kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ

'আর দাবায়া রাখতে পারবা না'

সেলিনা হোসেন    

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৯:০২



'আর দাবায়া রাখতে পারবা না'

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর প্যারিসের ইউনেসকো সদর দপ্তরে মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ঘোষণা দিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ। ইউনেসকো জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা।

এই স্বীকৃতি ইতিহাসের বড় সময় ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বলতেই হবে, বাঙালি-বাংলাদেশের ইতিহাস এই ৭ই মার্চের ইতিহাস। ইউনেসকোর মাধ্যমে বাঙালির অর্জন বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য। যে ঐতিহ্য মানবজাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। অনুপ্রেরণা প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের ভেতর দিয়ে মানুষের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করে।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসাধারণ ভাষণে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন একটি অলৌকিক বাক্য। তিনি তর্জনী তুলে পরিষ্কার বলেছিলেন, ‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না। ’ বাক্যটি ভেবে দেখতে হবে। তিনি যদি প্রমিত বাংলা ব্যবহার করতেন তাহলে বলতেন, ‘আর দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

’ তিনি প্রমিত বাংলা ব্যবহার করেননি। আঞ্চলিক শব্দসহযোগে আঞ্চলিক ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে বাঙালি জাতিসত্তার হৃদয়ের এই বিশাল দরজা খুলে দিয়েছেন, যে দরজাপথে বেরিয়ে এসেছে বাঙালি চরিত্রের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য।
এই ছোট্ট বাক্যটি সেতুবন্ধ গড়ে তুলেছে এস ওয়াজেদ আলীর একটি দীর্ঘ বাক্যের সঙ্গে, যেখানে তিনি বলেছেন, ‘বাঙালি এখন সেই মহামানবের প্রতীক্ষায় আছে। যিনি তাঁকে এই গৌরবময় জীবনের সন্ধান দেবেন—ভগীরথের মতো এই বাংলায় ভাবগঙ্গার সঙ্গম সুস্পষ্ট করে তুলবেন। ’ পার্থক্য এই যে তাঁকে দীর্ঘ অর্থবহ বাক্য রচনা করতে হয়নি, তিনি রচনা করেছেন ছোট অথচ তীক্ষ, অপ্রমিত অথচ গভীর অর্থবহ বাক্য। একজন প্রাজ্ঞ সাহিত্যে, আর একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিতে। দুজনেরই অঙ্গীকার জাতির কাছে, জীবনের কাছে। দুজনেরই যাত্রা অসীম জীবনের সন্ধানে। কেউ কাউকে দেখেননি, অথচ একজন অন্যজনের পরিপূরক হয়ে উঠেছিলেন। দুজনের অজান্তে রচিত হয়েছিল ইতিহাসের অলিখিত সত্য। একজন সাহিত্যের ভেতর দিয়ে রাজনীতির কথা বলেছেন, অন্যজন রাজনীতির ভেতর দিয়ে সাহিত্যের কথা বলেছেন। দুটিই জীবনসম্পৃক্ত, মানুষসম্পৃক্ত।

৭ই মার্চের ভাষণ আমি শুনেছিলাম মঞ্চের নিচে বসে, যেখানে মেয়েদের বসার জায়গা করা হয়েছিল। আমি মনে করি, এটা আমার জীবনে একটি পরম সৌভাগ্যের দিন ছিল এবং আমি এই ভাষণ শুনতে পেরেছি—এটা আমার আজীবনের স্মরণীয় স্মৃতি। এলিফ্যান্ট রোডে থাকতাম। আমি রেসকোর্সে আসার চিন্তা যখন করছি, তখন প্রবল জনস্রোত। আমি ভাবতেই পারিনি, রিকশায় উঠে রেসকোর্সে যাব। সেই জনস্রোতে মিশে আমি কিভাবে হাঁটতে হাঁটতে রেসকোর্সের মাঠে এসে পৌঁছে গেলাম, সেটা এখনো আমার কাছে বিস্ময় যে আমি হাঁটতে ভয় পাই। তো সেদিন সে ভাষণটা শুনে আমি যেভাবে অনুপ্রাণিত এবং অভিভূত হয়েছিলাম, সেটি আজ এত বছর পরেও আমাকে অনুপ্রাণিত ও অভিভূত করে রাখে। আমি যখন বাক্যগুলোর মধ্য দিয়ে যাই, দেখতে পাই, ১০৭টি বাক্য আছে। প্রতিটি বাক্যই আমার মনে হয়, বিশ্লেষণের অপেক্ষা রাখে। ‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না’ বাক্যটি যখন পড়ি, আমার কাছে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় এবং পরবর্তীকালে মনে হয় যে এই বাক্যটি দেশের সীমানা অতিক্রম করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়।

এই বাক্যটির মধ্যে আঞ্চলিক শব্দ এবং আঞ্চলিক ক্রিয়াপদ ব্যবহার করে একটি জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের ভাষা যে কত তীব্র হতে পারে, তা প্রমাণিত হয়। ‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না’, এ প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের ভেতরে বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছেন, ২৩ বছরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস—তিনি নারীদের বিচ্ছিন্ন করে দেখেননি। এ জনগোষ্ঠী বাঙালি, সেখানে নারী, পুরুষ, শিশু, যুবা—সবাই এক হয়েছিল। তবু একটি জনযুদ্ধ, যেখানে পুরুষরা যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে, সেখানে নারীরা তার পশ্চাদ্ভূমিতে কাজ করে। তার সেই যুদ্ধক্ষেত্রে যে গতি থাকে, পশ্চাদ্ভূমিকে তারা গতিশীল করে রাখে।

কর্নেল তাহেরের মাকে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা জননী। জাহানারা ইমামকে বলা হয়ে শহীদ জননী। কেন? কর্নেল তাহেরের মা তাঁর ৯টি সন্তান যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। জাহানারা ইমাম তাঁর সন্তানকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরাও চুপ করে বসে থাকেননি। তাঁরা নেপথ্যে কাজ করেছেন। তাঁরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার দিয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন, সেবা দিয়েছেন, শুশ্রূষা দিয়েছেন। তাহলে তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা নয় কেন? এইখানেই আমি প্রতিধ্বনি করতে চাই যে তাঁদের আর দাবায়া রাখতে পারবা না। আমাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চৈতন্যের ভেতরে এই শব্দটি এভাবেই প্রোথিত হয়ে যায়। একজন নারী হিসেবে যখন একজন মা প্রতিবাদ করে যে আর দাবায়া রাখতে পারবা না, তখন বুঝতে হবে—সাংস্কৃতিকভাবে, সামাজিকভাবে, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁকে খাটো করে দেখা যাবে না। আমাদের সেই জননীও মুক্তিযোদ্ধা, যিনি ‘দাবায়া রাখতে পারবা না’ শীর্ষক সেই অমিত বাণীটি নিজের মধ্যে ধারণ করে নিজের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠিয়েছেন। নিজের জনগোষ্ঠীর আরো কাউকে কাউকে, প্রতিবেশীকে, অন্যদের তাঁরা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন।

আমি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসটি যখন লিখি, তখন একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখি। যশোরের কালীগঞ্জের একটি গ্রামের ঘটনা। একজন সাংবাদিক যুদ্ধের পরপরই সেটি আমাকে বলেছিলেন। একজন মা, যশোরের একজন মা দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য পঙ্গু বোবা সন্তানটি মিলিটারির হাতে তুলে দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সেই রাইফেলটি হাতে ধরিয়ে দিয়ে। এই হলো বাংলার নারীসমাজের চিত্র। একজন সুফিয়া কামাল যেমন করেছেন, তেমনি একজন স্বল্পশিক্ষিত গ্রামের মেয়ে তারামন বিবি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ সেভাবেই করেছেন। এ সবটাই একটা ভাষণের অনুপ্রেরণা থেকে এসেছে। একটি জনজীবন সে ভাষণটিকে কিভাবে ধারণ করেছে, শুধু বাংলার নারীসমাজের দিকে তাকালে এ উপলব্ধি সবার হবে। কাঁকন বিবির কথা বলা যায়, যিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে রসদও সরবরাহ করেছেন, অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। আবার পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে থেকেছেন। তাঁর কোনো প্রাথমিক শিক্ষা ছিল না। তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ছিল না। তাঁর সেই প্রজ্ঞা, মেধা, মনন ছিল না; কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাষায় দেওয়া বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ তাঁদের করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই অমিত ডাক শুনে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এই ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছে। এই ভাষণ কী করে দেশের সীমানা অতিক্রম করল? এটা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথা। তিনি বলেছেন যে বিদেশে কোনো একটি জায়গায় একজন কাশ্মীরের গেরিলা যোদ্ধার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। নানা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে এভাবে কি আপনারা অন্যের দেশের ওপর নির্ভর করে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারবেন? সেই গেরিলা যোদ্ধা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বলেছিলেন, Are you from Bangladesh?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ উন্নয়নশীল বিশ্বের ছোট ছোট দেশের জনগণের কাছে এভাবেই পৌঁছে গেছে। এই পৌঁছে যাওয়া শুধু একটি ঘটনা নয়। এর পেছনে আছে হাজার বছরের একজন মানুষের অভিজ্ঞান নিয়ে হাজার বছরের ইতিহাস নিজের মধ্যে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া। সেই দিন, ৭ই মার্চের সেই মিছিলে নারীদের হাতেও বাঁশের লাঠি ছিল। এটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তার আগে নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেনিং নেওয়া শুরু করেছিল। সেই ভাষণটি তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছিল, অবরুদ্ধ ঢাকা শহরে থেকে তাঁরা কাজ করেছেন। যেখানে সুযোগ ছিল, সেখানে হসপিটালে কাজ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়েছেন। যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানে অস্ত্র ধরে রণক্ষেত্রে গিয়েছেন। এ সব কিছুই সত্য। এ সত্যের অন্তরালে এ ভাষণ আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নে ছিল।

৭ই মার্চের ভাষণে সেদিন বঙ্গবন্ধু সেই বাক্যটির পর বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ’ লক্ষণীয় বিষয় এই যে এই বাক্য তিনি প্রমিত বাংলায় বলেছেন। এখানেও এস ওয়াজেদ আলির আর একটি বাক্যের সঙ্গে সংযোগ-সেতু রচিত হয়। যেখানে তিনি বলেছেন, ‘এখন বাঙালি কেবল ভারতবর্ষের নয়, কেবল প্রাচ্য ভূখণ্ডের নয়, সমগ্র বিশ্ববাসীর পথপ্রদর্শক হবে—সত্য, সুন্দর, শুভ জীবন-পথের। ’ কী আশ্চর্যভাবে তিনি জাতির পটভূমি থেকে আন্তর্জাতিক মাত্রায় উন্নীত করেছেন— মুক্তির সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার সংগ্রাম প্রতিটি দেশের জন্য সর্বজনীন সত্য। মুক্তির সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম এককভাবে হয় না, এর জন্য প্রয়োজন হয় আন্তর্জাতিক সমর্থন, সাহায্য ও সহযোগিতা। তাই বাক্যটি উচ্চারিত হয় প্রমিত বাংলায়। বাঙালি জাতিসত্তার ঊর্ধ্বে পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে মেলবন্ধনের প্রত্যাশায়। স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভগীরথের মতো এই বাংলায় ভাবগঙ্গার সঙ্গম। সেদিনের বক্তৃতায় তাঁর উত্থিত সেই অমিতবিক্রম তর্জনীর সঙ্গে কণ্ঠস্বর যখন একই সমান্তরালে পৌঁছে যায়, তখনই বাঙালির অভিনব জীবন আস্বাদের স্পৃহা প্রবল হয়ে ওঠে।

‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না’—এই পঙিক্তটির চিত্রকল্প কল্পনা করলে কেমন দাঁড়াবে? ধরে নেওয়া যায়, মুখ থুবড়ে পড়ে আছে একটি জনগোষ্ঠী। তার ঘাড়ের ওপর শোষকের পা নিংড়ে নিতে চায় তার জীবনের নির্যাস। কিন্তু কত দিন পা দাবিয়ে রাখবে? একে-দুয়ে মাথা ওঠাতে থাকে। সেই পা অস্বীকার করে উঁচু হয়ে উঠতে চায় মাথা। ঘাড় উঁচু করে তাকাতে শুরু করে আকাশের দিকে। শাসকের দুই পা দুই হাতে ধরে টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। ভেবে নেওয়া যায় যে এমন অজস্র উঁচু হয়ে ওঠা মাথার চিত্রকল্প নিয়েই রচিত হয়েছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বল বীর চির উন্নত মম শির’। এই কথা মনে রেখেই ভারতের উর্দু ভাষার বিখ্যাত কবি কাইফি আজমী মুক্তিযুদ্ধের সময় লিখেছিলেন ‘বাংলাদেশ’ শীর্ষক কবিতা :

‘শুধু তো একটি দেশ নই যে জ্বালিয়ে দেবে

প্রাচীর নই যে তা পুরোপুরি মুছে ফেলবে

...........................

কতই না নির্বোধ তুমি

খয়রাতে পাওয়া ট্যাংক নিয়ে আমার দিকে ধেয়ে আসছ

রাত দিন নাপাম বোমার বৃষ্টি বর্ষাচ্ছ

ক্লান্ত হয়ে পড়বে দেখো

শৃঙ্খল পরাবে তুমি কোন হাতে

হাত তো আমার আছে সাত কোটি

গর্দান থেকে কোন মাথাটি তুমি আলাদা করবে

সেখানে তো মাথা আছে সাত কোটি। ’

(মূল উর্দু থেকে অনুবাদ করেছেন শফিকুল আজিজ মুকুল। কাইফি আজমীর নির্বাচিত কবিতা সম্পাদনা করেছেন জাফর আলম)।

কী আশ্চর্য মেলবন্ধন! এভাবেই বুঝি কবিতার ভাষার সঙ্গে রাজনীতি এক হয়। মুখোমুখি দাঁড়ায় কবি ও রাজনীতিবিদ। ‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না’ পঙিক্তটি একটি কালজয়ী পঙিক্ত।

ইতিহাসে তিনিই অমর, যিনি সমগ্র জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে পারেন—ইতিহাস তাঁরই পক্ষে, যিনি সময়ের বিচারে নিজেকে যোগ্য বলে প্রমাণ করতে পারেন। এ সংজ্ঞায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসের সেই মহামানব, সময় যাঁকে সৃষ্টি করেনি, যিনি সময়কে নিজের করতলে নিয়ে এসেছেন। যিনি কঠোর স্বরে নিজস্ব ভঙ্গিতে উচ্চারণ করেছিলেন সব কালের উপযোগী এবং সব দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি অমর পঙিক্ত—‘আর দাবায়া রাখতে পারবা না।’

তিনি একই সঙ্গে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন আরেকটি অমর পঙিক্ত উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। ’ সর্বকালের জন্য এই উক্তি মানুষের অধিকারের প্রত্যয়। অবিনাশী উক্তিটি বিশ্বজুড়ে সব দেশের জন্য প্রযোজ্য। ইউনেসকোর এই স্বীকৃতি পৃথিবীর মানুষের জন্য। বাংলাদেশের জাতির পিতার এই বার্তা ইউনেসকো পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের মানুষের কাছে।



মন্তব্য