kalerkantho


প্রেম নিবেদন, নাকি যৌন নিপীড়ন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:১৮



প্রেম নিবেদন, নাকি যৌন নিপীড়ন?

নারীদের যৌন হেনস্তার বিষয়ে অহরহ খবর আসে পত্রিকা-টেলিভিশনে। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এই অপরাধপ্রবণতা। সমাধানে বহু আলোচনা হয়েছে। মানুষকে সচেতন হতে কত কিছুই না করা হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটে, কর্মক্ষেত্রে তো বটেই, এমনকি বাড়িতেও যৌন নিপীড়ন প্রায়ই ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দেয়। এটা ভয়ানক অপরাধ। বেশির ভাগ অপরাধীই শাস্তি পায় না। ফলে তারা আবারো একই কর্মে জড়িয়ে পড়ে নির্দ্বিধায়। আসলে নারী-পুরুষের ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্কের অনুভূতিগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে এই নিপীড়নের কারণে। 

নিখাদ ভালোলাগা থেকে কোনো মেয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা বা বলা যায় প্রেম নিবেদনের বিষয়টি কিন্তু ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়। পরস্পরের প্রতি উভয়ের ভালোলাগা কাজ করলে পরিণতি হয়তো ভালোবাসা। পাশের বাড়ির মেয়েটি থেকে শুরু করে অফিসের কোনো সহকর্মীর সঙ্গেও এ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রেম নিবেদনের আচরণ বা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যৌন হেনস্তার বিস্তর ফারাক রয়েছে। এ দুটো এক জিনিস নয়। যৌন নির্যাতনের সংজ্ঞা বা কোন ধরনের আচরণ ও কর্ম এর অন্তর্ভুক্ত হবে তা পরিষ্কার করে আইন। কোনো নারীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক প্রেম নিবেদনের আচরণ নির্যাতনের পর্যায়ে পড়তে পারে। তাই কোনো অপরাধী ভালোবাসাপূর্ণ আচরণের দোহাই দিয়ে নিপীড়নমূলক আচরণের অভিযোগ থেকে বাঁচতে পারবে না। আর সে কথাটিই বলতে চান অভিনেত্রী এবং কমেডিয়ান কেট উইলেট। তিনি প্রেম নিবেদন এবং যৌন নিগ্রহমূলক আচরণের পার্থক্য স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তার এক ফেসবুক পোস্টে। 

তিনি লিখেছেন যে, তিনি নিজেও কোনো পুরুষের কাছ থেকে ভালোবাসার নিবেদন পেতে ইচ্ছুক। এটা যেকোনো মেয়ের কাছেই আকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু নিপীড়নমূলক আচরণ কখনোই কাম্য নয়। এ দুটো জিনিস এক নয়। মন থেকে ভালোবাসা নিয়ে তা জানানোর কাজটি আবেগপূর্ণ হয়ে এবং তা মানুষের সহানুভূতি কাড়ে। এটা মনোবাসনা পূরণের আবেদন। দুজনের মধ্যে সুখকর আবেগের স্ফূরণ ঘটে এতে। কিন্তু যৌন নিপীড়ন হলো জবরদস্তি। ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজের চাহিদা চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়। আর কোনো পুরুষের এমন আচরণে পৃথিবীর যেকোনো নারীর হৃদয় ভেঙে যায়। 

আর এভাবে নিপীড়ন চালিয়ে কোনো নারীর মন পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে তার পোস্টে সহমত পোষণ করেছেন অনেকে। এমন একটা পোস্টের জন্যে অনেকেই তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিশোর বয়সী ছেলেরাও লিখেছে যে, এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা জীবনের পরবর্তী ধাপ পার করবে। 
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 



মন্তব্য