kalerkantho


বিজয় দিবসে পুলিশের এক কর্মকর্তার মহানুভবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫৯



বিজয় দিবসে পুলিশের এক কর্মকর্তার মহানুভবতা

এই শীতে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে বিজয় দিবসকে হতদরিদ্রদের কাছে সত্যিকার অর্থেই উৎসবমুখর করে দিলেন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক শেখ নাজমুল আলম

পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক শেখ নাজমুল আলমের সৌজন্যে ঢাকা জেলা এবং মানিকগঞ্জ জেলার কয়েকশ পরিবার অন্যরকমভাবে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের সুযোগ পেলেন। ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বামরাবণ আদর্শ গ্রাম, মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের মোকদমপাড়া, মোকদমপাড়া আদর্শ গ্রাম, বাছট এবং বৈলতলা গ্রামের দূস্থদের মাঝে উন্নতমানের শীতের কম্বল উপহার হিসেবে পাঠান তিনি। অসহায় মানুষগুলো কনকনে শীতে রাতে ভালোভাবে ঘুমাতেই পারতেন না। 

তীব্র অভাবের কারণে অতি দরিদ্র মানুষগুলো তাদের পরিবারের শিশুদের জন্যে লেপের ব্যবস্থা করতে পারে না। নিদারুণ কষ্টে শিশুদের শীত কাটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাছট বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা জয়নাল আবেদীন। একথা শুনে মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ্ মিজানের কাছে কয়েকশ উন্নতমানের শীতের কম্বল এলাকাবাসীর জন্য বিজয় দিবসের উপহার হিসাবে পাঠান শেখ নাজমুল আলম। 

আজ শনিবার বাছট বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং বাছট বৈলতলা পল্লী মঙ্গল সমিতির যৌথ উদ্যোগে বাছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং দরিদ্রদের মাঝে উপহার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু, অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আলহাজ মোশারফ হোসেন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ছাত্র-যুবক, কিশোর-কিশোরী, শিশু-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। 

একটি কম্বল পেয়েই রামরাবণ আদর্শ গ্রামের বিধবা কামিনী রায় চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে। বলেন, তীব্র শীতে নদীর পাশে কাঁচা ঘরে রাতে ঘুমাতে না পেরে রাত জেগে বসে থাকতে হত। সকালের রোদের আশায়। কিন্তু রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় দিনে মাটিকাটার কাজ করতে যেয়ে শরীর খুব দুর্বল লাগতো। এলাকার অনেক ধনী লোকের কাছে একটা পুরাতন, ছেড়া শীতের লেপ চেয়েও পাইনি। তাই আজ নতুন কম্বলটি পেয়ে আনন্দে কাঁদছি। 

বৈলতলা গ্রামের জালাল মিয়ার স্ত্রী বিমলা বেগম নতুন কম্বল পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমার স্বামী অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না। তাই শীতে অনেক কষ্ট হলেও টাকার অভাবে কম্বল কিনতে পারি নাই। ফলে আমার আড়াই বছর বয়সের ছোট বাচ্চাটার রাতে শীতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। আজকে কম্বলটি পেয়ে বহুদিনের কষ্ট দূর হলো। 

পবিত্র কোরআন এবং গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে শিশুদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ছাত্রযুবকদের অংশগ্রহণে ভলিবল খেলা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।


মন্তব্য