় সেন্ট ফ্রান্সিস চ্যাপেলে হিদার-ডেভিড ছোটখাট আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে একসঙ্গে (!) জীবন কাটানোর শপথ নেন। এসেছিলেন স্বজন-বন্ধুরাও। বিয়েও পড়ানো হল। কিন্তু তাদের বিবাহিত জীবনের বয়স একদিনও পূরণ করতে পারলেন না। চলে গেলেন হিদার। 

বিয়ের সময় নেওয়া শপথবাক্যই ছিল হিদারের মুখের শেষ কথা। এরপর আর তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না; ১৮ ঘণ্টার মাথায় দুনিয়াকে বিদায় জানান। 

ডেভিডের কানে এখনো বাজে প্রিয়ার বলা নানান কথা। হিদার তাকে বলতেন জীবনের সঙ্গে সবসময় সংঘর্ষ করে চলতে হয়। হিদারের এই দর্শনকে এখন জীবনের পাথেয় করে নিয়েছেন ডেভিড। 

স্মরণীয় এই বিয়ের ছবিগুলো তাদের বন্ধু ক্রিস্টিনা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন সম্প্রতি।



মন্তব্য