kalerkantho


ভুয়া ছবি নির্ণয়ের কোনো উপায় আছে কি?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:৪৪



ভুয়া ছবি নির্ণয়ের কোনো উপায় আছে কি?

ছবি অনলাইন

ভুয়া ছবি নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। কিন্তু এখনও ভুয়া ছবি ছড়াচ্ছে অনলাইনে। তবে শুধু অনলাইনেই নয়, ইন্টারনেট আবিষ্কারের বহু আগেই ভুয়া ছবির প্রচলন। কিন্তু কোনো উপায় কি আছে, যার সাহায্যে ভুয়া ছবি নির্ণয় করা যায়?

সম্প্রতি বিবিসি প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি ছবি, যেখানে ছবিগুলোতে পরিবর্তন করা হয়েছে। আর এসব ছবি নির্ণয় করাও মোটেই সহজ নয়।

ওপরের ছবিটি তেমনই একটি পরিবর্তিত ছবি। এতে একজন মানুষ অন্যজনের হাতে কিছু একটা দিচ্ছে। কিন্তু এ ছবিতেই উঠে এসেছে এমন কিছু বিষয়, যা অনেকেই ভাবতে পারবেন না।

অনেকেই দেখে হয়তো বুঝতে পারবেন না যে, ছবিটির দুজন মানুষের মধ্যে একজন এখানে ছিলেনই না। পরবর্তীতে ছবিতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ছবির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা ছবিগুলো সঠিক কি না, তা পরীক্ষা করেন একটু ভিন্নভাবে। যেমন প্রতিটি বস্তুর ছায়া পরীক্ষা করা হয়। অর্থাৎ অন্য কোনো জায়গা থেকে ছবি এনে বসিয়ে দিলে তার ছায়া আগের মতো করা যায় না। এ জন্য ছবির সঙ্গে ছায়ার লম্বা একাধিক রেখা টেনে দেখা হয়।

এ ছাড়া ছবিতে থাকা ব্যক্তির চোখে আলোর প্রতিফলন, মানুষের কানসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে আলোর প্রভাব ইত্যাদিও দেখা হয়।

টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবিকে ভুয়া বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উল্টো করে টেলিফোন ধরে থাকার একটি ছবি অনলাইনে ২০০৮ সালে বেশ ছড়ায়। তবে সেই ছবিটিও পরে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে হ্যারিকেন স্যান্ডি আঘাত হানার একটি ভুয়া ছবি অনলাইনে বেশ সাড়া ফেলে।

তবে শুধু আধুনিক সময়েই যে ভুয়া ছবি প্রকাশিত হচ্ছে তা নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের একটি ছবি বেশ পরিচিত। বিখ্যাত সেই ছবিটি বাস্তবে লিংকনের নয়। অন্য একজনের শরীরে প্রেসিডেন্ট লিংকনের মাথা বসিয়ে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

এমনকি বিভিন্ন দেশের সরকারের পক্ষ থেকেও ভুয়া কিংবা কৌশলে পরিবর্তিত ছবি ব্যবহৃত হয়। যেমন ২০০৮ সালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয় এক ছবিতে। তাতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সঠিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে না পারায় সেটিকে ছবি থেকে মুছে ফেলা হয় এবং আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।
সূত্র : বিবিসি


মন্তব্য