kalerkantho


‘সব অশুভ’-র উৎস কী ব্যাখ্যা করলেন নোবেলজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী

‘একটি মাত্র সত্যে বিশ্বাস এবং তার অধীনতা সব অশুভ-র উৎস’!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:১৩



‘একটি মাত্র সত্যে বিশ্বাস এবং তার অধীনতা সব অশুভ-র উৎস’!

গুগল আজ নোবেলজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী ম্যাক্স বর্ন এর কর্মকে উদযাপন করছে। যার গবেষণা কর্ম আমার আজ যেভাবে জীবন যাপন করি তাকে বদলে দিয়েছিল। কিন্তু তিনি লোককে কীভাবে জীবন যাপন করা উচিত সে ব্যাপারেও পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ম্যাক্স বর্ন এর বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মের  বেশিরভাগই খুব জটিল। তিনি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর এমন সব বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন যেগুলো এখনো রহস্যময় এবং অজানা রয়ে গেছে। তিনি বিজ্ঞানের এমন  কিছু শাখার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন যেগুলো আজও বেশ কঠিন রয়ে গেছে। এমনকি যে বিজ্ঞানীরা এসব নিয়ে কাজ করছেনে তাদের জন্যও এসবের বুঝ এখনো বেশ কঠিনই রয়ে গেছে।

কিন্তু তিনি সাধারণভাবে দৈনন্দিন জীবন-যাপনের ব্যাপারেও রহস্যময় এবং অনিশ্চয়তামূলক ধারণা পোষণ করতেন। অন্যদেরকেও তিনি তার মতোই দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করতে বলেন। এবং এতে সকলের উপকারই হবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, কেউ যদি বিশ্বাস করেন তিনি নিজে সবকিছুই জানেন তাহলে সেই বিশ্বাস অবিশ্বাস্যরকমভাবে বিপজ্জনক হবে।

অশুভ কী জিনিস তা জানতেন বিজ্ঞানী ম্যাক্স বর্ন। আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তাকে এবং তার পরিবারকেও নাৎসীদের তাড়া খেয়ে জার্মানি থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছিল ১৯৩৩ সালে। এরপর  তিনি ব্রিটেনের ক্যামব্রিজ, এডিনবার্গ এবং ভারতের ব্যাঙ্গোলোরে বসবাস করেছেন। অবসরের পর তিনি জার্মানি ফিরে যাবেন।

তার মতে সকল অশুভের উৎস হলো একটি মাত্র বিশ্বাস। যে বিশ্বাস মনে করে দুনিয়াতে চুড়ান্ত সত্য বা চুড়ান্ত নিশ্চয়তা বলে কিছু একটা আছে। অথচ বাস্তবে এমনটা কখনো সম্ভব নয়। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তার সকল বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্ম এবং নৈতিক চিন্তা-ভাবনায়ও প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি পরম সত্য, পরম নির্ভুলতা, চুড়ান্ত সত্য, ইত্যাদি মূলত কল্পনায় সৃষ্ট ধারণা। এসব ধারণা কখনোই বিজ্ঞানের কোনো শাখায়ই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত না।’

‘অন্যদিকে যে কোনো সম্ভাব্যতার দাবি সেটি যে তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে সেই দৃষ্টিকোন থেকে হয় ঠিক আর নয়তো ভুল।’

‘চিন্তার এই শিথিলতা বা বন্ধনমুক্ততাই আমার কাছে মনে হয়, আমাদের জন্য আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ ও অবদান। আর এ কারণেই একটি মাত্র সত্যে বিশ্বাস এবং তার মালিকানাধীনে থাকাটাকেই বিশ্বের সব অশুভ এর উৎস বলে মনে করি আমি।’

এই একই দৃষ্টিভঙ্গি তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মেও প্রতিফলিত হতে দেখা গেছে। তার বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্ম যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তাতেও তার এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, কোয়ান্টাম মেকানিক্স-এ মৌলিক গবেষণা, এবং ওয়েভ ফাংশনের পরিসংখ্যানগত ব্যাখ্যামূলক কর্মের জন্য।

তার ওই কর্ম বিজ্ঞানে পরিচিত ‘বর্ন রুল’ নামে। তার দার্শনিক বিশ্বাসের মতোই তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা কর্মেও প্রস্তাব রাখা হয়েছে যে, কোয়ান্টাম মেকানিক্স-এরও উচিত হবে না ওয়েভ পার্টিকেলগুলোর একেবারে নির্ভুল পরিমাপ করার চেষ্টা করা। তারচেয়ে বরং তারা সম্ভাব্যতার উচ্চ জটিল পরিমাপ ব্যবহার করছে কিনা সেটার হিসাব করাটাই হবে সঠিক কাজ। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির উৎপত্তি হয়েছে মূলত এই স্বীকৃতি থেকে যে, জগাখিচুড়ি বা বিশৃঙ্খলাই বিশ্বের প্রাকৃতিক বা স্বভাবগত অবস্থা বা দশা এবং এটাই সবচেয়ে ভালো দশা।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট



মন্তব্য