kalerkantho


এক সন্তান নীতির জন্য হারানো কন্যা ২০ বছর পর দেখল বাবা-মাকে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:২৭



এক সন্তান নীতির জন্য হারানো কন্যা ২০ বছর পর দেখল বাবা-মাকে!

চীনের একসন্তান নীতির জন্য বদলে গিয়েছে দু দশক আগে জন্মানো কেটির জীবন। বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান হওয়ায় জন্মের তিনদিনের মধ্যে তাকে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছিল তাঁর বাবা মা। বিশ বছর পরে সেই সন্তানের দেখা পেল তার মা-বাবা।

দু দশক আগে একেবারে ভোরের আলো ফোটার আগে কেটির জন্মদাতা বাবা তিনদিনের শিশুটিকে একটা কম্বলে মুড়িয়ে ফেলে রেখে এসেছিলেন স্থানীয় বাজারে। ফেলার আগে কিছুক্ষণ জড়িয়ে রেখেছিলেন তিনি তারপর কপালে আলতো চুমু দিয়েছিলেন। আর রেখে গিয়েছিলেন একটি চিঠি। যে চিঠিতে লেখা ছিল ১০ অথবা ২০ বছর পরে ফের তাদের যেন দেখা হয় চীনের বিখ্যাত এক ব্রিজের উপর।

কেটির বাবা জানিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় প্রথমে তাঁরা গর্ভপাতের কথাই ভেবেছিলেন কারণ তখন চীনে চলছে এক সন্তান নীতি। এদিকে কেটির জন্মের আগেই তাঁদের আরেকটি কন্যা সন্তান হয়েছিল। কিন্তু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার সময়ে মায়ের পেটের মধ্যে সন্তানের নড়াচড়া টের পেয়ে কেটির বাবা-মা সিদ্ধান্ত বদল করে ঠিক করে আর গর্ভপাত করা হবে না।

ফলে পাছে জানাজানি হয় তারা পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে থাকে। এমনকি সন্তান প্রসবের সময় কোনো চিকিৎসকের সাহায্য পায়নি তারা। সেই সময় কেটির বাবা-মা আশা করেছিলেন কারও কাছে এই সন্তানকে রাখতে পারবেন কিন্তু তেমন লোকের সন্ধান পাননি। ফলে অমন ভাবে ফেলে রেখে আসতে হয়।

অবশেষে ১৯৯৬ সাল মার্কিন এক দম্পতি কেটিকে দত্তক নেন। তাঁরা কেটির জন্মদাতা বাবা মাকে জানিয়েছিলেন মেয়ে ভাল আছেন এবং তারা তাঁকে খুব ভালোবাসে। কেটির বয়স যখন ১০ তখন তার আমেরিকান বাবা তার চীনা বাবাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন ঐ ব্রিজের উপর আসবেন বলে। সেজন্য কেটির জন্মদাতা মা-বাবা সেই ব্রিজের কাছে গিয়েছিলেন কিন্তু সেদিন তারা বহুক্ষণ অপেক্ষার পর হতাশ হয়েছিলেন। কারণ হারানো সন্তানের দেখা পাননি।

জন্মদাতা বাবা জানিয়েছিলেন, যারা দত্তক নিয়েছেন তারা হয়ত দুই, পাঁচ বছরে দেখা করা সম্ভব নয় ফলে বেশি সময়ের কথা বলেছিলেন। কিন্তু ১০ বছরেও তাদের হতাশ হতে হল।

তাদের এই হতাশার কখা জানাজানি হতে চিনের সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়। ফলে কেটির বাব-মার সন্তান হারনোর কাহিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও স্থান পেয়ে যায়। আমেরিকায় বসে কেটি তার দত্তক বাবা-মার কথা জানতে পারেন। ইতিমধ্যে কেটির বয়স ২০ বছর হয়েছে।

তারা কেটিকেও কেমন করে দত্তক নিলেন সেই সব কথা জানালেন। তারপর দত্তক বাবা-মা কেটি নিয়ে রওনা দিলেন জন্মদাতা বাবা-মার সঙ্গে দেখা করতে।

কেটি জানিয়েছেন, যখন সে তাঁর জন্মদাতা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা হল তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। বার বার বাবা-মা তার কাছে ক্ষমা চাইছিলেন যদিও সে মনে করে না ক্ষমা চাওয়ার মতো কিছু ঘটেছে। সেও অনুভব করে এই বাবা-মা আসলে পরিস্থিতির শিকার। এরপর কেটি কয়েকদিন তার জন্মদাতা বাবা মায়ের সঙ্গে কাটিয়ে ফের ফিরে যান দত্তক বাবা মায়ের কাছে। তবে হঠাৎ পাল্টে দেওয়া ঘটনা তাকে ভীষণ ভাবে আলোড়িত করেছে।


মন্তব্য